News Narayanganj
Bongosoft Ltd.
ঢাকা মঙ্গলবার, ০৬ ডিসেম্বর, ২০২২, ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৯

বারদী আশ্রমে রাখের উপবাস


দ্যা নিউজ নারায়ণগঞ্জ ডটকম | স্টাফ করেসপন্ডেন্ট প্রকাশিত: নভেম্বর ৮, ২০২২, ১১:০৬ পিএম বারদী আশ্রমে রাখের উপবাস

সকাল থেকেই সারি করে ইট বিছিয়ে রাখা হয়েছে লোকনাথ মন্দিরের আঙিনায় প্রত্যেক ভক্তের জন্য একটি ইট বরাদ্দ। আগে থেকেই নিয়ম করে দেওয়া হয়, যাতে প্রার্থনা প্রার্থীরা অগোছালোভাবে না বসে শৃঙ্খলার সঙ্গে বসতে পারে। দুপুরের পর থেকে শুরু হয় প্রার্থনার প্রস্তুতি আর পুণ্যার্থীদের আগমন। সারি করে রাখা ইটের সামনে পছন্দমতো জায়গায় কলা গাছের খোল বিছিয়ে নিজের জায়গা নিশ্চিত করেন পুণ্যার্থীরা। সূর্য যত পশ্চিমে হেলে যেতে থাকে, ততই বাড়তে থাকে সোনারগাঁওয়ের বারদী লোকনাথ আশ্রমের ভিড়।

কলাপাতা, ফুল, ধান-দূর্বা, মাটির প্রদীপ, ঘি, ডাব, দুধ ও ধূপদানি ইত্যাদি নিয়ে বসে নারী-পুরুষ অংশগ্রহণ করেন। দুধ ঢেলে, আগরবাতি জ্বালিয়ে উৎসবের সূচনা করে। বাড়ি থেকে আনা ফলমূল কিছুক্ষণের জন্য রাখা হয় লোকনাথের প্রতিমূর্তির সামনে। তারপর সেগুলো নিয়ে উন্মুক্ত ময়দানে সারিবদ্ধভাবে বসে যান সবাই। সামনে কলাগাছের খোলের ওপর রাখা হয় ঘিয়ের প্রদীপ। ঘরের সদস্যদের বিপদ থেকে রক্ষার জন্য প্রার্থনা করা হয়, গুনে গুনে ঘরের সদস্য সংখ্যার পরিমাণ প্রদীপই রাখা হয়। আপনজনের কল্যাণ কামনা করে এই উপবাস করে লোকনাথ ভক্তরা। দুই-চার-দশ-বিশটা পর্যন্ত প্রদীপ দেখা যায়। চারপাশে সাজানো থাকে নানা রঙের কাটা ফল।

সূর্যাস্তের সঙ্গে সঙ্গে বেজে ওঠে ঘণ্টা। উলুধ্বনির মধ্য দিয়ে সবাই একযোগে জ্বালাতে শুরু করে প্রদীপ। একসঙ্গে জ্বলে ওঠে শত শত প্রদীপ। ওপর থেকে দেখা সেই দৃশ্য দেখতে স্বপ্নের মতো লাগে। একসময় বাজনা, উলুধ্বনি, ধূপ পোড়ানো ধোঁয়া সব মিলিয়ে আশ্রম এলাকায় এক পৌরাণিক মহাজাগতিক অবস্থা বিরাজ করে। মাটির ছোটো পাত্রে ঘি ও পাতলা সুতি কাচাড় দিয়ে বানানো সলতে জ্বালানোর পিদিম যতক্ষণ জ্বলবে ততক্ষণ ব্রতকার্য চলবে।

ঘি শেষ হতে রাত ৮টা পেরিয়ে যায়, একটা একটা করে প্রদীপ নিভে যায় আর সেই পিদিম পাত্রটা উপুড় করে রাখা হয়। সবগুলো প্রদীপ জ্বলে শেষ হলে সারাদিনের উপবাস ভাঙা হয়। শেষ হয় কার্তিক ব্রত বা রাখের উপবাসের সকল আনুষ্ঠানিকতা।

‘রাখের উপবাস’ নামে পরিচিত এই অনুষ্ঠানকে ‘কার্তিক ব্রত’ও বলা হয়। দেশের অন্যান্য লোকনাথ মন্দিরেও রাখের উপবাস পালিত হয়। লোকনাথ ভক্তরা সারাদিন উপবাস থেকে তাদের স্বজনদের জন্য বিশেষভাবে প্রার্থনা করেন। বারদী লোকনাথ আশ্রমে এ রাখের উপবাস পালন করার জন্য হাজার হাজার লোকনাথ ভক্তের সমাগম ঘটে বাংলা কার্তিক মাসের ১৫ থেকে ৩০ তারিখ পর্যন্ত প্রতি শনি ও মঙ্গলবার।

দেশ ও দেশের বাইরের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে বারদীতে লোকনাথ আশ্রমে রাখের উপবাস পালন করতে আসেন লোকনাথ ভক্তরা। মেলা বলতে প্রার্থনায় প্রয়োজনীয় মাটির ধূপধানি, পিদিম পট আর সঙ্গে আছে মাটির হাঁড়িকুড়ি। পাশে কয়েক সারি পেয়ারা, সন্দেশ, কালোজাম, মুরালি, খই, বালুশাইর দোকান। অস্থায়ীভাবে বসা দোকানগুলো ছেড়ে বাজারে প্রবেশ করলে চোখে পড়বে কিছু লোহালক্কড় ঘেরা দোকান। নিরবধি ডকডাক ডকডাক শব্দ হচ্ছে। এগুলো সরিষা মাড়াইয়ের কল। এখানে পাওয়া যাবে খাঁটি সরিষার তেল। যান্ত্রিক কলে ভাঙানো সরিষার তেল, দামও কিন্তু বেশি না একশ টাকা লিটার। বাজারের পেছনে গিয়ে তাকালে যত দূর চোখ যায় চিরহরিৎ সবুজ শ্যামলিমা।

নারায়ণগঞ্জের বারদীর লোকনাথ আশ্রমের মেলায় ঘটে গ্রাম্য লোকসমাবেশ। এই সমাবেশের প্রায় সবাই প্রার্থনার জন্য আসেন। দেশের তো বটেই বিদেশ থেকেও লোকনাথ ভক্তরা আসেন বাবদীতে, হাজারো ভক্তের আগমন ঘটে মেলায়। হাজারো ভক্তের উপলক্ষ্য করে পসারিরা বাহারি সব পণ্য নিয়ে হাজির হয় মেলায়। লোকনাথ ব্রহ্মচারী নিজে তৈরি করেছিলেন এই আশ্রম. তাই ভক্তকুলের আলাদা আকর্ষণ আছে এই স্থানের প্রতি।

Islams Group
Islam's Group