News Narayanganj
Bongosoft Ltd.
ঢাকা সোমবার, ৩০ জানুয়ারি, ২০২৩, ১৬ মাঘ ১৪২৯

প্যানেল মেয়রে থাবা


দ্যা নিউজ নারায়ণগঞ্জ ডটকম | স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট প্রকাশিত: ডিসেম্বর ৪, ২০২২, ১০:৩২ পিএম প্যানেল মেয়রে থাবা

নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের প্যানেল মেয়র ভোট হতে যাচ্ছে অচিরেই। এরই মধ্যে কেউ কেউ প্রকাশ্য ও কেউ কেউ গোপনে প্যানেল মেয়র হতে নানা ঘরে দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছেন। কেউ চাচ্ছেন মেয়র কেউ আবার এমপিদের আশীর্বাদ নিতে মরিয়া। ইতোমধ্যে প্যানেল মেয়র নির্বাচনে কাউকে সমর্থন দিচ্ছে না বলে জানিয়ে দিয়েছেন মেয়র ডা. আইভী। তিনি জেলা পরিষদের নির্বাচনে কাউন্সিলদের কাছ থেকে কাঙ্খিত ভোট না পাওয়ায় এমনতা সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে জানা গেছে।

দীর্ঘ ৯মাসের মাথায় অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের প্যানেল মেয়র নির্বাচন। নাসিকের একাধিক সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করলেও তারা জানিয়েছেন, ১২ডিসেম্বর মাসিক সভায় এই নির্বাচন হতে পারে।

গত ১৭ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হয় জেলা পরিষদের নির্বাচন। ১নং ওয়ার্ডে ১৫টি করে সমান ভোট পেলেও পরদিন লটারীতে জিতে গেছেন সিদ্ধিরগঞ্জ থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি মজিবুর রহমান। তার প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম। নির্বাচনে হাজী আলাউদ্দিন পেয়েছেন ৩ ভোট, সায়েম রেজা ১ ভোট। বাতিল হয়েছে আরো এক ভোট। আর ভোট দিতে আসেননি ২জন।

সব কিছু হিসেব করে, এই ৬টি ভোটকে কাজে লাগাতে চায় প্যানেল মেয়র প্রার্থীরা। কারণ হিসেবে, তারাই জানেন কে কারে ভোট দিয়েছেন।

মূলত ওই নির্বাচনের পরেই আইভী এখন আর প্যানেল মেয়র নিয়ে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। কারণ জেলা পরিষদের ১নং ওয়ার্ডটি ছিল মূলত সিটি করপোরেশন এলাকা কেন্দ্রীক। এস কারণে প্যানেল মেয়র নির্বাচনে এবারো আলোচনা রয়েছে ওসমান পন্থী কাউন্সিলদের নাম।

প্যানেল মেয়র-১ পদে আলোচনা ওঠে এসেছে সাবেক প্যানেল মেয়র-১ ও মহিলা কাউন্সিলর আফসানা আফরোজ বিভা হাসান, ১৭নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর আব্দুল করিম বাবু ও ৮নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর রুহুল আমিন প্রধান। প্যানেল মেয়র-২ আলোচনায় নাম পাওয়া গেছে ৩নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর শাহজালাল বাদল, ১৩নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মাকছুদুল আলম খন্দকার খোরশেদ।

প্যানেল মেয়র-৩ (নারী) আলোচনা রয়েছেন মহিলা কাউন্সিলর মিনোয়ারা বেগন মিনু, মাকসুদা মোজাফর, শারমিন হাবিবা বিন্নী,  শাওন অংকন।

এদের মধ্যে ওসমান পরিবারের সমর্থন রয়েছে, আব্দুল করিম বাবু, শাহ জালাল বাদল ও শারমিন হাবিবা বিন্নী। অপরদিকে এককভাবে আলোচনা রয়েছেন আফসানা আফরোজ বিভা হাসান ও মাকসুদা মোজাফর।

এবার নাসিক পর্ষদে অনেক নতুন কাউন্সিলর নির্বাচিত হয়েছেন। তাই এবার প্যানেল মেয়র নির্বাচন ঘিরে রয়েছে রহস্যময় আলোচনা। এর কারণ হিসেবে জেলা পরিষদের নির্বাচনে অনেক সহজ করে দিয়েছে মেয়র ও এমপিদের ভোটের হিসাব। মেয়র সহ ৩৭টি ভোট রয়েছে প্যানেল মেয়র নির্বাচনে। এর মধ্যে ১৫টি করে কাউন্সিলরের ভোট রয়েছে মেয়র ও এমপিদের। তার মধ্যে ২জন কাউন্সিলর ভোট কেন্দ্রে আসেনি, ১জন ইচ্ছাকৃত ভোট বাতিল করেছে এবং ১জন অন্য ভোট দিয়েছেন। বাকি তিনটি ভোট পড়েছিলো অন্য প্রার্থীর ব্যাংকে।

গত নির্বাচনে নারী কাউন্সিলর মিনোয়ারা বেগম মিনুর সাথে নারী কাউন্সিলর শারমিন হাবিব বিন্নীর ড্র হলে সরাসরি মেয়র আইভীর ভোটে জয়ী হয়েছিলেন মিনোয়ারা মিনু। এবার এই পদে প্রথম দিকে বন্দরের নারী কাউন্সিলর শাওন অঙ্কনের নাম শোনা যাচ্ছে।

গত ১৬ জানুয়ারী অনুষ্ঠিত হয় সিটি করপোরেশনের নির্বাচন। নাসিক মেয়র ডা. আইভী একাধিক সূত্রে জানা গেছে, তিনি বর্তমানে সিটি কর্পোরেশনকে রাজনীতিমুক্ত রাখতে চাচ্ছেন। উন্নয়নের মাধ্যমে আগামী দিনগুলো তিনি সিটি কর্পোরেশনের কাঙ্গিত সেবা দিতে চান। এতে কে বা কারা প্যানেল মেয়র নির্বাচিত হয়ে আসবে, এতে তিনি ড্যামকেয়ার।

আরো জানা যায়, জেলা পরিষদ নির্বাচন ঘিরে যে পরিস্থিতি হয়েছিল এতে তিনি হতাশ। ১নং ওয়ার্ডটি ছিলো সিটি কর্পোরেশনের অধীনে ৩৭টি ভোট। এখানে জেলা আওয়ামীলীগের তৎকালীন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম ও সিদ্ধিরগঞ্জ থানা আওয়ামীলীগের সভাপতি মজিবুর রহমান প্রার্থী হন। এতে জাহাঙ্গীর আলম ছিলেন নাসিক মেয়রের আস্থাভাজন প্রার্থী। সকল পরিস্থিতি মোকাবেলা করেও তারা দুইজনই ১৫টি করে ভোট পান। এতে মেয়র হিসেবে তিনি অনেকটা হতাশ হয়েছেন।

এর আগে ২০১৬ সালের ২২ ডিসেম্বর সিটি করপোরেশন নির্বাচনের পর ২০১৭ সালের ১১ সেপ্টেম্বর প্যানেল মেয়র নির্বাচিতন হয়। প্যানেল মেয়র -১ পদে তিনজন প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন। তাঁরা হলেন সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর আফরোজা হাসান বিভা, ১৩নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মাকছুদুল আলম খন্দকার খোরশেদ ও ১৭নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর আবদুল করিম বাবু। ভোটে বিভা ১৬ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। প্রতিদ্বন্দ্বী বাবু পেয়েছেন ১৩ ও খোরশেদ পেয়েছেন ৫ ভোট। একটি ভোট বাতিল হয়। প্যানেল মেয়র-২ পদে ৬নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মতিউর রহমান মতি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বীতায় নির্বাচিত হয়েছেন। অপরদিকে প্যানেল মেয়র-৩ পদে তিনজন প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন। তারা হলেন মিনোয়ারা বেগম মিনু, শারমিন হাবিব বিন্নী ও আয়েশা আক্তার দিনা। কাউন্সিলরদের ভোটে মিনু ও বিন্নী ১৩টি করে ভোট পান। একটি ভোট বাতিল হয়। আর দিনা পান ৮ভোট। পরে আইভী ভোট দিলে ১৪ ভোটে জয়ী হন মিনু।

এর আগে ২০১১ সালের ২৭ ডিসেম্বর প্যানেল মেয়র নির্বাচনে প্যানেল মেয়র-২ নির্বাচিত নজরুল ইসলাম সিটি করপোরেশন এর ২ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলার। তিনি পেয়েছেন ১৮ ভোট। তার প্রতিদ্বন্ধি অপর দুই কাউন্সিলার ১৮ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলার কামরুল হাসান মুন্না ৮ ভোট ও ২৪ নং ওয়ার্ডের আফজাল হোসেন পেয়েছিলেন ১০ ভোট।

Islams Group
Islam's Group