News Narayanganj
Bongosoft Ltd.
ঢাকা সোমবার, ৩০ জানুয়ারি, ২০২৩, ১৬ মাঘ ১৪২৯

পুলিশের কিছু করার নাই, আন্দোলন বেগমান হবে : রাজীব


দ্যা নিউজ নারায়ণগঞ্জ ডটকম | স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট প্রকাশিত: ডিসেম্বর ৪, ২০২২, ০৭:৩১ পিএম পুলিশের কিছু করার নাই, আন্দোলন বেগমান হবে : রাজীব

নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক মাসুকুল ইসলাম রাজীব বলেছেন, এটা তো দিবারাত্রির মতো স্পষ্ট। এই সরকার রাজনৈতিকভাবে যে দেউলিয়া হয়ে গেছে তা তাদের কর্মকা-ে প্রকাশ পেয়েছে। বিএনপি এতোগুলো যে বিভাগীয় সমাবেশ করলো সবগুলো শান্তিপূর্ণভাবে করেছে। ছাত্রদলের ছেলেরা এর আগে অনেক আন্দোলনে মশাল মিছিল করেছে। আজ পর্যন্ত দেখেছেন মাস্ক পড়ে কাউকে মশাল মিছিল করতে। গত ৩০ নভেম্বর যে মশাল মিছিলের কথা উল্লেখ করা হলো ওই মিছিলে দেখবেন সবাই মাস্ক পড়া। কেউ যেনো না চিনতে পারে তাই মাস্ক পড়ে মশাল মিছিল করেছে। আওয়ামী লীগের কাছ থেকে আমরা আরো পরিপক্ক কিছু আশা করে ছিলাম। তারা এখন ছেলেমানুষের মতো কাজ করছে। পুলিশকে বিতর্কিত করার জন্য এসব কাজ করছে। পুলিশ এমনিতেও বিতর্কিত হয়ে যায়। তারা বিদেশে থাকা নেতা আবার মৃত ব্যক্তিদের নামে মামলা দিয়ে নানা বিতর্কের জন্ম দেয়। পুলিশের উপর এখন মানুষের আস্থা একদম নি¤œস্তরে। আসলে পুলিশের তো কিছু করার নেই। সরকারের প্রেশারে পড়ে  এগুলো করতে হয়। পুলিশ মামলা দিয়ে আমাদের কিছুই করতে পারবে না। পুলিশ মামলা দিয়েছে সর্বোচ্চ ১ হাজার জনের বিরুদ্ধে। বিএনপির কি কর্মী সংখ্যা ১ হাজার মাত্র? যদি নারায়ণগঞ্জের প্রতি ওয়ার্ড থেকে ৫ জন করে বিএনপির মানুষ হয় তাও ২০ হাজার কর্মী হবে। নারায়ণগঞ্জ জেলা কারাগারে ধারণক্ষমতা সর্বোচ্চ ১ হাজার ৯০০ জনের মতো। পুলিশ এতো মামলা দিয়ে আমাদের কোথায় রাখবেন? তাদের উচিত ছিল আমাদের সমাবেশে এতো মানুষ দেখে তাদের এমন সমাবেশ করে আমাদের দেখিয়ে দেওয়া। কিন্তু তারা এগুলো না করে বিশৃঙ্খলা করে আমাদের নামে মিথ্যা মামলা দেওয়াচ্ছে। তবে গত ৩০ নভেম্বরের মশাল মিছিলের একটা ভালো দিক হচ্ছে আওয়ামী লীগের অবস্থা এতোই খারাপ হয়ে গেছে যে তাদের এখন তারেক রহমান, খালেদা জিয়ার নামে স্লোগান দিতে হয়। তারা রাজনৈতিকভাবে কতোটুকু দেউলিয়া হয়েছে ওনারা এখন আমাদের নেত্রী খালেদা জিয়া, তারেক রহমানের নামে স্লোগান দিচ্ছে। আওয়ামী লীগকে সেজন্য আমি সাধুবাদ জানাই।

সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে তিনি নিউজ নারায়ণগঞ্জকে এসব কথা বলেন।

প্রসঙ্গত দেশের প্রধান দুটি দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপির রাজনৈতিক অঙ্গনে নারায়ণগঞ্জের ইতিহাস বেশ সমৃদ্ধ। আওয়ামী লীগের জন্ম যেমন এই নারায়ণগঞ্জে ঠিক তেমনি বিএনপির সকল আন্দোলন সংগ্রামে রয়েছে নারায়ণগঞ্জের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। দেশের যেকোনো রাজনৈতিক ইস্যুতে নারায়ণগঞ্জ জেলা থেকেই সবার আগে ঘণ্টা বাজতে শুরু করে। এরই ধারাবাহিকতায় আগামী ১০ ডিসেম্বরে বিএনপির সমাবেশকে কেন্দ্র করে নারায়ণগঞ্জের রাজনীতির পরিবেশ এখন তুলনামূলক বেশি উত্তপ্ত রয়েছে বলা চলে। জেলাটিতে এখন আওয়ামী লীগ ও বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় চলছে। এই উত্তেজনার মধ্যেই গত ৩০ নভেম্বর নারায়ণগঞ্জে তিনটি স্থানে পৃথক ককটেল বিস্ফোরণ এবং অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। এইসব ঘটনায় বিএনপিকে দায়ী করে মামলা করেছে পুলিশ। ইতোমধ্যে বিভিন্ন ঘটনার প্রেক্ষিতে বিএনপির ৯৪৩ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে জেলার ৭ থানায় ১০টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। গ্রেফতার করা হয়েছে বিএনপির ২৯ নেতা-কর্মী।

বিএনপি নেতাদের দাবি, মহাসমাবেশকে বানচাল করার উদ্দেশ্যে তারা (সরকার) এইসব নাটক সাজিয়েছে। তারা রাজনীতির জায়গা থেকে সরে এসে হামলা মামলা করে আমাদের দমাতে চায়। সাধারণ জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে তারা এখন দেউলিয়া হয়ে গেছে।

অন্যদিকে আওয়ামী লীগ নেতাদের দাবি, ককটেল বিস্ফোরণ, অগ্নিসংযোগ এগুলো বিএনপির চিরায়ত বৈশিষ্ট্য। তারা এইসব করে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করছে। তারা এইসব ঘটনায় জড়িত বলেই তাদের বিরুদ্ধে পুলিশ মামলা দিচ্ছে। বিএনপির সমাবেশ বানচাল করার কোনো উদ্দেশ্য আওয়ামী লীগের নেই।

এদিকে গত ২২ নভেম্বর নয়ন হত্যার বিচার ও খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে নারায়ণগঞ্জে জেলা বিএনপি এক বিশাল বিক্ষোভ মিছিল করে চমক সৃষ্টি করে। ওই বিক্ষোভ মিছিলে নেতাকর্মীদের মুহমুর্হ স্লোগানে প্রকম্পিত হয় নারায়ণগঞ্জের রাজপথ। তবে এর আগে গত ১৫ নভেম্বর নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির ৯ সদস্যবিশিষ্ট আহবায়ক কমিটি গঠন করার পর থেকেই নারায়ণগঞ্জ বিএনপি এক নতুন মাত্রা নেয়। এ কমিটিতে আহবায়ক করা হয় মুহাম্মদ গিয়াসউদ্দীনকে ও সদস্য সচিব করা হয় জেলা যুবদলের আহবায়ক গোলাম ফারুক খোকনকে।

এদিকে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও প্রভাবশালী আওয়ামী লীগ নেতা শামীম ওসমান নারায়ণগঞ্জের বিএনপির নেতাদের ব্যাপারে বিগত সময়ে তেমন সিরিয়াস না থাকলেও এই নতুন নেতৃত্বে আসার পর থেকে তাকে বেশ সিরিয়াস দেখা যাচ্ছে। তিনি গত ২৭ নভেম্বর জেলা পরিষদের নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান ও সদস্যদের আনুষ্ঠানিক দায়িত্বভার গ্রহণ অনুষ্ঠানকালে জেলা বিএনপির আহবায়ক মুহাম্মদ গিয়াসউদ্দিনকে ইঙ্গিত করে বলেন, আমাদের এ নারায়ণগঞ্জেও অনেকে নেতা হয়ে আস্ফালন দেখাচ্ছে। নারায়ণগঞ্জে অনেক খুনিদের আস্ফালন দেখছি। যারা নারায়ণগঞ্জে কিছু বড় নেতার হওয়ার পরে নারায়ণগঞ্জে খুনের রাজত্ব সৃষ্টি করে ছিল। খুনের রাজত্ব আমাদের দলে বাদ দেন বিএনপির নেতা তৈমূর আলম খন্দকারের ভাইকে হত্যা করা হয়ে ছিল সাব্বিরকে। কারণ, সে মাদকের বিরুদ্ধে কথা বলেছে। দিনে দুপুরে তাকে গুলি করে হত্যা করা হয়ে ছিল। এটা নারায়ণগঞ্জের সবাই জানে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষককের মতে, এই বক্তব্যে শামীম ওসমান মুহাম্মদ গিয়াসউদ্দিনের কোনো নাম উচ্চারণ না করলেও গিয়াস উদ্দিনকেই ইঙ্গিত করেই তিনি এ বক্তব্য দিয়েছেন।

চলতি বছরের শুরু থেকে বিএনপি জাতীয় রাজনীতিতে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হতে শুরু করতেই তর্জন গর্জন শুরু করেন শামীম ওসমান। কিন্তু এতোদিন নারায়ণগঞ্জে যারা বিএনপির রাজনীতি ধরে রেখে ছিল তাদের কেউই শামীম ওসমানের সাথে ফাইট দেয়ার মত দক্ষ ছিলেন না। তবে নতুন কমিটির মধ্য দিয়ে সেই ঘাটতি যেন পূরণ হয়েছে। জেলা বিএনপির দায়িত্ব নিয়েছে খোদ শামীম ওসমানকে নির্বাচনে হারানো বিএনপি নেতা গিয়াসউদ্দিন। একই আসনের দুই এমপি এখন মুখোমুখী অবস্থানে তাই রাজনীতিতে এখন রাজনৈতিক উত্তাপ টের পাওয়া যাচ্ছে।

এর আগে চলতি বছরের ১ সেপ্টেম্বর বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষে যুবদলকর্মী শাওন প্রধান নিহত হওয়ার পর নারায়ণগঞ্জের রাজনীতির পরিস্থিতি কিছুদিন গরম ছিল। তখন সংঘর্ষের ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে ২ সেপ্টেম্বর ৭১ জনের নাম উল্লেখ করে ও অজ্ঞাতনামা ৫ হাজার জনকে আসামি করে দুটি মামলা করে পুলিশ।

এরপর কিছুদিন পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলেও নবনির্বাচিত জেলা বিএনপির আহবায়ক কমিটি হওয়ার পর থেকে নারায়ণগঞ্জের রাজনীতিতে উত্তেজনা আবার বৃদ্ধি পায়। আগামী ১০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া সমাবেশকে কেন্দ্র করে বিএনপি নেতাকর্মীরা দফায় দফায় বৈঠক করছেন। এর মধ্যে ককটেল বিস্ফোরণ, অগ্নিসংযোগ, আওয়ামী লীগ অফিস ভাঙচুর, বিএনপির বিরুদ্ধে ১০টি মামলা আবার যেনো রাজনীতিতে উত্তেজনার পারদ বাড়িয়ে দিয়েছে।

এদিকে ১ ডিসেম্বর রাতে নারায়ণগঞ্জ বার ভবন উদ্বোধন অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে শামীম ওসমান বলেন, ‘নারায়ণগঞ্জে আবারও জ্বালাও পোড়াও শুরু হয়েছে। ৩০ নভেম্বর রাতে আবারো ধাওয়া করেছে তারা। এতদিন বলছিল সবই নাকি আজগুবি মামলা করে পুলিশ। এখন আবারও তারা পুরোনো রূপে ফিরে এসেছে। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে উপর্যপুরি বোমা নিক্ষেপ করা হয়েছে। টায়ার পোড়ানো হয়েছে। ফতুল্লা ও শহরেও একই কাজ করা হয়েছে। দেখা যাবে কোন এক সময় শামীম ওসমানও নেই। কারণ ১৬ জুন আমাদের উপর বোমা নিক্ষেপ করা হয়ে ছিল। প্রাণে বেঁচে গেলেও অনেক সহযোদ্ধাকে আমরা হারিয়ে ছিলাম সেদিন।’

নারায়ণগঞ্জে গত ১৬ দিনে বিএনপির ৯৪৩ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে জেলার ৭ থানায় ১০টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এর মধ্যে ৭টি মামলার বাদী পুলিশ, দুটির বাদী ছাত্রলীগ ও একটির বাদী স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা। এর মধ্যে বৃহস্পতিবার (১ ডিসেম্বর) হয়েছে তিনটি মামলা। এর মধ্যে শুক্রবার (২ ডিসেম্বর) সন্ধ্যা পর্যন্ত গ্রেফতার করা হয়েছে বিএনপির ২৯ নেতা-কর্মী।

Islams Group
Islam's Group