News Narayanganj
Bongosoft Ltd.
ঢাকা মঙ্গলবার, ০৬ ডিসেম্বর, ২০২২, ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৯

মৃত ডেভিডের আপনজন খোরশেদ


দ্যা নিউজ নারায়ণগঞ্জ ডটকম | স্টাফ রিপোর্টার : প্রকাশিত: নভেম্বর ২৪, ২০২২, ০৫:১১ পিএম মৃত ডেভিডের আপনজন খোরশেদ

নারায়ণগঞ্জ মহানগর যুবদলের সাবেক যুগ্ম আহবায়ক মমিনউল্লাহ ডেভিডের একমাত্র আপনজন হিসেবে সবসময় পরিচয় দিয়ে যাচ্ছেন মহানগর যুবদলের সাবেক সভাপতি মাকছুদুল আলম খন্দকার খোরশেদ। প্রতি বছর মৃত্যুবার্ষিকী আসলেই তিনি নানা কর্মসূচি পালন করে থাকেন। যুবদলের অন্য কোনো নেতাকর্মীরা এমনকি পরিবারের সদস্যরা পর্যন্ত কোনো আয়োজন না করলেও খোরশেদ নিজ উদ্যোগে তার অনুসারীদের নিয়ে নানা আয়োজন করে থাকেন।

যেন খোরশেদই মমিনউল্লাহ ডেবিডের পরিবারের সদস্য ঠিক তেমননিভাবেই তার তৎপরতা লক্ষ্য করা যায়। তারই ধারাবাহিকতায় এবারও ডেবিডের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষ্যে নানা কর্মসূচি হাতে নিয়েছেন।

জানা যায়, নারায়ণগঞ্জ মহানগর যুবদলের সাবেক যুগ্ম আহবায়ক মমিনউল্লাহ ডেভিডের ১৮ তম মৃত্যুবার্ষিকী হচ্ছে ২৪ নভেম্বর বৃহস্পতিবার। আর এই দিনটিকে কেন্দ্র করে বুধবার রাত পর্যন্ত নারায়ণগঞ্জ বিএনপি কিংবা সহযোগি সংগঠন অথবা নারায়ণগঞ্জ মহানগর যুবদল এমনকি পবিারের পরিবারের সদস্যদের কোনো কর্মসূচির কথা শুনা যায়নি।

তবে প্রতি বছরের মতো এবারও মমিনউল্লাহ ডেবিডের ১৮ তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে ২৪ নভেম্বর বৃহস্পতিবার তার কবর জিয়ারত ও বাদ আসর দোয়া মাহফিলের আয়োজন করেছেন নারায়ণগঞ্জ  মহানগর যুবদলের সাবেক সভাপতি মাকছুদুল আলম খন্দকার খোরশেদ ও মহানগর জিয়া মঞ্চ। সেই সাথে সবাইকে বৃহস্পতিবার বিকেলে নারায়ণগঞ্জ কেন্দ্রীয় কবরস্থানে উপস্থিত থাকার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে খোরশেদের পক্ষ থেকে।

এদিকে এই কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে বুধবার (২৩ নভেম্বর) মমিনউল্লাহ ডেবিডের কবর পরিস্কার পরিচ্ছন্ন ও রঙ দেয়ার কাজ সম্পন্ন করেছেন মাকছুদুল আলম খন্দকার খোরশেদ। আর এভাবেই তিনি প্রতি বছর নিজ উদ্যোগে ডেবিডের পরিবারের আপনজনে মতো কাজ করে যাচ্ছেন।

প্রসঙ্গত, ২০০৪ সালের ২৪ নভেম্বর রাতে ঢাকার মালিবাগ কমিউনিটি সেন্টারে সামনে মমিনউল্লাহ ডেভিড গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যায়। র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন তথা র‌্যাবের দাবি ছিল, তাদের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধের এক পর্যায়ে ক্রসফায়ারে পড়ে ডেভিডের মৃত্যু ঘটে।

ডেভিডের বাবার নাম বশিরউল্লাহ। সে এক সময়ে আদমজীতে চাকরি করতো। তার ৭ ছেলে ও ২ মেয়ে। তার মধ্যে ৩ জন মারা গেছে। তারা হলো কিরণ, মমিনউল্লাহ ডেভিড ও মনা। বেঁচে রয়েছে মাহবুব উল্লাহ তপন, রিপন, শাহাদাতউল্লাহ জুয়েল, রোমান।

ক্রিকেটার হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে ভর্তি হয়েছিলেন নারায়ণগঞ্জ ক্রিকেট একাডেমিতে। ভালো ব্যাট করতেন। ফলো করতেন অস্ট্রেলিয়ান জনপ্রিয় ক্রিকেটার ডেভিড বুনকে। ডেভিড বুনের ব্যাটিং স্টাইল রপ্ত করেছিলেন ভালোভাবেই। ক্রিকেট একাডেমির কোচ তাকে ডেভিড বলেই ডাকতেন। সেই থেকে তার নাম হয় মমিনউল্লাহ ডেভিড। পরিচিতি পান ডেভিড নামে। এই ডেভিড ক্রিকেট খেলতে খেলতে এক সময় জড়িয়ে পড়েন সন্ত্রাসী কর্মকান্ডে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ১৯৯১ হতে ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত নারায়ণগঞ্জ শহরের চাষাঢ়া ও মিশনপাড়া এলাকার মধ্যে প্রায় সময়েই বন্দুকযুদ্ধের ঘটনা ঘটতো। চাষাঢ়ায় এলাকায় ছিল আওয়ামী লীগের লোকজনদের আধিপত্য। আর মিশনপাড়া এলাকার বাসিন্দা ডেভিড স্থানীয় বিএনপি ক্যাডারদের নেতৃত্ব দিত। তখন থেকেই আলোচনায় আসে ডেভিড। সে সময়ে ডেভিড অনেক অত্যাধুনিক অস্ত্র ব্যবহার করলেও তার কোনটিই এখন পর্যন্ত উদ্ধার করা যায়নি। ১৯৯৬ সালে অসহযোগ আন্দোলনের সময়ে অনেক বন্দুকযুদ্ধের নেতৃত্ব দিয়ে ডেভিড স্থানীয় বিএনপি নেতাদের আস্থা অর্জনে সক্ষম হয়। ওই বছরে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসলে নারায়ণগঞ্জ ছেড়ে পালিয়ে যায় ডেভিড। এ সময়ে সে ঢাকাতে ছিনতাইয়ের অভিযোগে গ্রেপ্তারও হয়। ২০০১ সালে বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর ডেভিড আবারো এলাকাতে ফিরে আসে। তখন তাকে শহরের মিশনপাড়া এলাকায় দেওয়া হয় সংবর্ধনা। এতে এলাকার বিপুল সংখ্যক মানুষের সমাগম ঘটে। অভিযোগ রয়েছে, সে সময়ে সরকারের এক প্রতিমন্ত্রী ও নদী খেকো খ্যাত এক এমপি ডেভিডকে ব্যবহার করতো।

বিএনপি ক্ষমতায় থাকা সময়ে ২০০৪ সালের ২৪ নভেম্বর ডেভিডের মৃত্যুর ঘটনার পেছনে দলের শীর্ষ নেতাদের ব্যর্থতা আর ‘ব্যবহৃত’ রাজনীতিকেই দায়ী করা হয়েছিল। নারায়ণগঞ্জে গত দুই দশকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ক্রসফায়ারে অন্তত দেড়ডজন রাজনীতিক। কিন্তু তাদের মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত ছিল সাবেক যুবদল নেতা মমিনউল্লাহ ডেভিডের ক্রসফায়ারটি। এক সময়ের আলোচিত-সমালোচিত ও আলোচিত ক্যাডার মমিনউল্লাহ ডেভিডকে অনেকেই ভুলে গেছে। কিন্তু এ ডেভিডকে দিয়েই একসময়ে নারায়ণগঞ্জে আওয়ামী লীগকে প্রতিহত করতো বিএনপি - শহরে এমন খবর চাউর রয়েছে অনেক আগে থেকেই। বিশেষ করে ১৯৯৬ সালে অসহযোগ আন্দোলনের সময়ে নারায়ণগঞ্জ শহরে আওয়ামী লীগের ক্যাডারদের সঙ্গে সংঘর্ষের বেশীরভাগ সময়ে বিএনপির নেতৃত্বে ছিলেন ডেভিড। সে ছিল অস্ত্র চালানোয় দারুণ পারদর্শী। একজন দুধর্ষ সন্ত্রাসী হিসেবে তার খ্যাতি ছিল সর্বত্র।

২০০১ সালে বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর এ ডেভিডকে নিয়ে সংসদে কঠোর সমালোচনা করেছিল তৎকালীন বিরোধী দল আওয়ামী লীগের এমপিরা। বহুল সমালোচিত ডেভিডকে কব্জা করতে সে সময়ের নারায়ণগঞ্জের বিএনপির শীর্ষ নেতাদের মধ্যে ছিল নীরব যুদ্ধ। তবে এও অভিযোগ রয়েছে, বিএনপির শীর্ষ নেতাদের বিরোধের কারণেই ডেভিডকে প্রাণ হারাতে হয়েছিল।

Islams Group
Islam's Group