News Narayanganj
Bongosoft Ltd.
ঢাকা মঙ্গলবার, ০৬ ডিসেম্বর, ২০২২, ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৯

সুবিধাজনক অবস্থানে ফিরবেন যারা


দ্যা নিউজ নারায়ণগঞ্জ ডটকম | স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট প্রকাশিত: নভেম্বর ১৯, ২০২২, ১০:০৩ পিএম সুবিধাজনক অবস্থানে ফিরবেন যারা

নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির একসময়ের অনেক প্রভাবশালী নেতারা রাজনীতি থেকে বিদায়ের পথে ছিলেন। নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপিতে তেনমভাবে তাদের মূল্যায়ন ছিল না। সেই সাথে তাদেরকেও জেলা বিএনপির কর্মসূচিতে দেখা যেত না। বলা চলে তারা একেবারেই যেন বিএনপির রাজনীতি থেকে হারিয়ে গিয়ে ছিলেন। তবে এবার নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির নতুন কমিটির ঘোষণাতে সেসকল প্রভাবশালী নেতাদের সুদিন ফিরছে। যেখানে তাদের মূল্যায়ন করা হবে। সেই সাথে দলীয় কর্মসূচিতেও তাদের দেখা মিলবে বলে মনে করছেন বিএনপির তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।

তাদের এই তালিকায় রয়েছেন নারায়ণগঞ্জ-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আতাউর রহমান আঙ্গুর, মাহমুদুর রহমান সুমন, নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য রেজাউল করিম ও ফতুল্লা থানা বিএনপির সাবেক সভাপতি খন্দকার মনিরুল ইসলাম।

জানা যায়, নারায়ণগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য ছিলেন আতাউর রহমান আঙ্গুর। কেন্দ্রীয় বিএনপি থেকে শুরু করে নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপি সব জায়গাতেই তার বেশ প্রভাব ছিল। কিন্তু বিগত সময়ে আতাউর রহমান আঙ্গুর অনেকটা নিস্ক্রিয় হয়ে পড়ে ছিলেন। একজন সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করলেও নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপিতে তাকে মূল্যায়ন করা হতো না। সেই সাথে দলীয় কর্মসূচিতেও তার দেখা মিলত না।

তবে এবার নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির নতুন কমিটি হওয়াতে তিনি আবারও সক্রিয় অবস্থায় ফিরে আসবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। সেই সাথে তাকে আবারও নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপিতে মূল্যায়ন করা হবে। নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপিতে আবারও তার প্রভাব ফিরে আসবে। তার অনুসারীরা আবারও রাজপথে ফিরে আসবেন।

বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক ছিলেন বদরুজ্জামান খসরু। যিনি আড়াইহাজার বিএনপির একজন নেতা ছিলেন। একসময় নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির রাজনীতিতে তার যথেষ্ট প্রভাব ছিল। তার মৃত্যুর পর ছেলে মাহমুদুর রহমান সুমন সেই প্রভাব ধরে রাখার চেষ্টা করে আসছিলেন। কিন্তু বিভিন্ন সমীকরণে তিনি পেরে উঠতে পারছিলেন না। বরাবরই তাকে পিছু হটতে হচ্ছিল।

কিন্তু এবার নারায়ণগঞ্জ নতুন কমিটির ঘোষণাতে তার সম্ভাবনা ফিরে এসেছে। সেই সাথে আড়াইহাজার থানা বিএনপিসহ সব জায়গাতেই তিনি তার প্রভাব বিস্তার করতে পারবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। যা তাকে সুবিধাজনক অবস্থানে নিয়ে আসবে। বর্তমান কমিটির শীর্ষ পর্যায়ের নেতার সাথে তার ঘনিষ্ঠতা রয়েছে।

এদিকে রেজাউল করিম একসময়ে নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির সভাপতি ছিলেন। সেই সাথে তিনি ১৯৯১ সালের পঞ্চম, ১৯৯৬ সালের ষষ্ঠ, ১৯৯৬ সালের সপ্তম এবং ২০০১ সালের অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির দলীয় প্রতীকে জয়লাভ করে নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব লাভ করেছেন। পাশাপাশি ২০০৩ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। সে হিসেবে তিনি বিএনপির একজন প্রভাবশালী নেতা। কিন্তু সোনারগাঁ বিএনপিতে তার কোনো মূল্যায়ন দেয়া হয়নি।

তবে এবার নারারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির নতুন কমিটির ঘোষণাতে তার সেই প্রভাব ফিরে আসবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আবারও তার সেই আগের সুদিন ফিরিয়ে নিয়ে আসবে।

অন্যদিকে খন্দকার মনিরুল ইসলামের নেতৃত্ব থাকাকালীন অবস্থায় নারায়ণগঞ্জ জেলার ফতুল্লা থানা এলাকাটি বিএনপির অধ্যুষিত এলাকা হিসেবে পরিচিত ছিল। কিন্তু খন্দকার মনিরুল ইসলামকে ফতুল্লা থানা থেকে সরিয়ে নেয়া হয়। অদৃশ্য কালো ছাঁয়ার প্রভাবে তাকে বারবার বিএনপির রাজনীতিতে অমূল্যায়ন করা হয়। অথচ তার প্রভাবে ফতুল্লা বিএনপি দাবড়িয়ে বেড়াত।

কিন্তু এবার নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির নতুন কমিটি ঘোষণা হওয়াতে খন্দকার মনিরুল ইসলামের সেই প্রভাব ফিরিয়ে নিয়ে আসবে যা তার রাজনীতির জন্য সুদিন বয়ে আনবে।

প্রসঙ্গত, গত ১৫ নভেম্বর বিকেলে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির ৯ সদস্য বিশিষ্ট আহবায়ক কমিটি গঠন করা হয়। কমিটিতে আহ্বায়ক হিসেবে রয়েছেন নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন ও সদস্য সচিব হিসেবে রয়েছেন গোলাম ফারুক খোকন।

এছাড়াও প্রথম যুগ্ম আহবায়ক হিসেবে রয়েছেন অধ্যাপক মামুন মাহমুদ এবং অন্যান্য যুগ্ম আহবায়করা হলেন মনিরুল ইসলাম রবি, শহিদুল ইসলাম টিটু, মাশুকুল ইসলাম রাজীব, লুৎফর রহমান খোকা, মোশারফ হোসেন মো. জুয়েল আহমেদ।

Islams Group
Islam's Group