News Narayanganj
Bongosoft Ltd.
ঢাকা মঙ্গলবার, ০৬ ডিসেম্বর, ২০২২, ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৯

ফাঁসাতে গিয়ে শাপে বর


দ্যা নিউজ নারায়ণগঞ্জ ডটকম | শাহরিয়ার অর্ক : প্রকাশিত: নভেম্বর ১৭, ২০২২, ১০:২২ পিএম ফাঁসাতে গিয়ে শাপে বর

নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির সবশেষ কমিটির সদস্য সচিব ও বর্তমান কমিটির প্রথম যুগ্ম আহবায়ক অধ্যাপক মামুন মাহমুদের সঙ্গে সাত খুন মামলার ফাঁসির দন্ডপ্রাপ্ত আসামী নূর হোসেনের পুরাতন সখ্যতায় রাখঢাক কিছুই নাই। বিপরীতে এ নূর হোসেনের সঙ্গে এলাকার প্রভাব বিস্তার নিয়ে বিশাল বিরোধ ছিল বিএনপির সাবেক এমপি গিয়াসউদ্দিনের। এ কারণেই রাজনৈতিকভাবে গিয়াসকে কোনঠাসা করতে মামুনকে বেছে নেন নূর হোসেন। সঙ্গে দিয়ে দেন নূরউদ্দিনকে। সাত খুনের আগে সিদ্ধিরগঞ্জে মামুনদের বিএনপির অফিস করে দিয়েছিলেন সেই নূর হোসেন। এছাড়া ওই সময়ে বিএনপির নিয়ন্ত্রক শাহআলম ও মামুন মাহমুদকে কুতুবপুরের বিএনপি নেতা পান্না মোল্লার মাধ্যমে নূরউদ্দিনের দরবারেও যেতেন। সাত খুনের পর সব উলটপালট হয়ে যায়। সবশেষ রাজধানীতে মামুন মাহমুদকে ছুরিকাঘাতের ঘটনায় গিয়াসউদ্দিনকে ফাঁসাত গিয়ে এবার শাপেবর হয়ে গেছে। উল্টো গিয়াসউদ্দিন পেয়ে গেলেন জেলা বিএনপির আহবায়কের পদ।

বিএনপির একাধিক সূত্র বলছেন, ২৫ এপ্রিল ইফতারের পর নয়াপল্টন এলাকায় নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির সদস্য সচিব মামুন মাহমুদকে এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাতের ঘটনার পর হামলার অভিযোগ উঠে গিয়াস উদ্দিনের অনুসারীদের বিরুদ্ধে। একই বিষয়ে কথা বলতে শুরু করেন আওয়ামী লীগের এমপি শামীম ওসমানও। তিনি একাধিক সমাবেশে এ হামলার কথা উল্লেখ করে গিয়াসউদ্দিনকে দোষারোপ করেন। পরবর্তীতে গিয়াসউদ্দিনের পক্ষে বিএনপির সিনিয়র আইনজীবী বারী ভূইয়া সংবাদ সম্মেলন করে বলেছিলেন, ‘আসন্ন নির্বাচনে এমপি প্রার্থী গিয়াসউদ্দিনকে ঠেকাতেই ক্ষমতাসীন দলের সাথে আঁতাত করে উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে গিয়াসউদ্দিনের নামে অপপ্রচার চলছে।’

তাঁর এই বক্তব্যে পরিস্কার হয় যে, আসন্ন নির্বাচনে গিয়াসউদ্দিন মনোনয়ন দৌড়ে এগিয়ে থাকবেন। কারণ একই আসনে বিএনপির পক্ষ থেকে লড়াই করা শাহআলম ও জোটের মাধ্যমে লড়াই করা জমিয়ত নেতা মনির কাশেমি উভয়েই পরাজিত হয়েছেন। এমন পরিস্থিতিতে গিয়াস ছাড়া বিকল্প দেখছেন না নেতাকর্মীরা। তাদের মধ্যে শাহ আলম এখন রাজনীতি থেকে ইস্তফা নিয়েছেন। আর মনির কাশেমি নাশকতা ও রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় কারাবন্ধী। এমপি শামীম ওসমান একাধিক সভা সমাবেশে ওই ঘটনায় গিয়াসউদ্দিনকে দোষারোপ করে বক্তব্য দিয়েছেন যে বিএনপির হাই কমান্ডের নজরে এসেছে। এতে দলের নীতি নির্ধারকেরা গিয়াসউদ্দিনের গুরুত্ব যেমন বুঝেছে তেমনি মামুনকে এমপি শামীম ওসমান ভালো চোখে দেখে সেটাও উপলব্দি করতে পেরেছে। এসব কারণেই মূলত আলোচনায় ছিলেন গিয়াস।

দলের একাধিক সূত্র জানান, মামুনকে ছুরিকাঘাতের পরেই বিষয়টি নিয়ে বিএনপির রাজনীতির নিয়ন্ত্রন নিতেই গিয়াসউদ্দিনের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলা হয়। পরবর্তীতে একজন গ্রেপ্তারের পর তিনি যে ‘রিফাত’ নামের একজনের নাম প্রকাশ করেন এবং সেই রিফাত গিয়াসউদ্দিনের ছেলে বলেও সংশ্লিষ্ট তদন্তকারী সংস্থাকে জানানো হয়। সেই আলোকেই গিয়াসের বাড়িতে পুলিশ অভিযান চালালেও পরবর্তীতে বেরিয়ে আসে প্রকৃত সব তথ্য।

তারা জানিয়েছেন, ছুরিকাঘাতের পরেই গিয়াসউদ্দিনকে বিএনপি থেকে অব্যাহতি, বহিস্কারের জন্য কেন্দ্রে ছুটে যান দলের নেতাদের কয়েকজন। এর সঙ্গে আড়াইহাজারের একজন নেতা যিনি নিজেকে জেলা বিএনপির নিয়ন্ত্রক দাবী করেন তিনি মূলত সকলকে সমন্বয় করেন। কিন্তু দলের যুগ্ম মহাসচিব রিজভী আহমেদ সহ শীর্ষ নেতারা সাফ জানিয়ে দেন এখনই কাউকে বহিস্কার বা অব্যাহতি না।

মামুনকে ছুরিকাঘাতের বিষয়টি বেশ সিরিয়াস ভাবেই নেন দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি এ ব্যাপারে শুরুতে এও জানান, তারা অভ্যন্তরীণ তদন্ত করবে। সেটার আলোকেই সাংগঠনিক ব্যবস্থা নিবে। যদি গিয়াসউদ্দিনের দোষ ত্রুটি পাওয়া যায় তাহলে তাকে বহিস্কার করা হবে। নতুবা অন্যরা এটা থেকে নেতিবাচক শিক্ষা নিবে। আর যদি গিয়াসউদ্দিন জড়িত না থাকে তাহলে ধীরে বিষয়টি নিয়ে আগানো হবে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানান, তারেক রহমানের নির্দেশে গঠিত ওই তদন্ত টিম পুরো বিষয়টি বেশ গুরুত্ব দিয়েই তদন্ত করতে থাকেন। তারা ঘটনার পর পারিপার্শ্বিকতা জানার চেষ্টা করেন। কথা বলেন গিয়াসউদ্দিনের সঙ্গেও। নজর রাখেন পল্টন থানার মামলা ও এর গতিপথে। তারা শুরু থেকেই অভ্যন্তরীণ বিরোধের বিষয়টিও মাথায় আনেন। বিশেষ করে আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে বিগত নির্বাচনে বিএনপির টিকেটে নির্বাচন করা শাহআলম সরে যাওয়াতে এখন সুগম পথ গিয়াসউদ্দিনের সামনে। কর্মীবান্ধব এ নেতাকে নিয়ে আওয়ামী লীগের ভেতরেও আছে চরম ভয়। ফলে আওয়ামী লীগের একটি গ্রুপের সঙ্গে গিয়াস ঠেকাতে আগে থেকেই সম্পর্ক আছে মামুন মাহমুদের। আলোচিত সাত খুন মামলার প্রধান আসামী নূর হোসেন থাকতে তিনিও গিয়াসকে ঠেকাতে মামুনকে প্রধান অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করতো। মামুনের সঙ্গে নূর হোসেন ও তার পরিবারের আর্থিক লেনদেনের বিষয়টিও প্রকাশ পেয়েছে।

এদিকে ছুরিকাঘাতের পর ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডে আওয়ামী লীগের একজন প্রভাবশালী নেতার অফিসে বসে কিভাবে গিয়াসউদ্দিনকে চাপে রাখা যায় সে নিয়ে বিশদ আলোচনা হয়। সেখানে যোগ দেন কুতুবপুরের একজন জনপ্রতিনিধিও। পেছনে কলকাঠি নাড়েন সরকার দলের একজন প্রতাপশালী নেতা। এসব বিষয়গুলোও ইতোমধ্যে বিএনপির হাই কমান্ড ওয়াকিবহাল।

Islams Group
Islam's Group