News Narayanganj
Bongosoft Ltd.
ঢাকা মঙ্গলবার, ০৬ ডিসেম্বর, ২০২২, ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৯

আইভী না হলে আনোয়ার


দ্যা নিউজ নারায়ণগঞ্জ ডটকম | স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট প্রকাশিত: নভেম্বর ১৩, ২০২২, ১১:২৩ পিএম আইভী না হলে আনোয়ার

সম্মেলনের ঘোষণা দিয়েও সম্মেলন বাতিল হয়ে যাওয়া নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি কিংবা আহবায়ক পদ নিয়ে চলছে জোর আলোচনা। মহানগর আওয়ামী লীগের এবারের আহবায়ক অথবা সভাপতি পদে আলোচনার শীর্ষে রয়েছেন নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোারেশনের মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী। যদিও তাকে ঠেকানোর জন্য অনেক চেষ্টা চলমান রয়েছে। তবে সেলিনা হায়াৎ আইভী মহানগর আওয়ামী লীগের পদে না আসলে তার জায়গায় বর্তমান সভপতি আনোয়ার হোসেনই বহাল থেকে যাবেন। আর এতে কারও আপত্তি থাকবে না। সকলেই বিষয়টিকে সহজভাবে নিবেন।

দলীয় সূত্র বলছে, মহানগরের সভাপতি আনোয়ার হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক খোকন সাহার ব্যর্থতা নিয়ে নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামীলীগের আহবায়ক কমিটির সিদ্ধান্ত নিয়েছিলো কেন্দ্রীয় কমিটি। সেখানে আহবায়ক হিসেবে সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী নাম উঠে আসে কেন্দ্র নেতাদের কাছে। ১৯৯৬ সাল থেকে বর্তমান পর্যন্ত শহর ও মহানগরের সাধারণ সম্পাদক দায়িত্ব পালন করছেন খোকন সাহা। ২০০৩ সাল থেকে শহর ও মহানগর সভাপতি দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন আনোয়ার হোসেন।

তবে তারা দুইজনে এখন পর্যন্ত সদরের ৯টি ওয়ার্ড গোছাতে পারেনি। এমনকি সিদ্ধিরগঞ্জ ও বন্দর অঞ্চলে কর্মী সভা করতে পারে নাই। এই সকল সহ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের মধ্যে সংগঠনের সম্পর্ক ছিলো দ্বি-খন্ডিত। তারা দলীয় কর্মসূচী একত্রে করতে পারেনি, আলাদা আলাদা স্থানে তারা কর্মসূচী পালন করেছে। সম্মেলনের বাতিল হয়ে যাওয়ার কারণে এখন সভাপতি আনোয়ার হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক খোকন সাহা সর্ম্পক ঘনিষ্ট হয়েছে।

এরই মধ্যে ৩০ অক্টোবর রাতে মহানগর আওয়ামীলীগের কার্যনির্বাহী কমিটির সভায় খোকন সাহাকে উদ্দেশ্যে আনোয়ার হোসেন বলেন, আমার সেক্রেটারী (খোকন সাহা) কখনো আমার কাছে, কখনো শামীম ওসমানের কাছে, কখনো শামীম ওসমানের বিরুদ্ধে বক্তব্যে দেয় আবার কখনো আমার কাছে ছুটে আসে। আমি এখানে অনুষ্ঠান করলে ওই আরেক স্থানে অনুষ্ঠান করে। আসলে আমাদের মধ্যে ঐক্য থাকে না। আসলে ওই কি করতে চায়, আমি বুঝতে পারি না।

আর এই সভায় উপস্থিত ছিলেন মহানগরের প্রথম কার্যকরী সদস্য এমপি শামীম ওসমান। তিনি বক্তব্য রাখতে গিয়ে বলেন, এই আনোয়ার ভাই ও খোকন সাহা কমিটি থাকবে। কার দৌড় কোন পর্যন্ত আমি সব জানি। আমি চ্যালেঞ্জ করে বলতে চাই, যা কিছু দরকার তা দিয়েই তাদেরকে আনবো। মহানগরের ২৭টি ওয়ার্ড, প্রতিটি ওয়ার্ড থেকে যদি দুই হাজার লোক আসে তাহলে ৫৪ হাজার লোক হবে। যাক এর মধ্যে ৪ হাজার লোক বাদ দিলাম, ৫০ হাজার লোক নিয়ে মাঠে নামবো। এ সময় তিনি করজোড় তুলে, সবাইকে ঐক্য হয়ে থাকার আহবান জানান।

শামীম ওসমান বলেন, মহানগর আওয়ামীলীগের উপর ভরসা বেশি কারণ তারা অনেক এ্যাক্টিভ। তারা কর্মসূচী বেশি করেছে, ত্যাগী ও পরিক্ষিত নেতা রয়েছে। তাদের অনেককে আমি চিনি, কিন্তু জেলা অনেক নেতাদের আমি চিনি না। জেলা আওয়ামীলীগের হাই ভাই বাদল চেষ্টা করেছে, তারা পেরেছে কমিটি। আমরা সবাই আনোয়ার হোসেন ও খোকন সাহা উপর আস্থা রাখতে চাই। তাদেরকেই আবার মহানগরে দায়িত্বে নিয়ে আসবো যে কোন দরকারে।

এর আগে গত ২৩ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হয় জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন। ওই মঞ্চে প্রধান অতিথির বক্তব্যে শেষে মঞ্চ থেকে ত্যাগ করা সময় দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের সঙ্গে কথা বলেন মেয়র আইভী। তিনি সালাম দিয়ে বলেন, ‘আমাকে তো বঞ্চিত করেন’। উত্তরে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘না-না তুমি আমার অফিসে এসো, কথা বলবো নে’। ওই মঞ্চে জেলার বর্তমান সভাপতি ও সেক্রেটারীকে পুনরায় দায়িত্ব দেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়। সেই সঙ্গে দুইদিন পর ২৫ অক্টোবর ধার্য তারিখে মহানগর আওয়ামী লীগের সম্মেলন স্থগিত ঘোষণা হয়।

এর পরেই আলোচনায় উঠে আসে মহানগর আওয়ামীলীগ ব্যর্থতা দায়ে কমিটি ভেঙ্গে দিতে যাচ্ছে কেন্দ্র। সেখানে আহবায়ক হিসেবে ডা. আইভী নাম উত্থাপন করে কেন্দ্রীয় নেতারা। ২০০৩ সাল থেকে আওয়ামীলীগের আইডল হিসেবে পরিচিত রয়েছে ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী। তিনি শুধু বাংলাদেশ নয় বিশ্বে আইভী নাম প্রতিটি মানুষ জানেন। সেই পরিক্ষিত নেতাকে মহানগর আওয়ামীলীগের দায়িত্ব দিয়ে উপহার দিতে পারে কেন্দ্র।

প্রস্তাবে বর্তমান মহানগর কমিটির নানা ব্যর্থতার দিক তুলে ধরেন। এরা সারমর্ম ছিল গত ৭ বছর ধরে মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক খোকন সাহার মধ্যে বৈরিতা, তারা প্রায়শই আলাদা আলাদা কর্মসূচী পালন করে নেতাকর্মীদের বিভ্রান্ত বিভক্ত করা, সমন্বয়হীনতার কারণে ২৭টি ওয়ার্ডের একটিতেও কমিটি গঠনে ব্যর্থতা, শামীম ওসমান প্রথম কার্যকরী কমিটির সদস্য হওয়ার পরেও সিটি করপোরেশন নির্বাচনে অনুগামীরা ঠিকমত কাজ না করা, সেই অভিযোগে ছাত্রলীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা, ২৭টি ওয়ার্ডে কমিটি না থাকলেও নির্বাচনের আগে খোকন সাহার উদ্যোগে শামীম ওসমান সমর্থিতদের কথিত কর্মী সভায় আইভীর বিরুদ্ধচারণ, ওই সভাগুলোর বিষয়ে সভাপতি আনোয়ার হোসেনকে অবহিত না করা, নির্বাচনে মহানগরের নেতাদের নামাতে ব্যর্থতা, সহ নানা অভিযোগ তোলা হয় যেগুলোর সত্যতাও খুঁজে পায় কেন্দ্রীয় কমিটির নেতারা। এসব দিক বিবেচনায় দক্ষ কমিটি গঠন করতে আইভীকে আহবায়কের প্রস্তাব দেওয়া হয়।

আওয়ামী লীগের একাধিক নেতা জানান, ২০০৩ সালের ১৬ জানুয়ারী বিলুপ্ত পৌরসভা নির্বাচনে চেয়ারম্যান, ২০১১ সালে প্রথম সিটি করপোরেশনের মেয়র এবং পরে ২০১৬ ও সবশেষ চলতি বছরের ১৬ জানুয়ারী তৃতীয়বারের মত মেয়র নির্বাচিত হন আইভী। সিটি করপোরেশন মূলত ২৭টি ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত। আর এ ২৭টি ওয়ার্ডে নিয়মিত চষে বেড়ান আইভী। এলাকার উন্নয়ন সহ নিয়মিত এসব ওয়ার্ডের আপমর জনতা থেকে শুরু করে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মী ও রাজনীতিকদের সঙ্গে নিয়মিত সম্পর্ক আছে আইভীর। সে কারণে সবকিছুই তার নখদর্পনে। তাছাড়া রাজনীতিতে আইভী অনেকটাই পরিচ্ছন্ন। শুধুমাত্র নারায়ণগঞ্জ নয়। সারাদেশেই ভিন্ন রাজনৈতিক দলগুলো থেকে আইভীর প্রতি আলাদা সম্মান কাজ করে। এসব দিক বিবেচনায় আইভীকে মহানগরের আহবায়ক হিসেবে বিবেচনায় রাখা হয়।

তবে শেষ পর্যন্ত মহানগর আওয়ামী লীগের আহবায়ক হিসেবে ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীর নাম না আসলে তার জায়গায় বর্তমান সভাপতি আনোয়ার হোসেনই থেকে যাওয়ার সম্ভাবনা প্রবল।

Islams Group
Islam's Group