News Narayanganj
Bongosoft Ltd.
ঢাকা মঙ্গলবার, ০৬ ডিসেম্বর, ২০২২, ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৯

বাইরে খেলা ভেতরে ঢেকুর


দ্যা নিউজ নারায়ণগঞ্জ ডটকম | স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ২৮, ২০২২, ১১:১৭ পিএম বাইরে খেলা ভেতরে ঢেকুর

নারায়ণগঞ্জ জেলা পরিষদের দুই নং ওয়ার্ডের নির্বাচন নিয়ে প্রভাবশালী ওসমান ভাইদের পক্ষ নিয়ে পর্দার বাইরে কার্যত ‘খেলা’ হলেও যেই জিতুক ভেতরে দুই ভাই-ই স্বস্তির ঢেকুর তুলবে। কারণ ৬ প্রার্থীর মধ্যে তিনজন সরে গিয়ে একজনকে সমর্থন দিয়েছেন। আরেকজনও যে কোন সময়ে সমর্থন দিবেন। ফলে এখন নির্বাচনের মাঠে আছেন দুইজন। একজন বন্দরের ধামগড়ের সাবেক চেয়ারম্যান মাসুম আহমেদ ও অপরজন ফতুল্লার বক্তাবলীর আওয়ামী লীগ নেতা ও সাবেক জেলা পরিষদ সদস্য জাহাঙ্গীর আলম। এর মধ্যে মাসুম আহমেদকে সরাসরি সমর্থন দিয়েছেন এমপি সেলিম ওসমান ও তার এলাকার জনপ্রতিনিধিরা। বিপরীতে জাহাঙ্গীরকে একা করতে অপর প্রার্থীদের সরে যেতে নির্দেশনা ছিল এমপি শামীম ওসমানের।

২নং ওয়ার্ড থেকে সাধারণ সদস্য পদে মনোনয়ন জমা দেয়া ৬ জন লড়াইয়ে ছিলেন। তারা হলেন ফতুল্লার আওয়ামী লীগ নেতা ও জেলা পরিষদের সাবেক সদস্য জাহাঙ্গীর হোসেন, ধামগড়ের সাবেক চেয়ারম্যান মাছুম আহম্মেদ, ফতুল্লার আওয়ামী লীগ নেতা ও জেলা পরিষদের সাবেক সদস্য মোস্তফা হোসেন চৌধুরী, আমির উল্লাহ রতন, মোবারক হোসেন, রাসেল শিকদার।

২৭ সেপ্টেম্বর কুতুবপুরে একজন মেম্বারের বাড়িতে বৈঠকে বসেন আওয়ামী লীগ নেতারা। উপস্থিত ছিলেন কাশিপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও ফতুল্লা থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি এম সাইফুল্লাহ বাদল, বক্তাবলীর চেয়ারম্যান ও ফতুল্লা থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এম শওকত আলী, কুতুবপুর ইউপি চেয়ারম্যান মনিরুল আলম সেন্টু, ফতুল্লা ইউপি চেয়ারম্যান খন্দকার লুৎফর রহমান স্বপন, এনায়েতনগর ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ আসাদুজ্জামান, মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক শাহ নিজাম প্রমুখ।

শওকত আলী জানান, আমাদের এমপি সাহেব বলছেন একজন প্রার্থী হলে ভালো হয়। পরে সকলে বসে জাহাঙ্গীর আলমকে সমর্থন দিয়েছেন। এদিন বৈঠকে ফতুল্লার আওয়ামী লীগ নেতা ও জেলা পরিষদের সাবেক সদস্য মোস্তফা হোসেন চৌধুরী, আমির উল্লাহ রতন, মোবারক হোসেন নিজেদের ভোট থেকে সরিয়ে নিয়ে জাহাঙ্গীরের পক্ষে কাজ করার অঙ্গীকার করেছেন।

জাহাঙ্গীর আলাম জানান, ফতুল্লা থানার ৫ টি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের উপস্থিতিতে আলোচনার মধ্য দিয়ে তিনজন প্রার্থী আমাকে সমর্থন করে তারা নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়েছে। যারা আমাকে সম্মান করে তারা নির্বাচন থেকে সরে যাওয়ায় তাদের প্রতি আমি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। আর যাদের উপস্থিতিতে আমাকে সম্মানিত করেছে ফতুল্লার ৫ টি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানদের প্রতি কৃতজ্ঞতা সহ তাদের কাছে চিরঋণী হয়ে রইলাম। আর আমি নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের এমপি শামীম ওসমানের আদর্শের সৈনিক। যত বেঁচে আছি ততদিন শামীম ওসমানের আদর্শে আওয়ামী লীগের রাজনীতি করে যাবো।

২৫ সেপ্টেম্বর ছিল মনোনয়ন পত্র প্রত্যাহারের শেষ দিন। এর আগে শুক্রবার বন্দর ও শহরের জনপ্রতিনিধিদের নিয়ে সেলিম ওসমান নিজ কার্যালয়ে সভা করেছেন। শেষে ভুড়িভোজ হয়েছে। সিদ্ধান্ত হয়েছে ফতুল্লা ও বন্দর ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত ২নং ওয়ার্ডে তাদের পছন্দ মাসুম আহমেদ। তিনি ধামগড় ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান। সবশেষ নির্বাচনে তিনি গেরে গেছেন কামাল আহমেদের কাছে। এ কারণেই সেলিম ওসমান এবার মাসুমকে পছন্দ করেছেন। তার আহবানে ২নং ওয়ার্ড থেকে মনোনয়ন পত্র প্রত্যাহার করে নেন কলাগাছিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান দেলোয়ার প্রধানের ভাই রফিকুল ইসলাম প্রধান। এছাড়া মদনপুর ইউনিয়ন পরিষদের বর্তমান চেয়ারম্যান এম এ সালামের বাই আরিফুর ইসলাম আলী নূরও মনোনয়ন পত্র প্রত্যাহার করে নেন।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এখন ২নং ওয়ার্ডে মাসুম আহমেদ, জাহাঙ্গীর আলম ও রাসেল শিকদার রয়েছেন। তবে যে কোন সময়ে রাসেল শিকদারও সরে যাবেন। শেষতক লড়াইটা হতে পারে বন্দরের মাসুম ও ফতুল্লার জাহাঙ্গীরের মধ্যে। দুইজনই দুইজন এমপির অনুগামী। ফলে যেই জিতুক ঘুরেফিরে একই বলয়ের জয় হবে। কারণ এ দুইজনের মধ্যেই শেষ লড়াই ও জয়ের হাসি ফুটবে। ফলে বাইরে খেলার মাঠ উত্তেজনা থাকলেও ভেতরে ভেতরে এমপি সেলিম ওসমান ও শামীম ওসমানের মধ্যে স্বস্তির ঢেকুর ঠিকই রয়েছে।

Islams Group
Islam's Group