News Narayanganj
Bongosoft Ltd.
ঢাকা মঙ্গলবার, ০৬ ডিসেম্বর, ২০২২, ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৯

নান্নু পলুকে তিরস্কার, আইভী শামীমের পরামর্শে যুবলীগের কমিটি


দ্যা নিউজ নারায়ণগঞ্জ ডটকম | স্টাফ করেসপন্ডেন্ট প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ২৭, ২০২২, ১০:১০ পিএম নান্নু পলুকে তিরস্কার, আইভী শামীমের পরামর্শে যুবলীগের কমিটি

নারায়ণগঞ্জ জেলা যুবলীগের বর্ধিত সভায় কয়েকজন নেতাকে চরম ভাষায় ভর্ৎসনা করা হয়েছে। ২৪ সেপ্টেম্বর সোমবার বিকেল হতে রাত পর্যন্ত জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে রুদ্ধদ্বার ওই বৈঠকে এ ভর্ৎসনা করেন কেন্দ্র থেকে আসা নেতারা। ওই সভাতে নভেম্বরের মধ্যেই নারায়ণগঞ্জ জেলা যুবলীগের সম্মেলন করার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। এর আগে থানা কমিটিগুলো কমিটিগুলোর সম্মেলন করার কথা বলা হয়েছে। থানা কমিটির সম্মেলন শেষে নভেম্বরের মাঝামাাঝি সময়ে জেলা যুবলীগের সম্মেলন করার জন্য বর্তমান সভাপতি আব্দুল কাদির ও সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আবু হাসনাত মো. শহীদ বাদল সহ অন্যান্য নেতাদের প্রতি এই নির্দেশনা দেয়া হয়।

জেলা যুবলীগের বর্ধিত সভায় প্রধান অতিথি কেন্দ্রীয় যুবলীগের যুগ্ম সম্পাদক সুব্রত পাল মূল বক্তব্য রাখেন। এছাড়া প্রধান বক্তা ছিলেন, কেন্দ্রীয় যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক শহিদুল হক চৌধুরী রাসেল, বিশেষ অতিথি জনশক্তি ও কর্মসংস্থান সম্পাদক শাহীন মালুম, কেন্দ্রীয় সদস্য মোঃ আল আমিন ও সাজু সাহা।

সভায় সোনারগাঁও উপজেলা যুবলীগের সভাপতি রফিকুল ইসলাম নান্নুকে কড়া ভাষায় সতর্ক করা হয়। কেন্দ্রীয় নেতারা নান্নুকে বলেন, নৌকাকে ডুবিয়ে রাজনীতি করা যাবে না। আপনার মত (নান্নু) নেতাদের কারণে কেন্দ্রীয় নেতারা সমালোচিত হয়। আপনি (নান্নু) নৌকা বিরুদ্ধে অবস্থান সহ পাহাড় সমতল হাজারো অভিযোগ রয়েছে আমাদের কাছে, সেগুলো সব প্রমাণ আছে। এখনো সময় আছে ভালো হয়ে রাজনীতি করুণ।

বন্দর উপজেলা যুবলীগের সভাপতি হাবিব আল মুজাহিদ পলু ছাড়া আর কাউকে যুবলীগ নেতা হিসেবে কোন কর্মসূচিতে দেখাও যায় না। পলু ছিলেন সর্বশেষ জেলা আইনজীবী সমিতির সেক্রেটারী। সভায় পলুকে উদ্দেশ্য করে বলেন, এ যে বন্দরের আহবায়ক পলু সাহেব এত বছরে পূর্ণাঙ্গ কমিটি করতে পারেন নাই এখন না পারলে দায়িত্ব ছেড়ে চলে যান। এক মাসের মধ্যে সভাপতি কাদির ও সেক্রেটারী বাদল ভাইয়ের সমন্বয়ে কমিটি দিয়ে দেন।

ফতুল্লা থানা যুবলীগ সভাপতি মীর সোহেল আলী ও সাধারণ সম্পাদক ফাইজুল ইসলাম একটু সক্রিয় থাকলেও সিদ্ধিরগঞ্জ থানা যুবলীগ বলতে আহ্বায়ক মতিউর রহমান মতিকেই চিনে। ইতোমধ্যে মীর সোহেল আলী হয়েছেন জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক। আড়াইহাজার ও রূপগঞ্জ যুবলীগের নেই তেমন কোন আলোচনা।

সভায় কেন্দ্রীয় নেতারা বলেন, ফতুল্লা যুবলীগের অবস্থা ভালো না, মীর সোহেল সাহেব এমপি শামীম ওসমানের কথা বলে এক মাসের মধ্যে ফতুল্লা যে সব ইউনিয়ন আছে, সেগুলো কমপ্লিট করুণ।

যুবলীগ নেতা মতিউর উদ্দেশ্যে বলেন, সিদ্ধিরগঞ্জ যখন সিটি কর্পোরেশন ভিতরে চলে গেছে, সেটা মহানগর যুবলীগের সভায় কথা বলবো। রূপগঞ্জ, আড়াইহাজার ও সোনারগাঁ যুবলীগের কমপ্লিট আছে এবং সাংগঠনিক চলমান শক্তিশালী। নারায়ণগঞ্জ সদর থানা কমিটি গঠনে জেলা সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক সহযোগিতা করবেন এবং যে সব ইউনিয়ন যুবলীগ কমিটি এখনো কমিটি হয়নি সেগুলো এক মাসের মধ্যে করার নিদের্শ দেয়া হলো।

এছাড়া সভায় এমপি শামীম ওসমান ও সিটি মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী পরামর্শ নিয়ে নারায়ণগঞ্জ জেলা যুবলীগের দ্রুত সম্মেলন করার জন্য জেলা সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে নির্দেশ দেন সুব্রত পাল। আজ এখানে অনেক অনুপস্থিত রয়েছে, অনেকে মারা গেছেন, আমরা সকলকে নিয়ে কমিটি করতে চাই। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জেলা যুবলীগকে শক্তিশালী সংগঠন গড়ে তুলতে হবে।

সবশেষ ২০০৫ সালে নারায়ণগঞ্জ জেলা যুবলীগের কমিটি গঠন করা হয়। সম্মেলনে আবদুল কাদির সভাপতি ও অ্যাডভোকেট আবু হাসনাত মোহাম্মদ শহীদ বাদল সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। বৈরি সময়ে ওই সম্মেলনে ছিল আওয়ামীলীগের দুই পক্ষের অবস্থান। এছাড়াও সম্মেলনে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করা জাকিরুল আলম হেলালকে করা হয় সিনিয়র সহ-সভাপতি, আসিফ হোসেন মানুকে সহ-সভাপতি ও শাহ নিজামকে করা হয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক। এরপর দীর্ঘ প্রায় ১৬ বছর পেরিয়ে গেলেও নতুন কোনো কমিটির কমিটির দেখা মিলছিল জেলা যুবলীগের।

তৎকালীন সময়ে জেলা যুবলীগের কমিটিতে পদে নেতারা অনেকেই মূল দলে ভিড়িয়েছেন। এদের মধ্যে শাহ নিজাম মহানগর আওয়ামীলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, জাকিরুল আলম হেলালকে সাংগঠনিক সম্পাদক করা হয়েছে। একইভাবে অন্যদিকে আবু হাসনাত মোহাম্মদ শহীদ বাদলকে জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছে। এছাড়াও জেলা যুবলীগ সভাপতি আবদুল কাদির জেলা আওয়ামীলীগের সহ সভাপতি পদে স্থান পেয়েছেন।

Islams Group
Islam's Group