News Narayanganj
Bongosoft Ltd.
ঢাকা মঙ্গলবার, ০৬ ডিসেম্বর, ২০২২, ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৯

যুবলীগের কমিটিতে আলোচনায় ৩


দ্যা নিউজ নারায়ণগঞ্জ ডটকম | স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ২৫, ২০২২, ১০:৪৮ পিএম যুবলীগের কমিটিতে আলোচনায় ৩

দীর্ঘ প্রায় এক যুগেরও বেশি সময় পরে নারায়ণগঞ্জ জেলা যুবলীগের নতুন কমিটির ঘোষণা আসতে যাচ্ছে। হয়তো আগামী মাসেই জেলা যুবলীগের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। যার মাধ্যমে জেলা যুবলীগের নতুন কমিটির ঘোষণা করা হবে।

তার আগে বর্ধিত সভার আহবান করা হয়েছে। ২৬ সেপ্টেম্বর শহরের দুই নং রেলগেইট এলাকার আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে বর্ধিত সভা অনুষ্ঠিত হবে। আর এই বর্ধিত সভাতে সম্মেলনের তারিখ ঘোষণা করা হবে সেই সাথে সম্ভাবনাময় নেতাদের নিয়ে আলোচনা করা হবে।

নারায়ণগঞ্জ জেলা যুবলীগের নতুন কমিটিকে কেন্দ্র করে আলোচনার শীর্ষে রয়েছেন ৩ জন। তারা হলেন জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি এহসানুল হাসান নিপু, জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট মোহসীন মিয়া ও মিনহাজুল কাদির মিমন।

তাদের মধ্যে নারায়ণগঞ্জ জেলা যুবলীগের সভাপতি পদে অনেক আগে থেকেই পরিপক্ক হিসেবে যোগ্যতার পরিচয় বহন করে করে আসছেন এহসানুল হাসান নিপু। যিনি এর আগে বেশ সুনামের সাথে জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। একই সাথে অ্যাডভোকেট মোহসীন মিয়াও ইতোমধ্যে জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করে বেশ যোগ্যতার পরিচয় দিয়েছেন। সে হিসেবে সাংগঠনিক বিবেচনায় তিনিও পিছিয়ে নেই।

পাশাপাশি মিনহাজুল কাদির মিমনের রাজনৈতিক পরিচিতি রয়েছেন। তার বাবা আব্দুল কাদিরের বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক ক্যরিয়ার রয়েছে। স্বচ্ছ রাজনীতিবিদ হিসেবে তার যথেষ্ট পরিচিতি রয়েছে। সে হিসেবে মিনহাজুল কাদির মিমন পিছিয়ে নেই।

দলীয় সূত্র বলছে, দীর্ঘ প্রায় এক যুগেরও বেশি সময় ধরে নারায়ণগঞ্জ জেলা যুবলীগের কমিটি  আটকে রয়েছে। বহু আগেই নারায়ণগঞ্জ জেলা যুবলীগ মুন্ডবিহীন হয়ে পড়েছে। শীর্ষ পদে থাকা নেতারা যৌবন থেকে বার্ধক্যে পরিণত হয়ে ঠাঁই নিয়েছেন জেলা আওয়ামী লীগে। এমতাবস্থায় নারায়ণগঞ্জ জেলা যুবলীগে যেন অচলাবস্থা চলছিল। নামেমাত্র কর্র্মসূচিতে দেখা দিলেও সাংগঠনিকভাবে তারা অনেক পিছিয়ে ছিলন।

সবশেষ ২০০৫ সালে নারায়ণগঞ্জ জেলা যুবলীগের কমিটি গঠন করা হয়। সম্মেলনে আবদুল কাদির সভাপতি ও অ্যাডভোকেট আবু হাসনাত মোহাম্মদ শহীদ বাদল সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। বৈরি সময়ে ওই সম্মেলনে ছিল আওয়ামীলীগের দুই পক্ষের অবস্থান। এছাড়াও সম্মেলনে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করা জাকিরুল আলম হেলালকে করা হয় সিনিয়র সহ-সভাপতি, আসিফ হোসেন মানুকে সহ-সভাপতি ও শাহ নিজামকে করা হয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক। এরপর দীর্ঘ প্রায় ১৬ বছর পেরিয়ে গেলেও নতুন কোনো কমিটির কমিটির দেখা মিলছিল জেলা যুবলীগের।

তৎকালীন সময়ে জেলা যুবলীগের কমিটিতে পদে নেতারা অনেকেই মূল দলে ভিড়িয়েছেন। এদের মধ্যে শাহ নিজাম মহানগর আওয়ামীলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, জাকিরুল আলম হেলালকে সাংগঠনিক সম্পাদক করা হয়েছে। একইভাবে অন্যদিকে আবু হাসনাত মোহাম্মদ শহীদ বাদলকে জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছে। এছাড়াও জেলা যুবলীগ সভাপতি আবদুল কাদির জেলা আওয়ামীলীগের সহ সভাপতি পদে স্থান পেয়েছেন।

ফলে জেলা যুবলীগের নেতৃত্ব দেয়ার মতো চলমান কমিটিতে অবশিষ্ট কেউই ছিল না। আলোচনায় থাকা প্রত্যেককেই মূল দলে জায়গা করে দেয়া হয়েছে। নতুন পদপ্রত্যাশী নেতারাও অপেক্ষার প্রহর যেন শেষ হচ্ছিল না।

সেই সাথে জেলা যুবলীগের নিয়ন্ত্রণে থাকা থানা কমিটিগুলোতেও যুবলীগের করুণ অবস্থা চলছে। সোনারগাঁও উপজেলা যুবলীগের সভাপতি ছিলেন গাজী মজিবুর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক ছিলেন শাহআলম রুপম। কিন্তু জেলা যুবলীগ ওই কমিটি গঠনের দায়িত্বে থাকলেও রহস্যজনক কারণে কেন্দ্রীয় যুবলীগ বিতর্কিত রফিকুল ইসলাম নান্নুকে আহ্বায়ক করে সোনারগাঁ উপজেলা যুবলীগের আহ্বায়ক কমিটি গঠন করে দেয়। ওই কমিটি গঠনের বিষয়ে গাজী মজিবুর রহমান আদালতে একটি ঘোষণামূলক মামলাও দায়ের করেছিলেন।

বন্দর উপজেলা যুবলীগের সভাপতি হাবিব আল মুজাহিদ পলু। এছাড়াও আর কাউকে যুবলীগ নেতা হিসেবে কোন কর্মসূচিতে দেখাও যায়না। পলু ছিলেন সবশেষ জেলা আইনজীবী সমিতির সেক্রেটারী।

ফতুল্লা থানা যুবলীগ সভাপতি মীর সোহেল আলী ও সাধারণ সম্পাদক ফাইজুল ইসলাম একটু সক্রিয় থাকলেও সিদ্ধিরগঞ্জ থানা যুবলীগ বলতে আহ্বায়ক মতিউর রহমান মতিকেই চিনে। ইতোমধ্যে মীর সোহেল আলী হয়েছেন জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক। আড়াইহাজার ও রূপগঞ্জ যুবলীগের নেই তেমন কোন আলোচনা।

আর এমতাববস্থায় নারায়ণগঞ্জ জেলা যুবলীগে যেন অচলাবস্থা চলে আসছিল। সাংগঠনিকভাবে তাদের কোনো ভিত্তি গড়ে উঠছিল না। তৃণমূল পর্যায়ে কর্মী সমর্থক বিহীন হয়ে পড়েছে যুবলীগ। অথচ এই জেলা যুবলীগের বিএনপির জোট সরকার আমল থেকে শুরু করে ১/১১ এর কঠিন সময়ে আন্দোলন সংগ্রামে বেশ ভূমিকা রেখেছিল। আর ক্ষমতাসীন থাকাবস্থায় সেই যুবলীগ এখন প্রায় অস্তিত্বহীন হয়ে পড়েছিল। টানা তিন মেয়াদ ধরে ক্ষমতায় রয়েছেন আওয়ামী লীগ। তিন মেয়াদ ধরে ক্ষমতায় থেকেও নারায়ণগঞ্জ জেলা যুবলীগের কমিটি যেন নবায়ন করা সম্ভব হয়ে উঠছিল না।

তবে নারায়ণগঞ্জ জেলা যুবলীগের নতুন কমিটি নিয়ে আলোচনা সরগরম হওয়ায় আবার পদপ্রত্যাশী নেতারা নতুন উদ্যোমে জাগ্রত হয়ে উঠছেন। সম্ভাবনা দেখছেন নেতৃত্ব দেয়ার।

Islams Group
Islam's Group