News Narayanganj
Bongosoft Ltd.
ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২২, ১৪ আশ্বিন ১৪২৯

সাখাওয়াতের পকেটে যেভাবে ২ কোটি (ভিডিও)


দ্যা নিউজ নারায়ণগঞ্জ ডটকম | স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২২, ১১:২৯ পিএম

নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ২০১৬ সালের নির্বাচনে বিএনপির ধানের শীষের প্রার্থী হয়েছিলেন অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান। সেসময় নির্বাচনের মনোনয়ন পাবার আগ থেকে নির্বাচনের শেষ পর্যন্ত তার পাশে ছিলেন অ্যাডভোকেট আবু আল ইউসুফ খান টিপু। তবে নির্বাচনের পর শুরু হয় দুজনের সম্পর্কের বৈরিতা। সেই থেকে দূরত্ব আসে তাদের মধ্যে।

তবে সেই দূরত্বের অবসান হয় সাখাওয়াত ও টিপুকে আহবায়ক ও সদস্য সচিব করে নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির কমিটি ঘোষণায়।

জানা যায়, বিদ্যমান কমিটি বিলুপ্ত করে নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির ৪১ সদস্য বিশিষ্ট আহ্বায়ক কমিটি অনুমোদন করা হয়েছে মঙ্গলবার (১৩ সেপ্টেম্বর)। দলের বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর সই করা সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

দলীয় সুত্রমতে, ২০১৬ সালের নাসিক নির্বাচনে সাখাওয়াত মনোনয়ন পাবার আগ থেকেই তার পাশে ছিলেন টিপু। নিজে পাশে থেকে পুরো নির্বাচনে সহযোগিতা করেন টিপু। তার নিয়ন্ত্রণে ছিল নির্বাচনের সকল কিছু। নির্বাচনের পরেও দুজনের সম্পর্ক ছিল বেশ ভালো। তবে বাদ সাধে হঠাৎ ২ কোটির একটি অভিযোগ! হুট করেই নির্বাচনে বিভিন্ন স্থান থেকে এবং ক্ষমতাসীনদের কাছ থেকে সাখাওয়াত অর্থ নিয়েছেন বলে অভিযোগ তোলেন টিপু। সেই অভিযোগ উঠার পর বিভিন্ন গণমাধ্যম ও টকশোতে নিজের কথা পক্ষে নানা যুক্তি উপস্থাপন করে সাখাওয়াতকে এ বিষয়ে প্রমাণ দিতে বলেন তিনি। এ থেকে তৈরী হয় দূরত্ব। সেই দূরত্ব থেকে টিপু সাখাওয়াতকে মহানগর বিএনপির সর্বশেষ কমিটির নানা কর্মসূচীতে দূরে রাখতেন। শেষ কমিটির সভাপতি সাবেক সংসদ সদস্য আবুল কালামকে নিজের আয়ত্তে নিয়ে সেখান থেকে সাখাওয়াতকে মাইনাস করেন টিপু। দলের কর্মসূচীতে অনেক সময় সাখাওয়াতকে জানাতেন না টিপু এমন অভিযোগ করেছেন সাখাওয়াত। তবে দলের কেন্দ্রের চাপে সর্বশেষ কর্মসূচীগুলো একসাথে পালন করতে হয়েছে তাদের।

সবশেষ এক অনুষ্ঠানে আবু আল ইউসুফ খাঁন টিপু বলেন, সাখাওয়াত হোসেন ছাত্র রাজনীতি, যুব রাজনীতি কিংবা মহানগর বিএনপির কোন রাজনীতিতে ছিল না। যখন নির্বাচন আসলো তখন আমি তৈমূর আলম খন্দকার, আবুল কালাম এবং গিয়াসউদ্দিন সাহেবকে অনুরোধ করেছি নির্বাচন করার জন্য। কিন্তু তারা কেউ রাজি হয়নি। সেই সময়ে সাখাওয়াত হোসেন খানের সাথে অ্যাডভোকেট হওয়ার সুবাদে আমার সুসম্পর্ক ছিলো। সে আমাকে বললো আমি নির্বাচন করতে চাই। আমি বললাম নির্বাচন করতে তো ফান্ড লাগবে। সে বললো আমি ১ কোটি টাকা খরচ করতে পারবো। তখন পর্যন্ত তাকে কেউ চিনে না। আমি ম্যাডাম আর মহাসচিবের সামনে ৪৫ মিনিট কথা বললাম তাকে নমিনেশন দেয়ার জন্য। আমাকে ম্যাডাম জিজ্ঞাসা করলো কত বছর ধরে আছো এই দলে? আমি বললাম আমি ৩৪ বছর ধরে বিএনপি করছি। তিনি শুনে শিমুল বিশ্বাসকে বললেন ওকে একটা চেয়ার দেও। আমি তার পাশে বসলাম। ম্যাডাম আমাকে বললো কাকে নমিনেশন দিলে ভালো হবে? কাকে তুমি বিজয়ী করে আনতে পারবে? আমি কথা বলার সময় সোনারগাঁ বিএনপির মান্নান আমার কথা কেড়ে নিচ্ছিলো। ম্যাডাম তাকে ধমক দিয়ে বললো তুমি থাকো সোনারগাঁয়, আর ও থাকে সিটিতে। তোমার থেকে ও ভালো বলতে পারবে। আমি তখন বলুলাম, ম্যাডাম সাখাওয়াত ৭ মার্ডার মামলায় নেতৃত্ব দিয়েছে, বেশ কয়েকবার আইনজীবী সমিতির সভাপতি ছিলো। ম্যাডাম এই কথা শুনে আমার সামনেই মহাসচিবকে বললেন, এই ফখরুল সাখাওয়াতকে নমিনেশন দিয়ে দাও। তাকে যখন নমিনেশন এনে দিলাম তখন নারায়ণগঞ্জের সিনিয়র নেতারা আমার উপর ক্ষুব্ধ হয়। অথচ ম্যাডামকে আশ্বাস দেয়া হয়েছিলো যে সাখাওয়াতকে নমিনেশন দিলে সে অবশ্যই বিজয়ী হবে। ম্যাডাম তৎকালীন দলের মিডিয়া উইং শাইরুলকে বললো আমার সাথে যেন ২৪ ঘণ্টা কন্ট্রাক রাখে। নির্বাচনের মনোনয়ন যখন চূড়ান্ত হলো তারপর ১৫ দিন কোন নেতা তার পাশে আসে না। আমি তাকে নিয়ে ২৭টা ওয়ার্ডের মসজিদে মসজিদে নামাজ পরে সেই এলাকায় ঘুরেছি। ৫ ওয়াক্ত নামাজে নিয়ে তাকে প্রচারণা চালিয়েছি। ৩ দিন পর সে বলে আমার কাছে টাকা নাই তুমি ম্যাডামের কাছে টাকা চাও। আমি শাইরুল ভাইকে বলার পর সে বলে, সাখাওয়াত না বললো ১ কোটি খরচ করবে? তাহলে তার টাকা কোথায়? তারপরে ম্যাডামকে অনুরোধ করে টাকা আনিয়েছি।

বিএনপির নির্বাচনের দায়িত্ব পালনের বিষয়ে তিনি বলেন, সাখাওয়াতের পুরো নির্বাচনী কার্যক্রমে আমি অলিখিতভাবে প্রধান সমন্বয়কারী হয়ে গেলাম। কে কোন ওয়ার্ডে যাবে, কে কোথায় প্রচারণা চালাবে, কোথায় লিফলেট পোস্টার যাবে সব আমি দেখভাল করেছি।  হঠাৎ নেতাকর্মীরা বললো সাখাওয়াত সারাদিন প্রচারণা চালিয়ে ক্লাবের সামনে নেমে যায়, আমাদের খাওয়ার ব্যবস্থা করে না। আমি তাকে বললাম, এইটা কি? কর্মীদের না খাওয়ালে কিভাবে হবে? তারপরে নির্বাচন হলো, আমরা ফেল করলাম। ইলেকশনের পরে আমার কাছে খবর আসলো সে একটা পক্ষ থেকে টাকা নিয়েছে ২ কোটি টাকা। তাছাড়া দলের শুভাকাংখীরা দলের নির্বাচনের তহবিল ফান্ডে বেশ কিছু অর্থ দিয়ে সহায়তা করে। সেই টাকাও সে নির্বাচনে খরচ করেনি। দেখলাম নেতাকর্মীরা হতাশ। ম্যাডাম নির্বাচনের জন্য বিশাল বাজেট পাঠিয়েছিলো যা দিয়ে আমরা মাঠ গরম সহ নির্বাচনের কাজে মাঠে ছিলাম। আর সে একপক্ষের থেকে ২ কোটি টাকা আর বিএনপি মাইন্ডের ব্যবসায়ীদের টাকা সে আর খরচ করেনি। এটা শুনে আমার বিবেকে খুবই বেঁধেছে। আমার কথা হচ্ছে, তুমি নির্বাচন করলা, এত পরিচিত হলো, কিন্তু ১ কোটি টাকার কথা বলে ৫ লাখ টাকাও খরচ করো নাই।

Islams Group
Islam's Group