News Narayanganj
Bongosoft Ltd.
ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২২, ১৪ আশ্বিন ১৪২৯

সেই সেলিমের জন্য অপেক্ষায় থাকতো শামীম ওসমান


দ্যা নিউজ নারায়ণগঞ্জ ডটকম | স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ৮, ২০২২, ১১:৩৩ পিএম সেই সেলিমের জন্য অপেক্ষায় থাকতো শামীম ওসমান

‘১৯৯৬ হতে ২০০১। তখন ক্ষমতায় আওয়ামী লীগ। নানা ইস্যুতে তখন নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন স্থানে চলতো সভা সমাবেশ। তবে সবগুলো সমাবেশেই ওই সময়কার প্রভাবশালী শামীম ওসমানকে কিছু একটার জন্য বেশ অপেক্ষামান দেখা যেন। মঞ্চে উঠে হাতে থাকা মুঠোফোনে ব্যস্ততার পাশাপাশি বার বার প্রবেশদ্বারের দিকেই থাকতো তীক্ষ্ম দৃষ্টি। যখনই একটি মিছিল দেখতো তখনই তাঁর মলিন মুখে আসতো কোমলতা। উচ্ছ্বাসিত শামীম ওসমান তখনই মাথা নেড়ে জানাতো ‘এবার সভা শুরু করা যেতে পারে।’ সেই অপেক্ষার প্রহরের তীঁরে থাকা ব্যক্তিটির নাম ছিল এস এম সেলিম। আর তাঁর জন্যই বিলম্ব হতো অনেক সভার কাজ। কারণ সভা সমাবেশের স্থান পরিপূর্ণ করতে সেলিমের কোন বিকল্প ছিল না।’

কথাগুলো স্মরণ করে বলছিলেন নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার মাসদাইর এলাকার একজন আওয়ামী লীগের পোড় খাওয়া কর্মী। সেই সেলিমকে স্মরণ করেই বিগত দিনের স্মৃতি হাতড়ে বেড়ান তিনি। স্মরণ করিয়ে দেন, বেঁচে থাকলে এখনো সেই বৃহৎ মিছিল নিয়েই শামীম ওসমানকে সন্তষ্ট করতে পারতেন তিনি। কারণ সেলিম ছিলেন শামীম ওসমানের আস্থাভাজন সেই সঙ্গে আওয়ামী লীগের একজন একনিষ্ট কর্মী। এলাকাতে তিনি টাওয়ার সেলিম হিসেবেই পরিচিত।

সেলিমের অভাব এখনো কদাচিৎ অনুভব হয় আওয়ামী লীগের ভেতরে। তবে এক সময়ে আওয়ামী লীগের ‘প্রাণ’ হিসেবে পরিচয় পাওয়া সেলিমের মৃত্যু নিয়েও আছে পরিবার আর আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের আক্ষেপ। তাদের অভিযোগ শুধুমাত্র শামীম ওসমানের জন্য আত্মত্যাগের জন্য প্রস্তুত থাকা সেলিমের প্রাণ নিয়েছিল বিএনপি সরকারের আমলে। কোন ধরনের অভিযোগ না থাকার পরেও শুধুমাত্র শামীম ওসমানের ‘সৈনিক’ হওয়ার কারণেই বিচার বহির্ভূতভাবে তাকে হত্যা করা হয়েছে যার কোন বিচার হয়নি। সে ক্ষোভ এখনো অনেককে বেদনার্ত করে তুলে। কখনো কখনো সেই আক্ষেপে চোখের নোনা জল ফেলে এক সময়ের সহকর্মী, সহযোদ্ধা আর রাজনৈতিক কর্মীরা যাঁরা এখন হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছে একজন ‘বন্ধু’ একজন ‘বড় ভাই’ একজন ‘লিডারকে।’

রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টর জানান, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে শামীম ওসমান প্রায়শই মাসদাইর এলাকাতে যেত। কিন্তু গত ১৭ বছরে সেটা অনেক কমে এসেছে। সেখানকার লোকজনদের মতে, সেলিম না থাকার কারণেই হয়তো শামীম ওসমানের মাসদাইর গমন কমে গেছে। কারণ শামীম ওসমান এর আগেও কয়েকবার সমাবেশে বলেছেন, ‘আমি অনেক ভাই সৃষ্টি করেছি। কিন্তু অনেকেই এখন আর নেই। নেই আমার সারোয়ার, মাকসুদ, লাল, সুইট। এখনো তাদের জন্য আমার হৃদয় কাঁদে।’

এস এম সেলিম। পশ্চিম মাসদাইরের বাসিন্দা। ভাই-বোনদের মধ্যে সবার ছোট। আওয়ামীলীগের ঝান্ডা ধরেছিলেন কলেজ জীবন থেকে। ৯৬ সালে নারায়ণগঞ্জ আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক ও নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের এমপি শামীম ওসমানের খুব আস্থাভাজন কর্মী ছিল। মিটিংয়ে মিছিলে, সভা-সমাবেশে ফতুল্লা তথা এনায়েতনগর ও কাশীপুর এলাকার লোক সমাগমে তার কোন বিকল্প ছিল না।

ছেলের জন্য চোখের জল ফেলতে ফেলতে মায়ের চোখের জল শুকিয়ে ২০১৫ সালের ফেব্রুয়ারীতে চলে গেছেন না ফেরার দেশে। ২০০৫ সালে বিএনপি ক্ষমতায় থাকাকালীন ৯ সেপ্টেম্বর আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর ক্রসফায়ারে নিহত হন তিনি।

ক্রস ফায়ারের ভয়ে ঢাকায় আগে থেকেই আত্মগোপনে ছিল সেলিম। সেই ঢাকা থেকে আটক করে আনলে আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর ভাষ্যমতে সেলিমের সহযোগীদের সাথে র‌্যাবের ক্রসফায়ারে নিহত হয় সেলিম। তবে পরিবারের অভিযোগ আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ষড়যন্ত্র করে তাকে ধরে এনে ব্যাপক নির্যাতন করে তাকে গুলি করে মারা হয়েছে। মৃত্যুর পর তার শরীরে অনেক আঘাতের চিহ্ন ছিল বলেও জানায় পরিবারের সদস্যরা।

পরিবারের অভিযোগ, তাকে মারার ২ মাস আগে থেকেই বিএনপি দলীয় জাকির খান সমর্থিত কর্মীরা, হাসান আহমেদ সমর্থিত কর্মীরা তাদের উপর ব্যাপক অত্যাচার নির্যাতন চালায়। আরও অভিযোগ রয়েছে তৎকালীন নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের বিএনপির সংসদ সদস্য গিয়াসউদ্দিন এলাকায় প্রভাব বিস্তার, জমি সংক্রান্ত দূরত্ব এবং রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে সেলিমকে ঘায়েলের জন্য ব্যস্ত ছিল।

এদিকে তাকে হত্যা করা হলেও সেলিমের নামে কোন থানায় কোন মামলা ছিলনা। গুরুতর কোন অভিযোগ ছাড়াই শুধু মাত্র রাজনৈতিক কারণে তাকে জীবন দিতে হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

সেলিমের বাবা, মা বর্তমানে কেউ বেঁচে নেই। বাবা এনায়েতনগর ইউনিয়ন পরিষদের প্রাক্তন চেয়ারম্যান আফাজউদ্দিনের এবং মা আম্বিয়া খাতুনের চার ছেলের মধ্যে সেলিম ছিল সবচেয়ে আদরের ছোট ছেলে। সেলিমের ৬ বোনের মধ্যে বর্তমানে পাঁচ বোন জীবিত রয়েছে।

Islams Group
Islam's Group