News Narayanganj
Bongosoft Ltd.
ঢাকা মঙ্গলবার, ২৮ নভেম্বর, ২০২৩, ১৪ অগ্রহায়ণ ১৪৩০

তৈমূরের সহযোগীরা ক্ষুব্ধ


দ্যা নিউজ নারায়ণগঞ্জ ডটকম | স্টাফ রিপোর্টার : প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ২১, ২০২৩, ১১:২১ পিএম তৈমূরের সহযোগীরা ক্ষুব্ধ

নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে তৈমূর আলম খন্দকারের পক্ষে প্রচার প্রচারণা ও নির্বাচনী দায়িত্ব পালন করেছিলেন বেশ কয়েকজন বিএনপি নেতা। যাদের মধ্যে কয়েকজন সরাসরি মুখপাত্র ও নির্বাচনী সমন্বয়ক হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছিলেন। নির্বাচন শেষে তৈমূর আলমের পক্ষে থাকায় দলের রোষানলের শিকারও হতে হয়েছে তাদের। শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত তৈমূরের পক্ষে থাকা নেতারা বিব্রত হয়েছেন তৃণমূল বিএনপিতে যোগদানের খবরে। কেউ কেউ তাকে লোভী ও সুবিধাবাদী বলতেও ভুল করেননি।

নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে তৈমূর আলম খন্দকারের প্রধান নির্বাচনী সমন্বয়ক ছিলেন সাবেক মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এটিএম কামাল। নির্বাচন শেষ হবার পর তৈমূর আলম খন্দকারের সাথে তাকেও দল থেকে বহিষ্কার করা হয়। এছাড়া সিদ্ধিরগঞ্জ অঞ্চলের সমন্বয়ক ছিলেন জেলা বিএনপির সাবেক ভারপ্রাপ্ত আহবায়ক মনিরুল ইসলাম রবি, সাবেক মহানগর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সবুর খান সেন্টু এবং বর্তমান মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব আবু আল ইউসুফ খান টিপু।

উল্লেখযোগ্য চার নেতার মধ্যে তৈমূরের সাথে পদ হারিয়েছেন কেবল এটিএম কামাল। পদ হারাবার পরেই সস্ত্রীক পাড়ি জমিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রে। তৈমূর আলম খন্দকারের দল পরিবর্তনের বিষয়ে কামাল বলেন, ‘তৈমূর ভাইয়ের সাথে নির্বাচনে কাজ করে পদ হারিয়েছি। আজ তৈমূর ভাই কিভাবে দল চেঞ্জ করলেন তা আমার বুঝে আসে না। তিনি যেটা করেছেন সেটা তার ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তে করেছেন। কিন্তু আমার পক্ষে এই ধরনের সিদ্ধান্ত সমর্থন করা বা সেটা অনুসরণ করা কোনদিন সম্ভব নয়। বিএনপি থেকে বহিষ্কার করতে পারে, সমর্থক থেকে বহিষ্কার করার সুযোগ নেই। আমি আজীবন বিএনপির সমর্থক হিসেবে কাজ করে যাব।’

তৈমূর আলম খন্দকারের নির্বাচনে সিদ্ধিরগঞ্জ সমন্বয়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করা অবস্থায় পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার করে কারাগারে যান সাবেক জেলা বিএনপির আহবায়ক মনিরুল ইসলাম রবি। নির্বাচন শেষ হবার পরে জামিনে বেরিয়ে আসতে পারেন তিনি। দল থেকে বলা হয়, নির্বাচনে কাজ করার কারণেই ক্ষমতাসীনদের রোষানলে পড়তে হয়েছে তাকে। যেই নেতার জন্য জেল খেটেছেন তার দল পরিবর্তনে ক্ষুব্ধ হয়েছেন রবি। তিনি বলেন, ‘সে আমাদের দলের লোক ছিল না। সে আওয়ামী লীগ করতো, সেখান থেকে তাকে দলে আনা হয়েছিল। সে বিএনপি থেকে সকল বেনিফিট নিয়েছে। পাঁচ বছর বিআরটিসির চেয়ারম্যান ছিল, দুই বার জেলা বিএনপির সভাপতি, একবার সেক্রেটারি, একবার আহবায়ক ছিল। তার তো প্রাপ্তির শেষ নেই। দলে যতদিন সুবিধা পেয়েছে, থেকেছে। এখন সুবিধা পায় না, তাই চলে গেছে। এরা সবসময়েই সুবিধাবাদী মানুষ।’

তৈমূরকে বিশ্বাসঘাতক উল্লেখ করে সাবেক মহানগর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক আব্দুস সবুর খান সেন্টু বলেন, ‘শেখ হাসিনার গদিকে চিরস্থায়ী রূপ দেওয়ার জন্য তৃণমূল বিএনপিকে দিয়ে নির্বাচনে পুতুল বিরোধী দল বানাবেন। যারা এই জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে তাঁদেরকে বিশ্বাসঘাতক হিসাবে চিহ্নিত করা হবে। তৃণমূল বিএনপির নেতারা চিহ্নিত বিশ্বাসঘাতক। বিএনপির কোন নেতাকর্মী দলের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করতে পারে না। তৈমূর আলম খন্দকার এই কাজ করে নিজেকে জাতির বিপরীতে দাঁড় করিয়েছেন। তারা ইতিহাসের আস্তাকুড়ে নিক্ষিপ্ত হবে।’

তৈমূর আলম খন্দকারের একসময়ের সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ নেতা ও বর্তমান মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব ইউসুফ খান টিপু বলেন, ‘আমি তার আদর্শের রাজনীতি করি নাই। আমি করেছি জিয়ার আদর্শের রাজনীতি। সে আওয়ামী লীগ থেকে এসেছে, আবার আওয়ামী লীগ লালিত তৃণমূল বিএনপিতে চলে গেছে। তাকে লোভ লালসা পেয়ে বসেছে। মন্ত্রী এমপি হওয়ার জন্য বেঈমানি করেছে। সে এখন আওয়ামী লীগের দালালি করে মন্ত্রী এমপি হবে। আমাদের পক্ষে এমন কাজ করা সম্ভব না।’

উল্লেখ্য, তৈমূর আলম খন্দকার বিলুপ্ত নারায়ণগঞ্জ পৌরসভার প্রয়াত চেয়ারম্যান আলী আহাম্মদ চুনকার (মেয়র আইভীর বাবা) অনুসারী ছিলেন। সেসময় চুনকার সাথেই রাজনীতি করতেন। পরবর্তীতে তিনি বিএনপিতে যোগদান করেন। নারায়ণগঞ্জ সিটি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করার আগ পর্যন্ত জেলা বিএনপির আহবায়ক ও চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা পদে ছিলেন। দলীয় সিদ্ধান্ত ভঙ্গ করার কারণে তাকে বিএনপি থেকে বহিষ্কার করা হয়।

Islams Group
Islam's Group