News Narayanganj
Bongosoft Ltd.
ঢাকা শনিবার, ১০ জুন, ২০২৩, ২৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩০

খান সাহেবের বাহিনীতে ফাটল


দ্যা নিউজ নারায়ণগঞ্জ ডটকম | স্টাফ রিপোর্টার : প্রকাশিত: মে ২১, ২০২৩, ১১:০৬ পিএম খান সাহেবের বাহিনীতে ফাটল

বন্দরে ছাত্রলীগের সাবেক নেতা ও বর্তমান যুবলীগের রাজনীতি করা খান মাসুদ কার্যত বিপাকে রয়েছে। তার হাতে গড়া অনুগামী বাহিনীরাও এখন ছত্রভঙ্গ। স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে শীতলক্ষ্যা নদীর পূর্ব তীরে অর্থাৎ বন্দরে খেয়াঘাট বেবিষ্ট্যান্ড, যাত্রি ছাউনী, যুবরাজ মার্কেটের সড়কের পাশে অবৈধভাবে দখল নিয়ে মৃদুমন্দ হাওয়া বইছে খাঁন মাসুদ বাহিনীর মধ্যে।

সবশেষ ৯ মে বিআইডব্লিউটিএ’র উচ্ছেদ অভিযানে ভাঙ্গা পড়েছে খান মাসুদের সাম্রাজ্য। বন্দর ঘাট এলাকায় গড়ে উঠা অস্থায়ী দোকানপাট, স্ট্যান্ডসহ আশেপাশের সবকিছুই চলে খান মাসুদের ইশারায়। এক রাতের ব্যবধানে পাল্টে যায় পুরো চিত্র। অবৈধ বাজার, দোকানপাটবিহীন উন্মুক্ত এক ঘাট দেখতে পান বন্দরবাসী। যেখানে এই ঘাটটি বছরের অধিকাংশ সময় জুড়েই থাকে দখলদারদের কবলে।

কিছুদিন আগেও এমপি সেলিম ওসমান এ খান মাসুদের বিরুদ্ধে পরোক্ষ বক্তব্য দিয়েছেন। আবার শামীম ওসমানের অনুগামীরা তার পক্ষে গিয়ে সমাবেশ করছে।

একাধিকবার তিনি গ্রেফতারও হন। মিছিল মিটিংয়ে অতিরিক্ত সংখ্যক লোক সমাগম করা তার সবচেয়ে বড় পুঁিজ। নেতাদের নজর কাড়তে তিনি এ কৌশলী উদ্যোগ সব সময়ই করে থাকেন। খাঁন মাসুদের অতিরিক্ত লোক সমাগমে দুই বিতর্কিত যুবক নেতৃত্ব দিয়ে থাকেন তারা হচ্ছেন চিনারদী রাজু ওরফে চুল্যা রাজু ও আরেকজন হচ্ছে নুরবাগ এলাকার চিনারদী রাজু ওরফে ষ্ট্যান্ড রাজু। এদের মধ্যে দুই রাজুকে খান মাসুদের দুই বন্ধু নিয়ন্ত্রন করত। চিনারদী রাজু ওরফে চুল্যা রাজুকে নিয়ন্ত্রন করত খান মাসুদের ঘনিষ্ট বন্ধু ডালিম হায়দার আর নূরবাগ এলাকার চিনারদী রাজু ওরফে স্ট্যান্ড রাজুকে নিয়ন্ত্রন করত খান মাসুদের আরেক বন্ধু মাসুম আহমেদ। তবে দুই রাজুর নামেই হত্যা, মারামারিসহ অসংখ্য মামলা রয়েছে। এদের রয়েছে আলাদা আলাদা একাধিক গ্রুপ। এই দুই রাজুর কারনেই খান মাসুদের মিছিলে হাজার যুবকের সমাগম হত। যা সকলেরই নজর কাড়ত। ইদানিং দুই রাজুর মধ্যে সৃষ্ট দ্বন্দ্বের জেরে হত্যাকান্ডসহ অনাকাঙ্খিত ঘটনায় চাপে পড়ে দুইজনকেই দূরে রেখেছেন খাঁন মাসুদ।

এদিকে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, খাঁন মাসুদের ঘনিষ্ট বন্ধু মাসুম আহমেদ দীর্ঘ ১৫বছর এই খেয়াঘাটে সিএনজি স্ট্যান্ডে অবৈধভাবে বাজার, যাত্রি ছাউনীতে দোকান, সড়কের পাশে টং দোকান বসিয়ে নিয়ন্ত্রন করত। আর খান মাসুদের সহযোগী আরেক বন্ধু ডালিম হায়দার মাসুমকে সহযোগিতা করত। সব টাকাই মাসুমের একাউন্টে যেত। এসব দোকান থেকে প্রতিদিনই চাঁদা আদায় করত লক্ষ লক্ষ টাকা। এসব দোকানে রাতের বেলায় অবৈধ বিদ্যুৎ ব্যবহার করে বিদ্যুতের পুকুর চুরি হত। আবার ওই বিদ্যুতের জন্যও দোকানীদের দিতে হত অতিরিক্ত টাকা।

তবে দুই বন্ধু মাসুম ও ডালিমের মধ্যে স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে যখন মতানৈক্য দেখা দেয় তখনই ফাটলের সৃষ্টি হয়। দুজনই আলাদা গ্রুপ তৈরী করে খাঁন মাসুদের কাছে আকৃষ্ট হওয়ার চেষ্টা করত।

ডালিম হায়দার বর্তমান সময়ে খান মাসুদকে এককভাবে পরামর্শ দিয়ে সকল কাজের তদারকি লুফে নেয় । অন্যদিকে আমিন আবাসিক পঞ্চায়েত কমিটির সাবেক সাধারন সম্পাদক লুৎফর রহমানও খান মাসুদের ঘনিষ্ট বন্ধু ছিল। খান মাসুদই আমিন আবাসিক পঞ্চায়েত কমিটির নেতৃত্ব পাইয়ে দিয়েছিল লুৎফরকে। বর্তমানে খান মাসুদের বাহিনীর মধ্যে মৃদুমন্দ হাওয়া বিরাজ করছে বলে জানা যায়।

Islams Group
Islam's Group