News Narayanganj
Bongosoft Ltd.
ঢাকা সোমবার, ৩০ জানুয়ারি, ২০২৩, ১৬ মাঘ ১৪২৯
নারায়ণগঞ্জ জেলার ৫টি সংসদীয় আসন

শিল্পপতিদের টার্গেট এমপি


দ্যা নিউজ নারায়ণগঞ্জ ডটকম | স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট প্রকাশিত: জানুয়ারি ২২, ২০২৩, ১০:৪৯ পিএম শিল্পপতিদের টার্গেট এমপি

আসছে জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজধানীর পাশের নারায়ণগঞ্জ জেলার নির্বাচনী আসনগুলোতে শুরু হয়েছে নানা ধরনের মেরুকরণ। সম্ভাব্য প্রার্থীরা ইতোমধ্যে নিজেদের জাগিয়ে তুলে ধরার চেষ্টা শুরু করেছেন। বছরের শুরু থেকেই জেলার ৫টি নির্বাচনী আসনে দুটি বৃহৎ রাজনৈতিক দলের প্রার্থীরা নিজেদের মেলে ধরার চেষ্টা করছেন। সংশ্লিষ্টরা জানান, এসব মেলে ধরার প্রার্থীদের মধ্যে শিল্পপতিদের একটি আধিক্য রয়েছে। তাদের কেউ কেউ সরাসরি প্রার্থীতায় আগ্রহ তুলে ধরছেন আবার কেউ কেউ নিজেদের সক্রিয় রেখে অনুগামীদের মাধ্যমে একটি ক্ষেত্র তৈরির চেষ্টা করছেন। তবে আগামী কয়েক মাসের মধ্যেই তাদের অবস্থান আরো পরিস্কার হয়ে যাবে।

নারায়ণগঞ্জ-১ তথা রূপগঞ্জ আসনে আওয়ামী লীগের বর্তমান এমপি হলেন গোলাম দস্তগীর গাজী। তিনি একই সঙ্গে বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী। এ আসনে গত সংসদ নির্বাচনে মনোনয়নের জন্য চেষ্টা করেছিলে রঙধনুর চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম। তবে আসছে নির্বাচনকে সামনে রেখে হঠাৎ করেই সেখানে তৎপরতা দেখা যাচ্ছে বসুন্ধরা গ্রুপকে। এরই মধ্যে এ গ্রুপের চেয়ারম্যান আকবর সোবহান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সায়েম সোহবান আনভীরকে দেখা গেছে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার রূপগঞ্জ আগমন উপলক্ষ্যে এ গ্রুপের প্রচারণা ও প্রস্তুতি রীতিমত চোখে পড়ার মত। এরই মধ্যে রূপগঞ্জের আওয়ামী লীগের নেতাদের সঙ্গে বসুন্ধরার চেয়ারম্যানের সাক্ষাৎ হয়েছে। সেখানে নারায়ণগঞ্জের প্রভাবশালী এমপি শামীম ওসমানকেও দেখা গেছে। এছাড়া উপজেলা চেয়ারম্যান শাহজাহান ভূইয়া ও ইউনিয়ন পরিষদের কয়েকজন চেয়ারম্যানকেও দেখা গেছে ওইসব সভাতে। ফলে এ নিয়ে দেখা দিয়েছে নানা প্রশ্ন। যদিও রূপগঞ্জের একাধিক লোকজন মনে করছেন নির্বাচনের আগে বসুন্ধরা গ্রুপ নিজেদের আরো জোরালো গা ঝাড়া দিবে।

একই আসনে বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থী দলের কেন্দ্রীয় নেতা মোস্তাফিজুর রহমান ভূইয়া দিপু। তিনি আগামী নির্বাচনে বিএনপির টিকেট পাবেন অনেকটাই নিশ্চিত। তবে নির্বাচনের বছরে এসে হঠাৎ করে রাজনীতি থেকে নির্বাসনে যাওয়ার ঘোষণা দেওয়া গত নির্বাচনে বিএনপির নির্বাচন করা জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি মনিরুজ্জামান মনির। শিল্পপতি এ নেতা গত চার বছরে নিজেকে গুটিয়ে নিলেও হঠাৎ করে এবার সক্রিয় হতে শুরু করেছেন।

নারায়ণগঞ্জ-৩ তথা সোনারগাঁও আসনে বর্তমান এমপি জাতীয় পার্টির লিয়াকত হোসেন খোকা। তিনি টানা দুইবারের এমপি। আসছে নির্বাচনেও তিনি লড়বেন। সেখানে এরই মধ্যে হঠাৎ করে সরব করে তুলেছেন ব্যবসায়ী নেতা বজলুর রহমান। গত নির্বাচনের আগেও তিনি চেয়েছিলেন মনোনয়ন বাগাতে। এজন্য তিনি জোরালো প্রচারণাও করেন। তবে এবারও তিনি সুযোগ খুঁজবেন।

নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে আওয়ামী লীগের এমপি শামীম ওসমান। তিনিও টানা দুইবারের এমপি। আসছে সংসদ নির্বাচনে এখানে এখনো বিকল্প কোন প্রার্থীর নাম শোনা না গেলেও একজন ব্যবসায়ী চেষ্টা চালাবেন জানা গেছে। এনিয়ে শুরু হয়েছে ভেতরগত প্রস্তুতি। অপরদিকে এ আসনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে ভেতরগত চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন ২০০৯ সালে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে লড়াই করে হেরে যাওয়া বিএনপি নেতা শাহআলম। শিল্পপতি এ নেতা কয়েক বছর আগে রাজনীতি থেকে নিজেকে সরিয়ে নেওয়ার ঘোষণা দিলেও আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে সক্রিয় হচ্ছেন। যদিও এ আসনে বিএনপির মনোনয়ান পাবেন সাবেক এমপি ও জেলা বিএনপির আহবায়ক গিয়াসউদ্দিন- অনেকটাই নিশ্চিত।

নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের এমপি সেলিম ওসমান। তিনি জাতীয় পার্টির টিকেটে দুইবার এমপি হলেও রাজনীতিকে রীতিমত তিনি নির্বাসনে পাঠিয়েছেন। তিনি রাজনীতির ঊর্ধ্বে উঠে নির্বাচনী এলাকাতে নিজেকে জাহির করেছেন। সকল দলের নেতাদের সঙ্গে নিয়ে তিনি পথ চলছেন। আগামীতেও তিনি জাতীয় পার্টির মনোনয়ন পাবেন ধারণা করছেন অনুগামীরা।

এ আসনে বিএনপির সাবেক এমপি আবুল কালাম এখন শারীরিকভাবে আনফিট। তৈমূর আলম খন্দকার দল থেকে বহিস্কৃত। সাখাওয়াত হোসেন খান সিটি করপোরেশনে মেয়র পদে নির্বাচন করলেও তিনিও ভোটের মাঠে ফিট না। এসব যুক্তিতে এ আসন থেকে আগামীতে একজন শিল্পপতি খুঁজছেন দলটি। ইতোমধ্যে মহানগর বিএনপির কমিটি গঠনের পর বিষয়টি নিয়ে বেশ আলোচিত হতে শুরু করেছে। সে কারণে দলের নেতারা ইতোমধ্যে নিজেরা আলোচনা করে একজন শিল্পপতির কাছে প্রস্তাব নিয়ে যাচ্ছেন।

মহানগর বিএনপির একাধিক যুগ্ম আহবায়ক জানান, তারা তিনজনের একটি তালিকা তৈরি করেছেন। তার মধ্যে মডেল গ্রুপের মালিক মাসুদুজ্জামানের কাছে তারা প্রস্তাব নিয়ে যাবেন। তাকে এ আসনে নির্বাচন করার জন্য অনুরোধ করবেন। তিনি রাজী হলে তাকে নিয়ে এখন থেকেই মাঠে নামবেন। কারণ নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে এখন পর্যন্ত ভালো কোন প্রার্থী নাই। তাছাড়া মাসুদ নিজেও বেশ জনপ্রিয় নিজ এলাকাতে। রয়েছে প্রচুর টাকা। সবশেষ করোনার সময়ে মাসুদ ছিলেন বেশ আলোচনা।

বিএনপির নেতাকর্মীরা বলছেন, মাসুদ রাজনীতিতে আগ্রহী না। তিনি সামাজিক কাজে আগ্রহী। কিন্তু তার কাছে প্রস্তাব দেওয়া হবে। তিনি রাজী না হলে চেষ্টা করা হবে। শেষতক রাজী না হলে দ্বিতীয় ও তৃতীয় পছন্দের ব্যক্তির কাছে তারা যাবেন।

Islams Group
Islam's Group