News Narayanganj
Bongosoft Ltd.
ঢাকা সোমবার, ৩০ জানুয়ারি, ২০২৩, ১৬ মাঘ ১৪২৯

চাইনিজ রেস্টুরেন্টে গরীবের কম্বল


দ্যা নিউজ নারায়ণগঞ্জ ডটকম | স্টাফ করেসপন্ডেন্ট প্রকাশিত: জানুয়ারি ২০, ২০২৩, ০৯:৪১ পিএম চাইনিজ রেস্টুরেন্টে গরীবের কম্বল

নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে একটি চাইনিজ রেস্টুরেন্টের ভেতর দরিদ্র ও অসহায় মানুষের মাঝে কম্বল বিতরণ করেছেন জেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক মামুন মাহমুদ ও তার অনুসারীরা। ১৯ জানুয়ারী বৃহস্পতিবার বিকেলে সিদ্ধিরগঞ্জের চিটাগাং রোড এলাকায় গ্রীণ গার্ডেন রেস্টুরেন্টে এই কম্বল বিতরণ করা হয়। এদিন বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের জন্ম বার্ষিকী উপলক্ষ্যে এই কর্মসূচী পালন করা হয়।

এদিন মামুন মাহমুদের সাথে কম্বল বিতরণে আরও যোগ দেন ফতুল্লা থানা বিএনপি ও সিদ্ধিরগঞ্জ ওয়ার্ড বিএনপির বেশ কয়েকজন নেতা। যাদের মধ্যে রয়েছেন ফতুল্লা থানা বিএনপির আহবায়ক জাহিদ হাসান রোজেল, যুগ্ম আহবায়ক এমএ আকবর, ৬ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি রফিক উদ্দিন ভূইয়া, ওমর আলী, আলাউদ্দিন, সাবেক যুগ্ম আহবায়ক রিয়াজুল ইসলাম সহ অনেকে।

জানা যায়, জিয়াউর রহমানের জন্ম বার্ষিকী উপলক্ষ্যে শীতবস্ত্র বিতরনের উদ্যোগ নেন মামুন মাহমুদ সহ একাধিক বিএনপি নেতা। কেঁউ নিজ এলাকায় আবার কেউ দলীয়ভাবে এ কম্বল বিতরণ করেন। তবে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই দরিদ্র মানুষের বাড়ি বাড়ি গিয়ে কম্বল বিতরণ কিংবা উন্মুক্ত স্থানে এই কম্বল বিতরণ করা হয়। কিন্তু ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছেন কেবল মামুন মাহমুদ ও তার অনুসারীরা। দরিদ্র ও অসহায় মানুষকে চাইনিজ রেস্টুরেন্টে ডেকে এনে কয়েক ঘণ্টা বসিয়ে রেখে দিয়েছেন কম্বল উপহার। আর এনিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া তৈরী হয়েছে দলের নেতাকর্মীদের মাঝে।

সূত্র বলছে, শীতের ভেতর অসহায় ও দরিদ্র মানুষের মাঝে প্রতিবছরই বিভিন্ন দল, সংস্থা থেকে কম্বল বিতরন করা হয়। এদের মধ্যে বিতরনের সুবিধার্থে উন্মুক্ত স্থানে দিনক্ষণ নির্ধারন করে বিতরন করার নজির দেখা যায় সবচেয়ে বেশী। তবে যারা সত্যিকার অর্থেই দরিদ্র মানুষের পাশে দাঁড়াতে চায় এবং শীত নিবারণে এগিয়ে আসতে চায়, তারা আরও আন্তরিক হয়ে এলাকায় এলাকায় দরিদ্র মানুষের তালিকা তৈরী করেন। এরপর লোকচক্ষুর আড়ালে বাড়ি বাড়ি গিয়ে কম্বল বিতরণ করে আসেন। এর ফলে দরিদ্র মানুষকে নতুন করে কষ্ট না দিয়ে তার পাশে দাঁড়াবার নজির স্থাপন করেন মানবকল্যানে ব্রত সেবকরা। কিন্তু এর বিপরীত চিত্রও দেখা মেলে হর হামেশাই।

কিন্তু সেসব বিপরীত চিত্রকে কয়েক ধাপ ছাপিয়ে গেছেন মামুন মাহমুদ ও তার অনুগামীরা। দরিদ্র ও অসহায় মানুষকে ডেকে এনেছেন চাইনিজ রেস্তোরায়। সেখানে কয়েক ঘণ্টা বসিয়ে হাতে তুলে দিয়েছেন ত্রানের কম্বল। সাধারণত দরিদ্র মানুষ শ্রমজীবী হওয়ায় দিনের আলোতে উপার্জনের সময় থাকে তাদের। কিন্তু সেই দিনের আলোতে দ্রুত কম্বল বিতরণ না করে উল্ট একটি কম্বল দেবার জন্য বসিয়ে রেখেছেন কয়েক ঘন্টা। শুধু তাই নয়, দরিদ্র এসকল মানুষকে ডেকে এনেছেন চাইনিজ রেস্তোরায় যেখানে সাধারণ একজন মানুষ সামান্য লুঙ্গি পরে প্রবেশ করতেও দ্বিধাবোধ করে। মূলত অধিকাংশ চাইনিজ রেস্তোরা অতিশয় আধুনিক এবং সম্পদশালী মানুষকে সেবা প্রদানের জন্যেই সাজানো গোছানো করে রাখা হয়। ফলে দরিদ্র মানুষ এসব চাইনিজে প্রবেশ করতে গিয়ে নিজেদের পোশাক নিয়ে যেমন বিব্রত হয়েছেন, তেমনি আলো ঝলমলে পরিবেশে এসে একটি কম্বল নিতে আরও বেশী লজ্জা পেয়েছেন তারা।

সমালোচকরা বলছেন, নূন্যতম কান্ডজ্ঞান না থাকলেই দরিদ্র মানুষকে চাইনিজে ডেকে কেউ কম্বল বিতরণ করতে পারে। একজন দরিদ্র মানুষকে আলো ঝলমলে স্থানে ডেকে নিয়ে কম্বল তুলে দেয়া এক প্রকার অপমান করা। সেখানে কম্বল বিতরণ না করে তাদের দিনভর বিনোদনের ব্যবস্থা কিংবা ডিনারের আয়োজন করলে বিষয়টি ভিন্নভাবে উপস্থাপন করা যেত। কিন্তু তা না করে তাদের ত্রানের সহায়তা তুলে দেয়া হয়েছে। সত্যিই যদি কোন দরিদ্র মানুষের পাশে দাঁড়াতে হয় তাহলে আরও আন্তরিকভাবে সহায়তা প্রদান এবং প্রয়োজনে বাড়ি বাড়ি গিয়ে সহায়তা প্রদান করা উচিত।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, লোক দেখানো সংস্কৃতির কারণে আজকাল মানুষ হিতাহিত জ্ঞান হারিয়ে ফেলছে। ফটোসেশনের সহায়তা প্রদান আর ত্রান বিতরনের নামে তামাশা এখন নিত্য নৈমেত্তিক ব্যাপার। মাঝে মাঝে ত্রান নিতে গিয়ে দাতাদের হাতে মারধর ও লাঞ্ছনার শিকার হবার খবর উঠে আসে গণমাধ্যমের পাতায়। আগামী দিনে এদের হাতে এমন চিত্র দেখলেও অবাক হবার কিছু নেই।

Islams Group
Islam's Group