News Narayanganj
Bongosoft Ltd.
ঢাকা সোমবার, ৩০ জানুয়ারি, ২০২৩, ১৬ মাঘ ১৪২৯

নেতার দিকে তেড়ে গেলেন ভাষানী


দ্যা নিউজ নারায়ণগঞ্জ ডটকম | স্টাফ করেসপন্ডেন্ট প্রকাশিত: জানুয়ারি ১৯, ২০২৩, ১০:০৫ পিএম নেতার দিকে তেড়ে গেলেন ভাষানী

নারায়ণগঞ্জ জেলা জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সাবেক সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আব্দুল হামিদ খান ভাষানী ও বর্তমান সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আবুল কালাম আজাদ জাকিরের মধ্যে তর্ক বিতর্ক ও উচ্চবাচ্যের ঘটনা ঘটেছে। এক পর্যায়ে আব্দুল হামিদ ভাষানী তেড়েও গিয়েছিলেন আবুল কালাম আজাদ জাকিরকে মারার লক্ষ্যে। যদিও পরবর্তীতে বড় কোনো ঘটনা ঘটেনি।

বুধবার (১৮ জানুয়ারি) দুপুরে নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির ভবনের নিচতলায় এই ঘটনা ঘটে। পরে অন্য আইনজীবীরা এগিয়ে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছেন।

আইনজীবীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির নির্বাচনকে কেন্দ্র করে গত কয়েকদিন ধরে বিএনপিপন্থী আইনজীবীরা সকলেই ঐক্যবদ্ধভাবে নির্বাচনে নামার পরিকল্পনা করছিলেন। সকল বলয়ের আইনজীবীদের সাথে এ নিয়ে আলাপ আলোচনা চলমান ছিল।

তারই অংশ হিসেবে এদিন দুপুরে অ্যাডভোকেট আব্দুল হামিদ ভাষানী ও অ্যাডভোকেট আবুল কালাম আজাদের সাথে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কথা হচ্ছিল। এসময় তাদের সাথে এবং আশেপাশে আরও অনেক আইনজীবীই উপস্থিত ছিলেন।

কথাবার্তার এক পর্যায়ে আব্দুল হামিদ ভাষানী আবুল কালাম আজাদ জাকিরকে উদ্দেশ্য করে বলছিলেন, তোমরা যখন মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলে তখন আমাদের কাউকে কিছু বলো নাই। কোনো সিনিয়র আইনজীবীকে রাখো নাই। আমি একজন সিনিয়র আইনজীবীকে রাখার কথা বলেছিলাম। তোমরা আমার কথা রখো নাই। আইনজীবী ফোরামের কমিটিতে আমাদের কাউকে রাখলে না। তোমাদের এসকল বিষয়গুলো ঠিক হয়নি। অন্তত একটি বারের জন্য আমাদের সাথে আলোচনা করতে পারতে। তোমাদের আইনজীবী ফোরামের কি কার্যক্রম আছে। একমাত্র কেক কাটা ছাড়া আর কি কর্মসূচি পালন করেছ?

ভাষানীর এসকল কথার সাথে ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকা অন্যান্য আইনজীবীরা একমত পোষণ করছিলেন। সেই সাথে এসকল কথার বিপরীতে পাল্টা উত্তর দিতে থাকেন আবুল কালাম আজাদ জাকির।

এক পর্যায়ে আবুল কালাম আজাদ জাকির ভাষানীকে উদ্দেশ্য করে বলেন, আপনি কিসের বিএনপি করেন? আপনাকে ডাকলে আমাদের সাথে আসেন না। আর এই কথা বলতেই ভাষানী রাগান্বিত হয়ে যান। এক দুই কথায় আবুল কালাম আজাদ জাকিরকে মারার উদ্দেশ্য তেড়ে যান। একই সাথে বলতে থাকেন আমি কিসের বিএনপি করি তুমি কিসের বিএনপি কর? তোমার চৌদ্ধগোষ্ঠী বিএনপি করে। দুই বছর ধরে বিএনপি করে এখন বড় নেতা হয়ে গেছ? এভাবে কথা পাল্টা উত্তরে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠে। পরে ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকা অন্যান্য আইনজীবীরা এগিয়ে এসে তাদের দুইজনকে সরিয়ে দেন। সেই সাথে পরিস্থিতি শান্ত হয়ে আসে।

দলীয় সূত্র বলছে, ২০২০ সালের ৯ ডিসেম্বর নারায়ণগঞ্জ জেলা জাতীয়বাদী আইনজীবী ফোরামের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। আর এই সম্মেলনকে কেন্দ্র করে জেলা জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সদস্যরা দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে দুইটি প্যানেল ঘোষণা দেন। এই দুই প্যানেলের মধ্যে একটি প্যানেলের প্রতিদ্বন্দ্বীতায় ছিলেন সভাপতি পদে অ্যাডভোকেট আব্দুল হামিদ ভাসানী, সাধারণ সম্পাদক পদে অ্যাডভোকেট আজিজ আল মামুন, সহ সভাপতি পদে অ্যাডভোকেট সীমা সিদ্দিকী, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পদে অ্যাডভোকেট আনিসুর রহমান এবং সাংগঠনিক সম্পাদক পদে অ্যাডভোকেট আলী হোসাইন।

অন্য প্যানেলের প্যানেলের সভাপতি পদে অ্যাডভোকেট সরকার হুমায়ুন কবির, সাধারণ সম্পাদক পদে অ্যাডভোকেট আবুল কালাম আজাদ জাকির, সহ সভাপতি পদে অ্যাডভোকেট আজিজুল হক হান্টু, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আনোয়ার প্রধান এবং সাংগঠনিক সম্পাদক পদে অ্যাডভোকেট একেএম ওমর ফারুক নয়ন। তাদের বাইরে গিয়ে সাধারণ সম্পাদক পদে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করেন অ্যাডভোকেট সুমন মিয়া।

সেই সাথে বেশ শান্তিপূর্ণভাবেই তাদের মধ্যে সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। মাঝে মাঝে কিছু উত্তেজনা সৃষ্টি হলেও পরে সেটা বড় কোনো ঘটনাতে রূপ নেইনি। সম্মেলন শেষে হুমায়ুন কবির ও আবুল কালাম আজাদ জাকির প্যানেলের জয়ী হয়।

তবে এই সম্মেলনের মধ্য দিয়ে নারায়ণগঞ্জ জেলা জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সদস্যরা প্রকাশ্যে দুই গ্রুপে বিভক্ত হয়ে পড়েন। এরপর আর তাদের মাঝে কোনো ঐক্যবদ্ধতা দেখা যায়নি। এমনকি জেলা আইনজীবী সমিতির নির্বাচনেও তাদের মাঝে কোনো একতা দেখা যায়নি। ফলে নির্বাচনেও তারা পূর্ণ প্যানেলে হেরে আসছেন।

Islams Group
Islam's Group