News Narayanganj
Bongosoft Ltd.
ঢাকা সোমবার, ৩০ জানুয়ারি, ২০২৩, ১৬ মাঘ ১৪২৯

ভোটের আগেই আওয়ামী লীগকে ওয়াকওভার বিএনপির


দ্যা নিউজ নারায়ণগঞ্জ ডটকম | স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট প্রকাশিত: জানুয়ারি ১৭, ২০২৩, ১০:৪৮ পিএম ভোটের আগেই আওয়ামী লীগকে ওয়াকওভার বিএনপির

নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিএনপিপন্থী আইনজীবীদের আগ্রহ যেন লোপ পেয়ে গেছে। প্রতিবছরই বিএনপিন্থী সিনিয়র আইনজীবীদের মাঝে নির্বাচন নিয়ে কোনো আগ্রহ পরিলক্ষিত হয় না। এবারেও নির্বাচনেও ঠিক এমনটাই ঘটেছে। যার কারণে প্রতিবারের মতো এবারের আইনজীবী সমিতির নির্বাচনেও বিএনপিপন্থী আইনজীবীদের দূর্বল প্যানেল ঘোষণা করা হয়েছে। যাদের নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করার মতো এখনও তেমন পরিপক্কতা আসেনি। অপর;িতে বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী সমর্থিত সম্মিলিত আইনজীবী সমন্বয় পরিষদের মনোনীত প্যানেলে এবার ডিমোশনের ঘটনা ঘটেছে। সেই সাথে প্যানেলে অনেক এলোমেলোও করা হয়েছে। তারপরেও তারা বেশ শক্তিশালী প্যানেল ঘোষণা করেছেন। যে প্যানেলের কাছে বিপরীত পক্ষের প্রার্থীরা সহজেই হার মানতে পারেন।

জানা যায়, নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির এবারের নির্বাচনে জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম মনোনীত বিএনপিপন্থী আইনজীবীদের প্যানেলের সভাপতি পদে রয়েছেন অ্যাডভোকেট আহসান হাবীব শাহীন। যিনি পেশাগত দিক দিয়ে সিনিয়র হলেও আদালতপাড়ায় তার তেমন পরিচিতি নেই। তার পারিবারিক ব্যাকগ্রাউন্ড থাকা সত্ত্বেও বিএনপির আইনজীবী হিসেবে নিজেকে তেমন মেলে ধরতে পারেননি। বিএনপি দলীয় কার্যক্রমেও তার তেমন সরবতা দেখা যায় না।

সে হিসেবে বিপক্ষ দলীয় প্রার্থীর বিপরীতে তার প্রতিদ্বন্দ্বীতা করার যথেষ্ট যোগ্যতার কমতি রয়েছে। তার বিএনপির অনেক আইনজীবী রয়েছেন যাদেরকে প্রতিদ্বন্দ্বীতায় আনা হলে হয়তো নির্বাচন আরও বেশি প্রতিযোগীতাপূর্ণতা হতে পারতো।

সেই সাথে জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম মনোনীত বিএনপিপন্থী আইনজীবীদের প্যানেলের সাধারণ সম্পাদক পদে রয়েছেন অ্যাডভোকেট এইচ এম আনোয়ার প্রধান। আদালতপাড়ার বিএনপির রাজনীতিতে তার জনপ্রিয়তা থাকলেও আইনজীবীদের কাছে গ্রহণযোগ্যতার দিক দিয়ে তিনি পিছিয়ে রয়েছেন। কারণ সাধারণ আইনজীবীদের মাঝে তার গ্রহণযোগ্যতার যথেষ্ট অভাব রয়েছে। তার বিপরীতে বিপক্ষ দলীয় প্যানেলের প্রতিদ্বন্দ্বীতাকারী আইনজীবী অনেকদিক দিয়ে এগিয়ে রয়েছেন।

সেই সাথে সিনিয়র সহ সভাপতি পদে অ্যাডভোকেট মো. সুমন মিয়া, সহ সভাপতি পদে অ্যাডভোকেট মো. জুবায়ের আলম জীবন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পদে অ্যাডভোকেট জাহিদুল ইসলাম মুক্তা, কোষাধ্যক্ষ পদে অ্যাডভোকেট শেখ আনজুম আহম্মেদ রিফাত, আপ্যায়ন সম্পাদক পদে অ্যাডভোকেট আসমা হেলেন বিথী, লাইব্রেরী সম্পাদক পদে অ্যাডভোকেট মো রোকন উদ্দিন, ক্রীড়া সম্পাদক পদে অ্যাডভোকেট রাসেল প্রধান, সাহিত্য ও সংস্কৃতি সম্পাদক পদে অ্যাডভোকেট সারোয়ার জাহান, সমাজসেবা সম্পাদক অ্যাডভোকেট মো. গোলাম সারোয়ার ও আইন ও মানবাধিকার সম্পাদক পদে অ্যাডভোকেট হাবিবুর রহমান হাবিব প্রতিদ্বন্দ্বীতা করছেন।

তাদের মধ্যেও অনেকেই প্রতিদ্বন্দ্বতা করার যোগ্যতার দিক দিয়ে পিছিয়ে রয়েছেন। কিন্তু তা সত্বেও তাদেরকে দিয়ে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করানো হচ্ছে। আর তাদের চেয়ে যোগ্যতাসম্পন্ন বিএনপিপন্থী আইনজীবীরা নির্বাচনে কোনো আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।

আদালতপাড়া সূত্র বলছে, নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির বার্ষিক নির্বাচনে গেল ৮ বছর ধরেই কান্ডারীবিহীন রয়েছে বিএনপিপন্থী আইনজীবীরা। ২০১৪ সালের পরে জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে বিএনপির কোন প্রার্থী জয়ের দেখা পায়নি। বিশেষ করে গত দুই বছর ধরে একটি পদেও বিএনপির কোনো আইনজীবী জয়ী হতে পারছে না। অথচ ২০১২ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত ৩ বারের নির্বাচনে সমিতির গুরুত্বপূর্ণ দু’টি পদে দাপুটে জয় ছিল বিএনপি সমর্থিত প্যানেলের প্রার্থীদের।

আর এভাবে বছরের পর বছর নারায়ণগঞ্জ আদালতপাড়ায় কর্তৃত্বহীনতার থাকার কারণে বিএনপিপন্থী আইনজীবীদের অনেকেই এখন নির্বাচনে অংশ নিতে ভয় পান। গত কয়েক বছর ধরে তারা নির্বাচনে অংশ নিলেও শেষ পর্যন্ত তাদেরকে নির্বাচন থেকে সরে যেতে হচ্ছে অথবা নির্বাচনে থেকে মার খেতে হচ্ছে।

সবশেষ নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির বার্ষিক (২০২১-২০২২) নির্বাচনে বিএনপিপন্থী আইনজীবীদের ব্যাপকভাবে পিটুনি খেতে হয়েছে। আইনজীবীদের অঙ্গনে বহিরাগত এসে পিটিয়ে গেছেন। আর সেটা তাদের নিরবে সহ্য করতে হয়েছে। ফলশ্রুতিতে সমিতির নির্বাচনে বিএনপিপন্থী আইনজীবীদের আগ্রহ কমে গেছে।

এদিকে সমিতির নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এবারের বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী সমর্থিত সম্মিলিত আইনজীবী সমন্বয় পরিষদের মনোনীত প্যানেলে সভাপতি পদে রয়েছেন অ্যাডভোকেট হাসান ফেরদৌস জুয়েল। যিনি এর আগেও সভাপতি পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। সেই সাথে আইনজীবী সমিতির সদস্যদের মাঝে সুনামও কুড়িযেছেন। নির্বাচনে বিপক্ষের যে কোনো প্রার্থীকে পরাজিত করার মতো তার যথেষ্ট শক্তিমত্তা রয়েছে।

তবে এই প্যানেলের সাধারণ সম্পাদক পদে থাকা অ্যাডভোকেট মোহসীন মিয়াকে দেখে বেশ অবাক হয়েছেন আইনজীবীরা। যিনি এর আগেও দুইবার আইনজীবী সমিতির সভাপতি পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। সেই তাকেই আবার সাধারণ সম্পাদক পদে এনে নির্বাচন করানোটা আইনজীবীদের কাছে অবাক করার বিষয়ই বটে। একই সাথে এর আগে কখনও আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে এরকম হয়েছে কিনা জানা নেই কারও।

তবে এ প্রসঙ্গে প্যানেল গঠন কার্যক্রমে দায়িত্ব পালনকারী অ্যাডভোকেট মনিরুজ্জামান বুলবুল বলেন, দলের কথা চিন্তা করেই এই রকম প্যানেল ঘোষণা করা হয়েছে। এখানে অন্য কোনো বিষয় নেই। আর সভাপতি করলে পরে সাধারণ সম্পাদক নির্বাচন করতে পারবে এরকম কোনো নিয়মও নেই।

তারপরেও আওয়ামী লীগপন্থী সাধারণ আইনজীবীরা অ্যাডভোকেট মোহসীন মিয়ার জন্য প্রমোশনের পরিবর্তে ডিমোশন হিসেবেই বিবেচনা করছেন। কারণ তিনি নির্বাচন করলে সভাপতি পদেই নির্বাচন করতে পারেন। সেই সাথে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করে তিনি জয়ীও হয়েছেন। সে হিসেবে সভাপতির পরিবর্তে সাধারণ সম্পাদক প্রতিদ্বন্দ্বীতা করাটা তার জন্য বেমানান আইনজীবীদের অভিমত।

সেই সাথে এবারের নির্বাচনে সিনিয়র সহ সভাপতি পদে অ্যাডভোকেট মো আলাউদ্দিন আহমেদ, সহ সভাপতি পদে রবিউল আমিন রনি, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পদে অ্যাডভোকেট কামাল হোসেন, কোষাধ্যক্ষ পদে অ্যাডভোকেট স্বপন ভূইয়া, আপ্যায়ন সম্পাদক পদে অ্যাডভোকেট অঞ্জন দাস, লাইব্রেরী সম্পাদক পদে অ্যাডভোকেট মো. এরশাদুজ্জামান ইমন, ক্রীড়া সম্পাদক পদে মো. আব্দুল মান্নান, সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক পদে রাজিয়া আমিন কাঞ্চি, সমাজসেবা সম্পাদক পদে মানজুদুল রশিদ রিফাত ও আইন ও মানবাধিকার সম্পাদক মো. দেলোয়ার হোসেন সুজন প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বীতা করছেন।

এদের মধ্যে কেউ কেউ সাধারণ সম্পাদক পদেই প্রতিদ্বন্দ্বীতার করার মতো যোগ্যতা রয়েছে। কিন্তু তারপরেও তাদের সঠিক জায়গায় মূল্যায়ন না করে ইচ্ছামতোই প্রতিদ্বন্দ্বীতা করার জন্য পদ রয়েছে। যা নিয়ে কারও কারও মাঝে ক্ষোভও পরিলক্ষিত হয়েছে। সর্বোপরি প্যানেল নিয়ে নানা মত থাকলেও বিপক্ষ দলের বিপরীতে এই প্যানেল বেশ শক্তিশালী হিসেবেই বিবেচনা করছেন সাধারণ আইনজীবীরা।

আদালতপাড়া সূত্র বলছে, আগামী ৩০ জানুয়ারী অনুষ্ঠিতব্য আইনজীবী সমিতির এবারের নির্বাচনে নির্বাচন কমিশনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার হিসেবে রয়েছেন- সোনারগাঁ উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট শামসুর রহমান ভূইয়া, নির্বাচন কমিশনার জিপি অ্যাডভোকেট মেরিনা বেগম, অ্যাডভোকেট আবদুর রহিম ও অ্যাডভোকেট আশরাফ হোসেন।

এছাড়াও তিন সদস্য বিশিষ্ট আপিল বোর্ডে রয়েছেন- অ্যাডভোকেট নুরুল হুদা, অ্যাডভোকেট হুমায়ুন কবির ও অ্যাডভোকেট ইমদাদুল হক তারাজ উদ্দীন।

সূত্র বলছে, বিগত কয়েক বছর ধরেই নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতিতে আধিপত্য বিস্তার করে আসছে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য শামীম ওসমানের অনুসারী আইনজীবীরা। নারায়ণগঞ্জের অন্যান্য সংসদ সদস্য এই নির্বাচন নিয়ে কোনো চিন্তা না করলেও শামীম ওসমান বরাবরই এই নির্বাচনে পরোক্ষভাবে হস্তক্ষেপ করে থাকেন। তার নির্দেশনায় গঠিত হয় আওয়ামী লীগপন্থী আইনজীবীদের প্যানেল।

নারায়ণগঞ্জ আদালতপাড়ায় অন্য কোনো সংসদ সদস্য বা আওয়ামী লীগের অন্য কোনো নেতাকে প্রাধান্য দেয়া হয় না। শামীম ওসমান নিজেই সবকিছু পরোক্ষভাবে নিয়ন্ত্রণ করে থাকেন। আর এই নিয়ন্ত্রনে আনতে গিয়ে অনেক সময় তিনি শক্তিও প্রয়োগ করে থাকেন। বিগত কয়েক বছর ধরে সেই শক্তি প্রয়োগের ঘটনায় পরিলক্ষিত হয়ে আসছে। শামীম ওসমানের বলয়ের বাইরে গিয়ে আওয়ামী লীগপন্থী আইনজীবীরা নিজ দলীয় আইনজীবীদেরকেও প্রতিদ্বন্দ্বীতা করতে দিচ্ছেন না। সমিতির নির্বাচনকে কেন্দ্র করে যারাই প্রার্থী হয়েছেন তাদের বিভিন্ন হেনেস্তার শিকার হতে হয়েছে।

তারই ধারাবাহিকতায় গত কয়েক বছর ধরেই নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য শামীম ওসমানের অনুসারী অ্যাডভোকেট হাসান ফেরদৌস জুয়েল ও অ্যাডভোকেট মোহসিন মিয়া আদালতপাড়ায় কর্তৃত্ব বজায় রেখে আসছেন। মাঝখানে দুই বছর অ্যাডভোকেট হাসান ফেরদৌস জুয়েলের অনুপস্থিতে অ্যাডভোকেট মোহসিন মিয়া কর্তৃত্ব বজায় রাখেন। শামীম ওসমানের আধিপত্যের অংশ হিসেবে অ্যাডভোকেট মোহসিন মিয়ার অনুপস্থিতিতে অ্যাডভোকেট হাসান ফেরদৌস জুয়েল আবার ফিরে এসেছেন।

তাদের বাইরে আওয়ামী লীগপন্থী আইনজীবীদের অনেক প্রস্তুত থাকলেও তাদের প্রতিদ্বন্দীতা করার মতো সাহস নেই। কারণ এর আগে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য শামীম ওসমানের সমর্থনের বাইরে গিয়ে নির্বাচন করতে গিয়ে হেনেস্তার শিকার হয়ে ছিলেন। সবশেষে ২০২১ সালের নির্বাচনে সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী অ্যাডভোকেট জসিম উদ্দিনকে নির্বাচনের দিন আদালতপাড়া থেকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। তাকে সেদিন অস্ত্র ঠেকানোরও অভিযোগ করেছিলেন পরবর্তীতে।

Islams Group
Islam's Group