News Narayanganj
Bongosoft Ltd.
ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২২, ১৪ আশ্বিন ১৪২৯

‘সিটি কর্পোরেশন কাজটি ভাল করেনি’


দ্যা নিউজ নারায়ণগঞ্জ ডটকম | স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২২, ১১:৫৭ পিএম ‘সিটি কর্পোরেশন কাজটি ভাল করেনি’

নারায়ণগঞ্জে ঐতিহ্যবাহী রহমত উল্লাহ মুসলিম ইনস্টিটিউট ভবন ভেঙে গুঁড়িয়ে দেয়া প্রসঙ্গে আদালতের নিষেধাজ্ঞার প্রেক্ষিতে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের আপিল শুনানী অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৫ সেপ্টেম্বর) নারায়ণগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মুন্সি মশিয়ার রহমানের আদালতে এই আপিল শুনানী হয়।

নারায়ণগঞ্জ আদালতের জিপি অ্যাডভোকেট মেরিনা বেগম বলেন, রহমত উল্লাহ মুসলিম ইনস্টিটিউট ভেঙ্গে ফেলার পর ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করা হয়েছে মর্মে আদালতকে অবগত করে। এনিয়ে সিটি কর্পোরেশনের পক্ষে আপিল শুনানী অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুনানী শেষে আদালত আগামী ২৮ সেপ্টেম্বর রায়ের দিন ধার্য করেছেন।

নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের পক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট সাদিয়া আফরোজ মুক্তি বলেন, আদালতের স্থগিতাদেশ জারির পেক্ষিতে আমাদের আপিল শুনানী অনুষ্ঠিত হয়েছে। আদালত শুনানী শেষে আগামী ২৮ সেপ্টেম্বর রায়ের দিন ধার্য করেছেন।

শুনানীর সময়ে উপস্থিত আইনজীবীদের সূত্রে জানা গেছে, সিটি কর্পোরেশনের পক্ষের আইনজীবীরা ভবন ভাঙ্গা প্রসঙ্গে কমিটির সভায় সম্মতির বিষয়টি নজরে আইতে চাইলে আদালত বলেন, এগুলো পরের বিষয়। সিটি কর্পোরেশন আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করতে পারেন না। সিটি কর্পোরেশন কাজটি ভাল করেনি।

সেই সাথে বিচারক আইনজীবীদের উদ্দেশ্য করে বলেন, আমার বিচারিক জীবনে আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করার অপরাধে একজন জেলা প্রশাসককে দ-াদেশ দিয়েছিলাম। আমি বুঝে শুনেই এই আপিলের রায় দিবো।

মামলা সূত্রে জানা যায়, ২০০৮ সালে পৌরসভার দায়িত্বে থাকার সময় নারায়ণগঞ্জে ঐতিহ্যবাহী রহমত উল্লাহ মুসলিম ইনস্টিটিউট ভবন ভাঙ্গার চেষ্টা করে বলে মামলায় অভিযোগ করা হয় সেলিনা হায়াত আইভীর বিরুদ্ধে। সেই সময়ই ভবনটির উচ্ছেদের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে একটি রীট (যাহার নং-১৫২৮/২০০৮) করা হয়। উচ্চ আদালত রীটের প্রেক্ষিতে ভবনটিতে কোন রকম উচ্ছেদ কার্যক্রম না করতে ১০ দিনের অন্তবর্তীকালিন নিষেধাজ্ঞা জারি করে। একই বছরের ৯ মার্চ নারায়ণগঞ্জ চতুর্থ সিনিয়র সহকারি জজ আদালতে শুধু মাত্র সেলিনা হায়াত আইভীকে বিবাদী করে ভবনটি উচ্ছেদের বিরুদ্ধে দেওয়ানি মামলা করা হয় (মামলা নং-২৩/২০০৮)।

এই মামলায় ২০১৩ সালের ১৩ নভেম্বর সালে যাবতীয় শুনানী শেষে মেয়র আইভীর বিরুদ্ধে ডিক্রি হয়, ‘রহমত উল্লাহ ইনস্টিটিউট ভাঙ্গা বা বিবাদীদের বেদখল করার বিষয়ে স্থায়ী নিষেধাজ্ঞা জারি করা হলো’। সেই স্থায়ী নিষেধাজ্ঞার কোন রকম আপিল না করেই মেয়র আইভীর ২০১৯ সালের ২০ জুন ভবনটি ভেঙ্গে দেয়। এ ঘটনায়ও মেয়র আইভীর বিরুদ্ধে ‘আদালতের নির্দেশ অবমাননা’র মামলা বর্তমানে চলমান রয়েছে। একই সাথে ক্ষতি পূরণের দাবিতে, আরেকটি মামলাও চলমান রয়েছে।

প্রসঙ্গত মুসলিম সাংস্কৃতিক চর্চার জন্য ১৯৪৩ সালে রহমত উল্লাহ নামে তৎকালীন মহাকুমার প্রশাসক টিনের ঘর নির্মাণ করে রহমত উল্লাহ মুসলিম ইনস্টিটিউট গঠন করা হয়। স্বাধীনতার আগে ও পরে এখানে নাটক, সঙ্গীত, আবৃত্তি সহ বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। পরবর্তীতে এখানে টিনের ঘরের পরিবর্তে ৩ তলা ভবনটি নির্মাণ করা হয়। আর এ ইনস্টিটিউটের সভাপতি হলেন নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক। কিন্তু ভবনটি রাস্তার মধ্যে হওয়ায় তীব্র যানজট সৃষ্টি হতো। ফলে যানজট নিরসনের লক্ষ্যে ৫০ গজ দূরে রহমত উল্লাহ মুসলিম ইনস্টিটিউট শপিং কমপ্লেক্স নির্মাণ করে দেয়া হয়। আর সেইখানে ইনস্টিটিউটের কার্যক্রম সরিয়ে নেওয়ার জন্য আহবান জানানো হয়। কিন্তু কর্তৃপক্ষ সেটা না করে নতুন ভবনটিতে দোকান ভাড়া দিয়ে পুরাতন ভবনেই তাদের কার্যক্রম চালিয়ে আসছিল। আর তখন থেকেই যানজট নিরসনে ভবনটি উচ্ছেদের উদ্যোগ নেয় নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন। এর ধারাবাহিকতায় ২০১৯ সালের ২০ জুন সকাল থেকে অভিযান চালিয়ে ভবনটি ভেঙে গুড়িয়ে দেয় নাসিক।

Islams Group
Islam's Group