News Narayanganj
Bongosoft Ltd.
ঢাকা মঙ্গলবার, ২৮ নভেম্বর, ২০২৩, ১৪ অগ্রহায়ণ ১৪৩০

আতংকের সড়ক কলেজ রোড


দ্যা নিউজ নারায়ণগঞ্জ ডটকম | স্টাফ রিপোর্টার : প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৩, ১১:১০ পিএম আতংকের সড়ক কলেজ রোড

নারায়ণগঞ্জ শহরের আতংকের সড়ক হয়ে উঠেছে কলেজ রোড এলাকা। নাসিকের ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের অন্তর্গত এই সড়ক ও সড়ক সংলগ্ন এলাকাটিতে সন্ধ্যা নামার পরপরেই পথচারী ও যাত্রীদের মাঝে আতঙ্ক বিরাজ করে। পথচারী কিংবা রিক্সা যাত্রী যদি হন ক্ষমতাসীন দলের প্রতিপক্ষ রাজনৈতিক দলের, তাহলে তার আতঙ্ক ও শঙ্কা থাকে কয়েকগুণ বেশী। ধারাবাহিক বিরোধী মতাদর্শীদের উপর আক্রমণ ও মারামারির ঘটনায় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে কলেজ রোড। 

নারায়ণগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী সরকারি তোলারাম কলেজকে ঘিরে আল্লামা ইকবাল রোডকে কলেজ রোড হিসেবে নামকরণ করা হয় লোকমুখে। প্রতিদিন কলেজ এবং কোচিংগামী ছাত্রছাত্রীদের পদচারনা থাকে। দিনভর পদচারনা কমে আসে সন্ধ্যা নামতেই। এরপরেই কিছু বখাটে, ছিনতাইকারীদের উপদ্রব শুরু হয়। কখনও সাধারণ পথচারীদের আটকে টাকা পয়সা, মোবাইল ছিনতাই। কাউকে ধরে এনে ঠেক দিয়ে টাকা হাতিয়ে নেয়ার ঘটনা ঘটে প্রায়ই।

এসব ঘটনার সাথে রয়েছে বিরোধী মতের রাজনীতি করা ব্যক্তিদের উপর অতর্কিত আক্রমণ। দিনে এবং রাতে উভয় সময়েই এই ঘটনা গুলো উঠে আসছে গণমাধ্যমে। তারই সবশেষ শিকার হয়েছেন গণসংহতি আন্দোলনের নারায়ণগঞ্জ জেলার সমন্বয়কারী ও জেলা গণতন্ত্র মঞ্চের সমন্বয়ক তরিকুল সুজন। গত রোববার রাতে নিজ রেস্তোরাঁর নিচে অতর্কিত হামলার শিকার হন তিনি। ঘটনার পর দাবী করেন, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যেই এই হামলা চালানো হয়েছে।

ঘটনার বিবরণ দিয়ে সুজন বলেন, ‘রাত সাড়ে ৮ টার দিকে আমি রাস্তায় পরিচিত একজনের সাথে আড্ডা দিচ্ছিলাম। হটাৎ বৃষ্টি শুরু হলে আমি দৌড়ে একটি রেস্তোরাঁর নিচ তালায় আশ্রয় নেই। সেখানে আগে থেকেই দাঁড়িয়ে ছিলো দুজন ব্যক্তি। তারা আমাকে দেখেই আমার হাত ধরে। এরপর বলে ‘কিরে হো** পোলা, বেশী বাইড়া গেছোস? মুখ দিয়া কি কস হুশ থাকে না? কার নামে কি কস বুঝোস না?’ এগুলো বলেই আমাকে এলোপাতারা কিল ঘুষি মারতে থাকে। এক পর্যায়ে আমি দৌড়ে রেস্তোরাঁর ভেতরে গিয়ে আশ্রয় নেই। হামলাকারীরা তখন নিচে দাড়িয়ে আমাকে পুনরায় মারার হুমকি দিতে থাকে এবং রেস্তোরাঁর গেটে অবস্থান নেয়। পরে আশেপাশের মানুষ এগিয়ে এলে তারা পালিয়ে যায়।’

এ ঘটনায় তরিকুল সুজন ফতুল্লা মডেল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছে।
এর আগে গত ১৪ জুলাই মহানগর ছাত্রদলের মহানগর ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক আজিজুল ইসলাম রাজীব, তারই আত্মীয় ও ছাত্রদল কর্মী কাজল, ১৩ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রদলের সভাপতি অনিক এবং তার বন্ধু সোহাগকে পিটিয়ে আহত করে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, রাত ৮টার দিকে কলেজ রোডে দুজন ছেলেকে মারধর করতে থাকে প্রায় ৩০/৪০ জন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। এসময় উপস্থিত ছিলো মহানগর ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি হাবিবুর রহমান রিয়াদ। পরবর্তীতে দুজনের একজন দৌড়ে প্রাণ বাঁচায়। ঘটনার কিছুক্ষণ পরেই হাজির হয় রাজীব ও কাজল। এসময় তাদেরও বেধরক মারধর করতে থাকে। লাঠি সোঁটা, বাশ, ইট দিয়ে থেঁতলে দেয়া হয় রাজীবের মুখ। খবর পেয়ে মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব আবু আল ইউসুফ খান টিপু উপস্থিত হলে রাজীব ও কাজলকে ডাকবাংলোর ভেতরে অবরুদ্ধ করে রাখে।

ঘটনার পরপরেই গণমাধ্যম কর্মীরা সেখানে উপস্থিত হলে চিত্র ধারন করতে গেলে তাদের উপরেও চড়াও হয় মহানগর ও কলেজ ছাত্রলীগের কর্মীরা। এসময় জাগো নিউজের প্রতিনিধি মোবাশ্বির শ্রাবণকে মারধর ও আজকের পত্রিকার প্রতিনিধি সাবিত আল হাসানের মুঠোফোন ছিনিয়ে নেয়ার চেষ্টা করে। বিএনপির নেতারা ইজিবাইকে তুলে আহত ছাত্রদল নেতাকে হাসপাতালে নিতে চাইলে পুনরায় ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা সাংবাদিকদের সামনেই তাদের মারধর করে। লাঞ্ছিত করা হয় মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক আনোয়ার হোসেন আনুকে।

সরকারি তোলারাম কলেজের সামনে কিংবা কলেজ রোড এলাকায় ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে তোলারাম কলেজ ছাত্রদলের আহবায়ক আতা ই রাব্বীকে মারধর করে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। হামলায় আহত রাব্বী বলেন, কলেজে ইমপ্রুভ পরীক্ষার ফি জমা দিতে যাবার পথে রিয়াদ আমাকে দেখে। এরকিছুক্ষন পরেই রিয়াদের অনুসারীরা আমাকে মারধর করে।

২০১৯ সালের সেপ্টেম্বরে ফতুল্লার ছাত্রদল নেতা শাহজাহান আলীকে বেধরক মারধরের অভিযোগ উঠে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। তাকে কলেজ রোড এলাকায় দেখতে পেয়ে বেধরক মারধর করে আহত করা হয়। ঘটনার সংবাদ প্রকাশ করায় আবারও কলেজ ক্যাম্পাসের ভেতর সাংবাদিক সৌরভ হোসেন সিয়ামকে মারধর করে ছাত্রলীগের কর্মীরা। যা সংবাদ সম্মেলন করে সৌরভ বিষয়টি প্রকাশ করেন।

২০১৮ সালে সংবাদকর্মী সৌরভ হোসেন সিয়ামকে তোলারাম কলেজের ভেতরে নিয়ে মারধর করে ছাত্রলীগ নেতা হাবিবুর রহমান রিয়াদ ও তার অনুসারীরা। বেধরক মারধরে আহত সৌরভকে স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসা প্রদান করতে হয়। এই ঘটনায় থানায় সাধারণ ডায়েরী দায়ের করা হয়।

এদিকে একের পর এক হামলার ঘটনায় অজানা নেই কলেজ রোডে চলাচলরত সাধারণ মানুষের। প্রতিনিয়ত হামলার ঘটনার পাশাপাশি মোটরসাইকেল বাহিনীর মহড়া বুকে কাঁপন ধরিয়ে দেয় নগরবাসীর। আর সেই মহড়া প্রতিবারই কলেজ রোড থেকে শুরু ও শেষ হয়। এভাবেই দিন দিন কলেজ রোড হয়ে উঠছে আতংকের এলাকা।

Islams Group
Islam's Group