News Narayanganj
Bongosoft Ltd.
ঢাকা মঙ্গলবার, ০৬ ডিসেম্বর, ২০২২, ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৯

ভিক্টোরিয়ায় বছরে সেবা পায় ৯ লাখ রোগী


দ্যা নিউজ নারায়ণগঞ্জ ডটকম | স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট প্রকাশিত: অক্টোবর ২২, ২০২২, ১০:৩৫ পিএম ভিক্টোরিয়ায় বছরে সেবা পায় ৯ লাখ রোগী

নারায়ণগঞ্জের স্বাস্থ্য বিভাগের চিত্রটা ভাল হচ্ছেনা। সরকার বরাদ্দ বাড়ালেও সেবার মানে ঘটছে শুভংকরের ফাঁকি ! সরকার স্বাস্থ্যখাতে বরাদ্দ বাড়ালেও সেবার মান নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়। সরকারি হাসপাতালগুলোতে সার্বিক সেবার মান ভাল নয়। বিভিন্ন বিভাগের ডাক্তার রোগী দেখেই বিভিন্ন টেস্ট ধরিয়ে দেন। হাসপাতালে সকল টেস্ট করার সুযোগ থাকার পরও ডাক্তাররা নিজেদের পছন্দের কোন ডায়াগনোস্টিক সেন্টার বা প্যাথলজীতে রোগীকে পাঠিয়ে দেন। সেখানে টেস্ট না করালে ডাক্তার সাহেব টেস্ট রিপোর্ট দেখে মন খারাপ করে বলেন, রিপোর্টটা ঠিক বোঝা যাচ্ছে না। তখন বাধ্য হয়েই ওই রোগীকে ফের ডাক্তারের পছন্দের প্যাথলজীতে ছুটতে হয়।

গত অর্থবছরে (২০২১-২২ইং) দেশে মাথাপিছু স্বাস্থ্য ব্যয় বাড়িয়ে ৫৪ ডলার করা হয়েছে। এই হিসেবে একজন মানুষের স্বাস্থ্য সেবার জন্য সরকার বরাদ্দ করেছে ৫ হাজার ৪০০ টাকা। যা এর আগে ছিল ৩৭ ডলার বা ৩ হাজার ৭০০ টাকা। বর্তমানে এক বছরে সরকারি খাতে স্বাস্থ্যসেবার জন্য একজন মানুষের জন্য বরাদ্দ ৫হাজার ৪০০ টাকা। এটা টাকাটা বিভিন্ন হাসপাতাল ও সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে সরকার ব্যয় করে। যেমন সরকারি হাসপাতালে মানুষ চিকিৎসা সেবা পায় বিনামূল্যে। আসলে ওই খরচটুকু সরকার নিজে বহন করে।

নারায়ণগঞ্জ মহানগরীতে দু’টি সরকারি হাসপাতাল। সেবার মান গড় হারের। তেমন ভাল নয়। আবার একেবারে মন্দও নয়। দু’টি হাসপাতালের ডাক্তাররা কথায় কথায় রোগীকে টেস্ট দেন। টেস্ট লাগলেও দেন। না লাগলেও দেন। হাসপাতালে টেস্ট করালে রিপোর্ট হাতে নিয়ে ডাক্তাররা ধানাই-পানাই কথা বলেন। রিপোর্টটা ঠিক বোঝা যাচ্ছে না। আরেকটু পরিস্কার না হলে কিছু বলতে পারছি না। সন্দেহ থেকেই যাবে। তখন রোগী আর টাকার জন্য বসে থাকেন না। ডাক্তারের সন্দেহ দূর করতে তার পছন্দের ডায়াগনোস্টিক সেন্টারেই টেস্ট করান। অতঃপর ডাক্তার সাহেব ভীষণ খুশি। না কোন সংশয় নেই। দেখা গেল আগের রিপোর্টও একই ছিল। সেই রিপোর্ট ডাক্তার সাহেবের পছন্দ হয়নি। অন্তরালে কমিশনের খেলা চলে বলে অভিযোগ ভুক্তভোগীদের।

এক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, নারায়ণগঞ্জ জেনারেল (ভিক্টোরিয়া) হাসপাতালে প্রতিদিন কমপক্ষে ৩ হাজারের বেশি রোগী চিকিৎসা সেবা নিতে আসেন। ইনডোরে প্রতিদিন ৫০০ এর মত রোগী হয়। আউটডোরে ১৫ ‘শ রোগী হয়। জরুরী বিভাগে প্রতিদিন কমপক্ষে ১ হাজার রোগী সেবা নেন। এছাড়া অনেক রোগীকে ঢাকায় রেফার্ড করা হয়। বছরে এই হাসপাতালে চিকিৎসা সেবা গ্রহণ করে কমপক্ষে ৯ লাখ রোগী। এই সংখ্যাটা কখনো ১০ লাখ পর্যন্ত পৌঁছায়। হাসপাতালে সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগ পোহাতে হয় জরুরী বিভাগে। প্রতিবছর জরুরী বিভাগেই চিকিৎসা নিতে আসে প্রায় ৫ লাখের মত রোগী।  টেনে টুনে সেবা পায় ৪ লাখের মত। অধিকাংশই ঢাকায় রেফার্ড। একটু জটিল পরিস্থিতি দেখলেই ঢাকা রেফার্ড লিখে ইএমও রা তাদের দায়িত্ব শেষ করেন। ঢাকায় রেফার্ড করেই ইএমও সাহেব বার বার তাগাদা দেন অবজারভেশন কক্ষ থেকে রোগী নিয়ে যেতে। অনেক ক্ষেত্রে অবজারভেশন কক্ষ থেকে রোগী বের করে দেয়া হয়।

জরুরী বিভাগে রোগী নিয়ে এসে দুর্ভোগের শিকার হয়েছেন এমন কয়েকজন জানান, জরুরী বিভাগের ইএমও যেই থাকুক না কেনো, তারা রোগীদের মানুষ মনে করে না। তাদের পছন্দসই ডায়াগনোস্টিক সেন্টারে টেস্ট না করালে সেই রোগী দেখে না। সাথে সাথে অবস্থা খারাপ বলে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করে দেয়। এরপর কোন কথা বলতে গেলে রোগীকে ধমক দেন। অথচ তাদের পছন্দ মাফিক ও একটু পয়সা খরচ করতে পারা রোগীকে অবজারভেশন রুম থেকে অপ্রয়োজনেও হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা করেন। সেই রোগীকে তাদের চেম্বারে যেতে কার্ডও দিয়ে দেন। জরুরী বিভাগে মূলত: ইএমও হিসেবে দায়িত্ব পালনকারীরা মূলত: রোগী ধরতেই যেনো ডিউটি করেন। ভাল ভাল রোগী (মানে পয়সাওয়ালা ও শিক্ষিত) ধরতে ভাল ব্যবহার করেন। আর গরীব রোগীর সাথে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করে তাড়িয়ে দিতে উদ্যত হন পান থেকে চুন খসলেই। হাসপাতালের সরকারি স্যালাইন ও ইনজেকশনও তারা তাদের পছন্দের রোগীকে দেন। গরীব ও মলিন জামা-কাপড়ের মানুষকে দিতে চান না। গরীব রোগীকে তারা জঞ্জাল মনে করেন। এমন বেশ কিছু অভিযোগ স্বাস্থ্য বিভাগেও জমা পড়েছে। জরুরী বিভাগে রোগী ধরার মজা দেখে একজন বিশেষ বিশেষজ্ঞ ডাক্তার ইএমও হিসেবে দায়িত্ব পালন করছে। ওই বিশেষজ্ঞ (ই,এন,টি) নিজের অভিজ্ঞতার বাইরের রোগীকে ঢাকায় রেফার্ড করতেই অভ্যস্থ।

জানাগেছে, ২০২০-২১ অর্থবছরে দেশের মানুষের মাথাপিছু স্বাস্থ্য ব্যয় ছিল ৩৭ ডলার। ২০২১-২২ অর্থবছরে তা বেড়ে হয়েছে ৫৪ ডলার। এক বছরে  দেশের মানুষের মাথাপিছু স্বাস্থ্য ব্যয় বেড়েছে প্রায় ৪৫ শতাংশ। তবে স্বাস্থ্য ব্যয় বাড়লেও সরকারি স্বাস্থ্য সেবার মান বাড়েনি। গত অর্থবছরে সরকারি হাসপাতালের সংখ্যা বেড়েছে মাত্র একটি। হাসপাতালে বেডের সংখ্যা বেড়েছে ৪৬৯টি। রোগী অনুপাতে চিকিৎসকের সংখ্যাও আশানুরূপ বাড়েনি।  সরকারি চিকিৎসাসেবার এই দুরবস্থার সুযোগ নিয়ে রমরমা ব্যবসা করছে  বেসরকারি স্বাস্থ্য খাত। গত এক বছরে বেসরকারি হাসপাতালের সংখ্যা বেড়েছে ৫০০টি। বেসরকারি হাসপাতালে বেড বেড়েছে ২ হাজার ৭৬১টি।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের বার্ষিক প্রতিবেদনে এ চিত্র উঠে এসেছে। স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের অধীনস্থ ৭টি অধিদপ্তর ও সংস্থার তথ্যের ভিত্তিতে প্রতিবেদনটি প্রস্তুত করা হয়েছে। সম্প্রতি এ প্রতিবেদনের কপি মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে পাঠানো হয়েছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২১-২২ অর্থ বছরের হিসাব অনুযায়ী ১৩০২ জন মানুষের বিপরীতে একজন রেজিস্ট্রার্ড ডাক্তার রয়েছেন দেশে। যেখানে আগের বছর প্রতি ১৩৯৭ জন মানুষের জন্য একজন করে ডাক্তার ছিলেন। ২০২০-২১ অর্থবছরে দেশে প্রতি ২৩৮১ জন মানুষের বিপরীতে একজন নার্স ছিলেন।

Islams Group
Islam's Group