News Narayanganj
Bongosoft Ltd.
ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২২, ১৪ আশ্বিন ১৪২৯

ডেঙ্গুরোগী খুঁজছে হাসপাতাল


দ্যা নিউজ নারায়ণগঞ্জ ডটকম | ইমতিয়াজ আহমেদ : প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ২২, ২০২২, ১০:১৮ পিএম ডেঙ্গুরোগী খুঁজছে হাসপাতাল

ডিজিটাল যুগ! কত কিছুই বদলে গেছে। বদলেছে রোগ ও রোগের ধরন। আগে রোগী খুঁজতো হাসপাতাল। এখন হাসপাতাল খুঁজছে রোগী। বিষয় ডেঙ্গু। স্বাস্থ্য বিভাগের চ্যালেঞ্জ নারায়ণগঞ্জ জেলাকে ডেঙ্গু মুক্ত রাখা। চ্যালেঞ্জ বাস্তবায়নে স্বাস্থ্য বিভাগ এগিয়েও গেছে বলে জানালেন, সিভিল সার্জন ডা. এএম মুশিউর রহমান। জেলার স্বাস্থ্য বিভাগ ডেঙ্গু রোগী খুঁজছে। নারায়ণগঞ্জে ডেঙ্গুর প্রকোপ আল্লাহর রহমতে কমেছে। চলতি সপ্তায় খানপুরে ২ জন ছিল। তারা সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে। কোথাও ডেঙ্গু রোগী পেলেই স্বাস্থ্য বিভাগ সেই এলাকায় গিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। কেউ স্বাস্থ্য বিভাগকে জানালেও ব্যবস্থা নেয়া হবে। আগে আক্রান্ত রোগীর চিকিৎসা দেয়া হবে। তারপর ওই এলাকায় ডেঙ্গু মশার প্রজনন ক্ষেত্র  ধ্বংস করে সতর্ক করা হবে এলাকাবাসীকে।

এদিকে রীতিমত রেড এলার্ট জারি করে রাখা হয়েছে বলে জানালেন নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের আরএমও ডা. শেখ ফরহাদ হোসেন। তিনি বলেন, আমরা ডেঙ্গু রোগী খুঁজছি। যেখানে সন্ধান পাব সেখানেই যাব। স্বাস্থ্য বিভাগ ডেঙ্গু প্রতিরোধে কাজ করবে। শুধু হাসপাতাল নয়। বিভিন্ন ক্লিনিক ও প্যাথলজীগুলোতে বলে রাখা হয়েছে কোথাও ডেঙ্গুরোগীর সন্ধান পেলে যেন জানানো হয়।

সবশেষ ২১ সালে ৪/৫ জন ডেঙ্গু রোগী পাওয়া গিয়েছিল। এবার ডেঙ্গু রোগীর দেখা মিলেনি।

নারায়ণগঞ্জ মহানগরীতে ডেঙ্গুর প্রভাব আছে কিনা-এ খবর জানতে গিয়ে খোঁজ নিতেই তৃপ্তির ঢেকুর তুললেন স্বাস্থ্য বিভাগ।

স্বাস্থ্য বিভাগ ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের কর্মকর্তারা বললেন, ২০১৯ সালে ডেঙ্গুর মহামারী গেছে। দৈনিক ভিক্টোরিয়া হাসপাতাল ও খানপুর হাসপাতালে ২ থেকে ৩ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হত। এই প্রকোপটা ২১ সাল পর্যন্ত কমে আসে। এবার ডেঙ্গু রোগী নেই বললেই চলে। সিটি কর্পোরেশনের মশক নিধন কর্মসূচীসহ নানা উদ্যোগে সম্মিলিত সাফল্য এসেছে স্বাস্থ্যখাতে। আজকে নির্দ্বিধায় বলা যায় নারায়ণগঞ্জ মহানগরী এলাকায় ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব নেই। তবে ঢাকার সীমান্তবর্তী এলাকায় ডেঙ্গু রোগীর খবর পাওয়া যায় মাঝে মধ্যে। কারণ ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশনেই ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব বেশি। গত মাসে নাসিক এর ৩ ও ৪ নং ওয়ার্ড এবং ২২ নং ওয়ার্ডে দু’জন ডেঙ্গু রোগীর কথা শোনা গিয়েছিল।

নাসিক সূত্রে জানাগেছে, ২০১৯ সালের শুরুতে নারায়ণগঞ্জ মহানগরীতে ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া রোগের প্রকোপ বেড়েছিল। ২০১৯ সালের ডেঙ্গুর চিত্র খুবই ভয়াবহ রূপ নিয়েছিল। ২০১৯ সালের ২৮ জুলাই ফতুল্লার বক্তাবলীর ছমিরনগর এলাকায় ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে শান্ত নামের এক যুবক মারা যান।

তবে ২০২১ সালে ঢাকার তুলনামূলক নারায়ণগঞ্জে ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত কিছুটা কম ছিল। নারায়ণগঞ্জ সিভিল সার্জন অফিস সূত্রের হিসেব অনুযায়ী জেলায় ২০ জন ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত হয়েছে। সরকারি হাসপাতালের হিসেবের বাইরে ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত হয়ে অনেকেই প্রাইভেট ক্লিনিক ও চিকিৎসকের পরামর্শে ঢাকার হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছে বলে রোগি স্বজনরা জানিয়েছেন। সে হিসেবে নারায়ণগঞ্জে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগির সংখ্যা আরো ছাড়িয়ে যাবে।

এ দিকে ডেঙ্গু প্রকোপ মোকাবেলা করতে নারায়ণগঞ্জ সদর ভিক্টোরিয়া জেনারেল হাপাতালে ৪ বেডের একটি ওয়ার্ড ও ৪ উপজেলার হাসপাতে ২টি করে বেড প্রস্তুত রাখা হয়েছিল।

নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা মো. আলমগীর হিরণ জানান, আমাদের সিটি করপোরেশন এরিয়াতে প্রায় ১৭০ জন কর্মী রয়েছেন। তারা প্রত্যেকটি ওয়ার্ডে নিয়মিত মশার ওষুধ স্প্রে করে থাকেন। কোথাও যেনো মশার বংশবিস্তার না হয় সেজন্য আমরা চেষ্টা করি প্রত্যেকটি ওয়ার্ড পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার।

নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) শহীদুল আলম জানান, আমরা মশার বিস্তার রোধে নিয়মিত মশার ওষুধ দিচ্ছি। পাশাপাশি সাধারণ মানুষকে এ বিষয়ে সচেতন করছি।

Islams Group
Islam's Group