News Narayanganj
Bongosoft Ltd.
ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২২, ১৪ আশ্বিন ১৪২৯

ফার্মেসীগুলোতে নকল ওষুধের ছড়াছড়ি, মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকির শঙ্কা


দ্যা নিউজ নারায়ণগঞ্জ ডটকম | স্টাফ রিপোর্টার : প্রকাশিত: আগস্ট ১, ২০২২, ০৮:৪১ পিএম ফার্মেসীগুলোতে নকল ওষুধের ছড়াছড়ি, মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকির শঙ্কা
ফাইল ছবি

জীবন বাঁচাতে কাজ করে নানা ধরনের ওষুধ। সেই ওষুধেই যদি তাকে ভেজাল তাহলে তো জীবন রক্ষায় থাকে মারাত্মক ঝুঁকি। এক ধরনের প্রতারক চক্র অল্প সময়ে প্রতারণার মাধ্যমে ধনী হতে বেছে নিয়েছেন এ প্রতারণার পথ। নানা ওষুধ কোম্পানির ওষুধ নকল করে বাজারজাত করে হাতিয়ে নিচ্ছেন কোটি কোটি টাকা। এরকম একাধিক ঘটনা সম্প্রতি ঘটেছে।

নারায়ণগঞ্জের বেসরকারি একটি ব্যাংকের সিনিয়র অফিসার হিসেবে চাকুরি করেন নজরুল ইসলাম। থাকেন সোনারগাঁয়ে। প্রতিদিন নগরীর টানবাজার আসেন অফিস করতে। দীর্ঘদিন গ্যাস্ট্রিকে ভোগা এ ব্যাংকার শরণাপন্ন হন চিকিৎসকের। ভাজাপোড়া খাবার এড়িয়ে এক মাস গ্যাসের ওষুধ সেবনের পরামর্শ দেন তিনি। তবে মাস পার হলেও গ্যাসের সমস্যার সমাধান না হওয়ায় ধানমন্ডির একটি হাসপাতালের চিকিৎসক নতুন ফার্মেসি থেকে অন্য গ্যাসের ওষুধ সেবনের পরামর্শ দেন। পরের ১৫ দিন যেতেই সুফল পান তিনি। পরে থেকে যাওয়া ওষুধ তার এক পরিচিত ফার্মাসিস্টকে দেখাতে তিনি জানান এটি নকল ওষুধ।

তার দাবি, কালিরবাজারের যে ফার্মেসি থেকে তিনি নিয়মিত ওষুধ কেনেন, তারা হয়তো নকল ওষুধ দিয়েছিল, অথবা ওষুধের মেয়াদ টেম্পারিং করা হয়েছিল। চিকিৎসকের পরামর্শে তিনি অন্য গ্যাসের ট্যাবলেট খাওয়ায় সুফল পান। যেভাবেই হোক এ ধরনের ওষুধ মারাত্মক ক্ষতি বয়ে নিয়ে আসতে পারে মানবদেহে।

নগরীর প্রাণকেন্দ্র ও জেলার ওষুদের আড়ত হিসেবে পরিচিত কালিরবাজারে যদি এই চিত্র হয় তাহলে উপজেলা ও গ্রামগুলোতে কি হাল তা নিয়ে যেন চিন্তা আরো বাড়িয়ে দেয় বহুগুন। নামিদামি প্রতিষ্ঠানের ওষুধগুলো এভাবে নকল করা হয় যে সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ ও প্রস্তুতকারক ছাড়া কারও চেনার উপায় থাকে না। কম দামে কিনে অসাধু কিছু ফার্মেসির মালিক বিক্রি করছেন এসব ওষুধ। অসাধু ফার্মেসির মালিক ও নকল ওষুধ তৈরির চক্রের খপ্পরে পড়ে স্বাস্থ্য-ব্যবস্থা মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়ছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

কালিরবাজারের একাধিক ওষুধের দোকানের মালিকদের সাথে কথ বলে জানা গেছে, মাঝে মাঝে এমন লোকজন আসেন ওষুধ নিয়ে। তারা কোম্পানি রেটের চেয়ে অনেক কম মূল্যে ওষুধ সরবরাহ করতে চান। যারা প্রকৃত ব্যবসায়ী তারা না রাখলেও অনেকে এ ধরনের ওষুধ রেখে বিক্রি করছেন অহরহ। এতে একদিকে তাদের অধিকতর মুনাফা হলেও মারাত্মক স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে পড়ছেন রোগীরা। এতে ঘটতে পারে মৃত্যুর মত ঘটনাও।

ওষুধ প্রশাসন অধিদফতরের তথ্যানুযায়ী, সক্ষমতা অনুযায়ী চাহিদার ৯৫ শতাংশ ওষুধের জোগান দিচ্ছে প্রস্তুতকারক দেশীয় প্রতিষ্ঠানগুলো। এছাড়া আমেরিকা, কানাডা, জাপানসহ বিশ্বের ১৫৬টি দেশে রফতানি হচ্ছে বাংলাদেশের ওষুধ। মানসম্পন্ন ওষুধ তৈরির জন্য আন্তর্জাতিক মহলে প্রশংসা কুড়ানোর পাশাপাশি ২০১৮ সালে ‘মেডিসিন প্রডাক্ট অব দ্য ইয়ার’ পদকে ভূষিত হয় ওষুধ প্রশাসন অধিদফতর। তবে, এত সক্ষমতা অর্জন সত্ত্বেও বাজারে কেন ছড়াচ্ছে নকল ওষুধ, তা নিয়ে উদ্বিগ্ন খোদ ঔষধ প্রশাসন অধিদফতরও।

প্রতিষ্ঠানটির নারায়ণগঞ্জের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বলছেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীগুলো সমন্বয় করে অভিযান চালাচ্ছে। অধিদফতরও নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছে। তবে, জনবল ও লজিস্টিক সাপোর্ট কম থাকায় প্রত্যন্ত অঞ্চলে নিয়মিত নজরদারি ও অভিযান চালানো সম্ভব হচ্ছে না।

যেভাবে গ্রামে গ্রামে যাচ্ছে নকল ওষুধ

গোয়েন্দা সূত্রে জানা যায়, নকল ওষুধ প্রস্তুতকারক চক্রটি বাজারে কোন ধরনের ওষুধের ব্যবহার বেশি তা আগে রেকি করে জানার চেষ্টা করে। পরে সেগুলো হুবহু তৈরি করে। বাজারজাতের জন্য প্যাকেটের সিকিউরিটি হলোগ্রামও নকল করে তারা।

চক্রটি পরে বিভিন্ন কোম্পানির বিক্রয় প্রতিনিধি ও নিজেদের কর্মীদের দিয়ে ফার্মেসির মালিকদের সঙ্গে কম দামে সরবরাহের মৌখিক চুক্তি করে। চুক্তি অনুযায়ী নকল ওষুধের চালান ছড়িয়ে পড়ছে গ্রামাঞ্চলের ফার্মেসিগুলোতে।

কী করছে ওষুধ প্রশাসন অধিদফতর

দেশে ওষুধের মান নিয়ে যে প্রতিষ্ঠানটির সবচেয়ে বেশি কাজ করার কথা সেটি হলো ওষুধ প্রশাসন অধিদফতর। সংস্থাটির কাজ ওষুধের মানদণ্ড ঠিক রাখা। পাশাপাশি নাগরিকদের হাতে যেন সঠিক ওষুধ পৌঁছায়, তা নিশ্চিত করা।

কিন্তু দেশে নকল ওষুধের রমরমা ব্যবসার বিরুদ্ধে ওষুধ প্রশাসন অধিদফতরের কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেই বলে দাবি ওষুধ প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানগুলোর ও ফার্মেসী মালিকদের।

নকলকে আসল ভেবে যারা নিয়মিত এসব ওষুধ সেবন করছেন তারা মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকির মধ্যে পড়ছেন। স্বল্প মেয়াদি ক্ষতিসহ দীর্ঘ মেয়াদি ক্ষতির মুখোমুখি হচ্ছেন। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা বলছেন, নকল ওষুধ সেবনের ফলে অনেকের দেহে আসল ওষুধ কাজ না করার শঙ্কাও দেখা দিয়েছে।

চিকিৎসক ডা. জয় চৌধুরী বলেন, নকল ওষুধ সেবনের ফলে হার্ট, কিডনি ও লিভার ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। গর্ভবতী মা ও তার সন্তানের মৃত্যুরও কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে এসব ভেজাল ওষুধ। এছাড়া নকল অ্যান্টিবায়োটিক খাওয়ার ফলে পরবর্তীতে আসল অ্যান্টিবায়োটিকের কার্যকারিতা মানব শরীরে আর থাকছে না। ফলে ভুক্তভোগীকে দীর্ঘ মেয়াদি স্বাস্থ্য সমস্যায় পড়তে হচ্ছে।

নকল ওষুধ চেনার উপায়

ওষুধের প্যাকেটের গায়ে যে সিল থাকে সেটি ভালো করে দেখুন। কোথাও কোনো গলদ আছে কি না, লেবেল একই আছে কি না— ভালোভাবে দেখা।
আগে যদি আপনি একই ওষুধ কিনে থাকেন তাহলে পরের বার কেনার সময় আগের প্যাকেটের সঙ্গে প্যাকেজিং, অক্ষরের ফন্ট, বানান, রঙ— এগুলো মিলিয়ে দেখা।
ওষুধ খাবার আগে খেয়াল করুন এর রঙ, আকার, গঠন ঠিক আছে কি না। কোথাও কোনো ভাঙা অংশ রয়েছে কি না। গুঁড়া ওষুধের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত পরিমাণে দেওয়া আছে কি না— এসব ভালো করে দেখা।
ওষুধ যদি ক্রিস্টালের মতো হয় তাহলে যথেষ্ট শক্ত কিংবা অতিরিক্ত নরম কি না— ভালোভাবে দেখা। ওষুধের ভেতরে কোথাও ফোলা বা দাগ আছে কি না, তাও দেখা।

Islams Group
Islam's Group