News Narayanganj
Bongosoft Ltd.
ঢাকা সোমবার, ৩০ জানুয়ারি, ২০২৩, ১৬ মাঘ ১৪২৯

শীত বাড়লেও রোগী কম ভিক্টোরিয়ায়


দ্যা নিউজ নারায়ণগঞ্জ ডটকম | স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট প্রকাশিত: জানুয়ারি ৯, ২০২৩, ১০:৩৮ পিএম শীত বাড়লেও রোগী কম ভিক্টোরিয়ায়

চার পাঁচদিন ধরে জ্বর ঠান্ডায় ভুগছে নবীর হোসেনের শিশুপুত্র। কাজ করেন স্থানীয় একটি কারখানায়। চাকরি ফেলে শিশু সন্তানকে সুস্থ করতে ছুটে এসেছেন হাসপাতালে। ডাক্তারি পরীক্ষার রিপোর্টে ‘নিউমোনিয়া’ শনাক্ত হয়েছে সন্তানের। কাজে না গিয়ে এখন সন্তানকেই সময় দিচ্ছেন হাসপাতালে বসে।

দুপুরে নারায়ণগঞ্জ ভিক্টোরিয়া জেনারেল হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে গিয়ে এমনই চিত্র দেখা মেলে। যদিও ওয়ার্ডের অধিকাংশ বেডই ছিল ফাঁকা। মাত্র দুজন ভর্তি থাকতে দেখা যায় ওয়ার্ডে। অথচ তীব্র শীত বৃদ্ধি পাবার সাথে সাথে হাসপাতালে পরিপূর্ণ থাকার কথা ছিল রোগীতে। বিপরীত চিত্র দেখে অবাক হয়েছেন খোদ ডাক্তার নার্সরা।

হাসপাতাল সূত্র জানায়, গত কয়েকদিনে টানা শৈত্যপ্রবাহ এবং তাপমাত্রা কমে আসায় ঠান্ডাজনিত রোগীর সংখ্যা বেড়েছে। এদের মধ্যে শিশুদের আক্রান্ত হবার হার বেশি। প্রাপ্তবয়স্করা ঠান্ডাজনিত কারণে আক্রান্ত হলেও তাদের অবস্থা ততটা গুরুতর নয়। অন্যদিকে ভর্তি হওয়া অধিকাংশ শিশুই অত্যাধিক ঠান্ডায় নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়েছে। শীতের প্রকোপ বাড়ার সাথে সাথে শিশুদের নিরাপদে রাখতে বেগ পোহাচ্ছেন বাবা মায়েরা।

নবীর হোসেন নিজ শিশুর অবস্থা জানিয়ে বলেন, আমার বাড়ি গোগনগরে। চার-পাঁচ দিন ধরে বাচ্চার ঠান্ডা, কাশি ও পাতলা পায়খানা। আজ এক্সরে ও রক্ত পরীক্ষা করে জানিয়েছে নিউমোনিয়া হয়েছে। আমাদের বাড়ি শীতলক্ষ্যা নদীর তীরে হওয়ায় অনেক বেশি বাতাস লাগে। সেই কারণেই বাচ্চা অসুস্থ হয়ে গেছে।

নারায়ণগঞ্জ ভিক্টোরিয়া জেনারেল হাসপাতাল সূত্র জানিয়েছে, ‘ঠান্ডা, কাশিসহ শীতজনিত অসুস্থতা নিয়ে ডিসেম্বরে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৫২ জন শিশু। বিপরীতে একই অসুস্থতায় হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ১০৯ জন প্রাপ্তবয়স্ক নারী পুরুষ। চলতি বছরের প্রথম ৮ দিনে রোগীর চাপ কিছুটা কম। মাত্র ৯ জন শিশু ভর্তি হয়েছে শীতজনিত রোগের জটিলতা নিয়ে। অন্যদিকে প্রাপ্তবয়স্ক ভর্তি আছেন ২০ জন।

ভিক্টোরিয়া জেনারেল হাসপাতালে শিশু ওয়ার্ডে বেড রয়েছে ৮টি। কেবিনসহ অন্যান্য মিলিয়ে মোট ১০টি বেড সচরাচর খালি পাওয়া যায়। তবে পরিস্থিতির অবনতি হলে অন্তত ১৮টি বেডে ভর্তি নেয়ার সক্ষমতা রয়েছে বলে জানায় ওয়ার্ডের দায়িত্বরত নার্সরা।

হাসপাতালের সিনিয়র স্টাফ নার্স বুলা বিশ্বাস বলেন, ‘ডিসেম্বরের শুরুর দিকে শিশু রোগীর চাপ থাকলেও ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহ থেকে জানুয়ারি পর্যন্ত শিশু রোগীর সংখ্যা ধীরে ধীরে কমে আসছে। তবে যাদের ভর্তি করা হচ্ছে, তাদের অনেকেই নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে পড়েছে।’ 

হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের এক চিকিৎসক বলেন, ‘শৈত্যপ্রবাহ চালু হওয়ার পর থেকে হাসপাতালে রোগী কমে গেছে। আমরা রোগী ছাড়াই বসে আছি কয়েকদিন। আজ সূর্য ওঠায় কিছু রোগী এসেছেন। রোগী কমে যাওয়ার কারণ বুঝতে পারছি না।’ 

একইভাবে আরেক নার্স বলেন, ‘নভেম্বর মাসে এবং ডিসেম্বরের প্রথম দিকে অনেক রোগী ছিলেন। কিন্তু ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহ থেকে রোগী কমতে শুরু করেছে। হয়তো অনেকেই ঢাকামুখী হয়েছে। আমাদের অধিকাংশ শিশু বেড খালি রয়েছে। যদি কেউ চিকিৎসা নিতে আসে তাহলে আমাদের ওয়ার্ড প্রস্তুত রয়েছে।’ 

নারায়ণগঞ্জ ভিক্টোরিয়া জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা শেখ ফরহাদ বলেন, ‘প্রতিবছরই শীতের মৌসুমে ঠান্ডাজনিত রোগীর সংখ্যা বাড়তি থাকে। আমরা যথাসম্ভব সেবা দিয়ে যাচ্ছি আগত রোগীদের। ভর্তি হওয়ার তুলনায় বহির্বিভাগে সেবাগ্রহীতার সংখ্যা বেশি। প্রাপ্তবয়স্কদের তুলনায় শিশুদের ইমিউনিটি কম হওয়ায় ঠান্ডাজনিত রোগে বেশি আক্রান্ত হচ্ছে তাঁরা। তাই তাদের দেহ উষ্ণ রাখার দিকে লক্ষ্য রাখতে হবে বাবা মায়ের।’

Islams Group
Islam's Group