News Narayanganj
Bongosoft Ltd.
ঢাকা মঙ্গলবার, ০৬ ডিসেম্বর, ২০২২, ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৯

বর্ণান্ধদের জন্য অকল্পনীয় আবিস্কার


দ্যা নিউজ নারায়ণগঞ্জ ডটকম | স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট প্রকাশিত: নভেম্বর ১৫, ২০২২, ১০:৫২ পিএম বর্ণান্ধদের জন্য অকল্পনীয় আবিস্কার

কালার ব্লাইন্ড বা বর্ণান্ধতা হলো এক প্রকার শারীরিক অক্ষমতা বা বৈকল্য। এটিকে এক প্রকার রোগও বলা হয়ে থাকে। কেউ যদি কোনো রঙ চিনতে না পারে তাহলে তাকে কালার ব্লাইন্ড বলা হয়ে থাকে। সাধারণত প্রতি ১০জন পুরুষে একজনের এই সমস্যা দেখা যায়। তারা পৃথিবীর রঙকে রঙিনভাবে দেখতে পারে না। বিশেষ করে লাল ও সবুজ রঙকে তারা শনাক্ত করতে পারেন না। অনেকের ক্ষেত্রে এই অক্ষমতার কারণে শুরুতেই স্বপ্ন ভঙ্গ হয়ে যায়।

তবে এই কালার ব্লাইন্ডদের খুশির খবর নিয়ে এসেছেন নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা এলাকার সাইফউদ্দিন নামে এক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। তিনি রাজধানীর নর্থসাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসি বিভাগের শিক্ষার্থী। তার দাবী, তিনি কালার ব্লাইন্ডদের জন্য একটি গ্লাস আবিস্কার করেছেন। যার নাম দিয়েছেন ‘ভাইবরেন্ট’। যে গ্ল্যাসের তৈরি চশমা দিয়ে কালার ব্লাইন্ডরা পৃথিবীর রঙকে রঙিনভাবে দেখতে পারবেন। রঙকে তারা

শনাক্ত করতে পারবেন।সাইফুদ্দিন আহমেদ বলেন, আমার ভাইবরেন্ট গ্ল্যাসের তৈরি চশমাটি পড়ে ক্লালার ব্লাইন্ড ব্যক্তিরা সহজেই কালারকে চিহ্নিত করতে পারবে। যা তারা দেখেন না। এই চশমাটি পড়ে কালার ব্লাইন্ড ব্যক্তিরা পৃথিবীর রঙকে রঙিনভাবে দেখতে পারবে। আমার চশমাটি পড়ে সহজেই ইশারা টেস্টে থাকা নাম্বার দেখতে পারবে। লাল সবুজকে তারা সহজেই চিহ্নিত করতে পারবে।

তিনি আরও বলেন, আমেরিকার একটি তালিকা অনুযায়ী প্রতি দশজনের একজন ক্লালার ব্ল্যাইন্ড। আমি নর্থসাউথ ইউনিভার্সিটিতে একটি জরিপ করেছি। সে জরিপে আমি দেখেছি প্রথম ২৬ জনের মধ্যে দুইজন কালার ব্লাইন্ড। ৪০ মিনিট জরিপের মধ্যে ৬ জন কালার ব্লাইন্ড। আমাদের বাংলাদেশে এ ব্যাপারে কোনো সতর্কতা নেই। অথচ রঙ দিয়েই আমাদের পড়ালেখা শুরু হয়। আমরা প্রথম রঙকে চিনি। সবচেয়ে বড় বিষয় হলো মানুষের স্বপ্নভঙ্গ হয়ে থাকে কালার ব্লাইন্ডনেস নিয়ে।

কালার ব্লাইন্ডে আক্রান্ত হওয়ার তার স্বপ্ন ভেঙ্গে যাওয়া প্রসঙ্গে সাইফুদ্দিন আহমেদ বলেন, আমার ছোটবেলা থেকে পাইলট হওয়ার স্বপ্ন ছিল। ২০১৯ সালে আমি যখন এইচএসসি পরীক্ষা দিয়ে আমার স্বপ্ন বাস্তবায়নের লক্ষ্যে গ্যালাক্সি ফ্লাইং একাডেমি পরীক্ষা দেই। কিন্তু যখন আমার ফাইনাল মেডিকেল টেস্ট হয় তখন আমি জানতে পারি আমি কালার ব্লাইন্ড। তখন আমার জীবনে কালো অধ্যায় নেমে আসে। একবছর আমি কোথাও অ্যাডমিসন নেইনি। নানা ডাক্তারের কাছে গিয়েছি চিকিৎসার জন্য। তখন আমি জানতে পারি কালার ব্লাইন্ডের পৃথিবীতে কোনো ট্রিটমেন্ট নেই। তখন আমি মানসিক ভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছিলাম।

তিনি আরও বলেন, ২০১৬ সালে আমেরিকার একটি কোম্পানি একটি গ্লাস তৈরি করে যা দ্বারা কালার ব্লাইন্ডরা ইশারা টেস্টে নাম্বার দেখতে পারছে। রঙকে তারা দেখতে পারছে। তারপর থেকেই আমি একবছর বাসায় থেকে কালার ব্লাইন্ড নিয়ে জানার চেষ্টা করি। কিভাবে হয় কোনো ট্রিটমেন্ট আছে কিনা জানার চেষ্টা করি। তখন জানতে পারি কোনো ট্রিটমেন্ট নেই। অস্থায়ী ট্রিটমেন্ট শুধু আমেরিকাতে আছে ইককমার গ্লাস। তারপর আমি সেটা অর্ডার করি কিন্ত আমি সেখানে প্রতারণার স্বীকার হই।

সাইফুদ্দিন বলেন, আমার ফার্মেসি ডিপার্টমেন্টে অ্যাডমিশন নেয়ার উদ্দেশ্য হলো কিছু একটা করা। আমি দেখেছি নতুন রোগ আসলে ফার্মাসিস্ট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। আর তখনই আমার লক্ষ্য হয়ে দাঁড়ায় কালার ব্লাইন্ড নিয়ে কিছু করবো। যাতে আমার মতো কারও স্বপ্ন ভঙ্গ না হয়। আমি যে গ্লাস তৈরি করেছি এটা তৈরি করতে তিনবছর সময় লেগেছে আমার। আমি গ্লাসটা নিয়ে জরিপ করেছি যারা কালার ব্লাইন্ড লোকরা সহজেই রঙকে চিহ্নিত করতে পারছে।

গ্লাসের কার্যক্রমতা সম্পর্কে বলতে গিয়ে সাইফুদ্দিন বলেন, গত ৯ নভেম্বর আমাদের ভার্সিটিতে ফার্মাফেস্ট অনুষ্ঠিত হয়েছে। যা আমাদের ভার্সিটির বড় একটি পোগ্রাম। এখানে দেশের ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান এবং বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসি অনুষদের শিক্ষার্থীরা অংশ নিয়ে থাকে। সেখানে আমি চ্যাম্পিয়ন হয়েছি। আমার ফ্যাকাল্টিরা এসে যাচাই করে দেখেছে আমার গ্ল্যাস কাজ করছে। তারা জরিপ করে দেখেছে কালার ব্লাইন্ডরা রঙকে শনাক্ত করতে পারছেন।

বর্তমানে তার লক্ষ্য উদ্দেশ্য সম্পর্কে বলেন, আমি চাচ্ছি স্বল্পমূল্যে এটি কালার ব্লাইন্ডদের কাছে পৌঁছে দেয়ার জন্য। যদি আমাকে সরকারি কিংবা বেসরকারি কোনো প্রতিষ্ঠান আমাকে সহযোগিতা করে থাকে আমি সর্বোচ্চ চেষ্টা করে দেখবো। যদি কেউ যাছাই করে দেখতেও চায় তাহলে আমি প্রমাণ করে দেখাবো।  আমি চাই না যেন আমার মতো কারও স্বপ্নভঙ্গ হয়। তারা পৃথিবীর রঙকে রঙিনভাবে দেখুক। আমি আমার এই আবিস্কারকে বাস্তবে রূপ দিতে চাই।

এ বিষয়ে সাইফুদ্দিনের সহপাঠি মাহিমা সামিন বলেন, সে অনেক বছর ধরে একাই গবেষণা এটা বের করেছে। তার বয়সের তুলনায় এটা একটা বড় অর্জন। যারা কালার ব্লাইন্ড আছে তারা যেন কোনো সমস্যার শিকার না হয় এটাই তার উদ্দেশ্য। তাদের উদ্দেশ্য সফল হোক। আমি চাই তার অর্জনটা মানুষ জানুক। আমরা সবাই তাকে নিয়ে গর্বিত। শুধু আমি একা না আমরা ইউনিভার্সিটির সবাই এই অর্জন নিয়ে গর্বিত। এটা একটা অবিশ্বাস্য ব্যাপার।

ইউনিভার্সিটির প্রফেসর এবং ডিন, স্কুল অব হেলথ অ্যান্ড লাইফ সাইন্স ড. হাসান মাহমুদ রেজা বলেন, সাইফুদ্দিন একটা লেন্স কালার করেছে এবং এই কালারের একটা বিশেষ টেকনিক আছে সেই টেকনিকটা সে অনেক ট্রায়াল করেছে। ট্রায়াল দেয়ার পরে সে একটা পারফেক্ট টেকনিক ব্যবহার করলে যারা কালার ব্লাইন্ড তারা সহজে দেখতে পারছে। সাধারণত যারা কালার ব্লাইন্ড তারা লাল এবং সবুজ শনাক্ত করতে পারে না। তার চশমাটি ব্যবহার করলে কালার ব্লাইন্ড যারা তাদের সমস্যা হয় না। কালার ব্লাইন্ডদের জন্য কোনো ওষুধ নেই। কিন্তু এই ধরনের লেন্স ব্যবহার করে এই ধরনের সমস্যার সমাধান করা যেতে পারে। এটা তার এক ধরনের আবিস্কার তবে সেটা কতটা মৌলিক আবিস্কার সেটা আরও গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে। তবে এটার মাধ্যমে যারা কালার ব্লাইন্ড আছে তারা অল্প খরচে সমস্যা দূর করতে পারবে। এটা একটা ভাল কাজ।

তিনি আরও বলেন, সাইফুদ্দিন আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। তার এই অর্জন আমাদের জন্য অবশ্যই ভাল দিক। আমরা সম্প্রতি একটি ফার্মাফেস্ট করেছি। সেখানে সে তার উদ্ভাবনী শক্তি প্রয়োগ করে সফল হয়েছে। আমি তার সফলতা কামনা করি।

Islams Group
Islam's Group