News Narayanganj
Bongosoft Ltd.
ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২২, ১৪ আশ্বিন ১৪২৯

এক সাংবাদিকের বাবার আর্তনাদ


দ্যা নিউজ নারায়ণগঞ্জ ডটকম | স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ৯, ২০২২, ১১:০২ পিএম এক সাংবাদিকের বাবার আর্তনাদ

সাংবাদিক শাহরিয়াজ মাহমুদ শুভ্র হত্যার ৫ বছর পূর্ণ হলেও বিচার না হওয়ায় বাবা কামাল সিদ্দিকীর বুকফাটা এক আর্তনাদ ফুটে উঠেছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে। ২০১৭ সালের ৮ সেপ্টেম্বর দিবাগত রাতে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডে একটি মোবাইল ও মাত্র ৭০০ টাকার জন্য শুভ্রকে হাত পা বেঁধে শ্বাসরোধে হত্যা করে পেশাদার ছিনতাইকারীরা। ঘটনার পর ৫ বছর পেরিয়ে গেলেও এখনও শেষ হয়নি এর বিচারকাজ।

৮ সেপ্টেম্বর কামাল সিদ্দিকী ফেসবুকে লিখেন, ‘পাঁচ পাঁচটি বছর কেটে গেল তুমি নেই। শূন্য, হাহাকার শোকের মাতম শুধুই ব্যর্থতার গ্লানি ছাড়া বিগত ৫ বছরে কিছুই পাইনি। ভিকটিম পরিবারগুলোর যন্ত্রণার লাভা ঘাম হয়ে ঝরে। তা দেখে অভ্যস্ত রাষ্ট্রযন্ত্র তৃপ্তির হাসি হাসে।

তিনি লিখেন, না এখন আমাদের কোন কষ্ট নেই। যন্ত্রণা নেই। নেই বিচার পাবার আর্জি। কত বিচারের প্রহসন বহায় কালের স্রোত। বাবা, এই পাঁচ বছরে কত খেলাইতো দেখলাম। বন্ধুরা, তোমার পরিবারের ছায়া হয়ে কতদিন ঘুরেছে। মিছিল মিটিং এ সরব থেকেছে। শুধুই একটু বাঁচার আকুতি নিয়ে। সন্দেহের তীর টাকে ডানে বামে ঘুরিয়ে দিয়ে শূন্যে ভাসানোর জন্য। কী আক্ষেপ ওদের আহ লাশ টা যদি গুম হয়ে যেত! যদি শনাক্তকারীদের মিস গাইড করা যেত! কী বিচিত্র তাই না বাবা! বিচিত্র সংসার থেমে থাকে না। থেমে থাকেনা জীবনের গান। না বাবা, আমাদের দুঃখের কথা শোনার কেউ নেই। এই কষ্ট শুধুই ভিকটিম পরিবারগুলোর। কী বিচিত্র মানুষ সব! কে কখন কোথাও কিভাবে লাশ হবে কেউ জানে না। কিন্তু অন্য কে নিয়ে মাথাব্যাথা। ওখানে এত রাতে কেন গেল? আরে ওরা তো ছিনতাইকারী হত্যা করতে চায়নি! নিছক ভুল বশত হত্যা করে ফেলেছে। ওদের সাথে বাড়াবাড়ি করা ঠিক হয়নি আপসে ওদের পাওনা দিলেই তো হতো! না হত্যাকারীরা আসলে নির্দোষ। বেচারারা একটু নেশা করার জন্যই কাজটি করে ফেলেছে। ভিকটিমের এমন ভুল করা ঠিক হয়নি। এমনি নানা ধরনের অযৌক্তিক প্রশ্নের প্রলাপ বাক্য অহরহ শুনতে হয়। আমরাও শুনতে শুনতে এখন অভ্যস্ত হয়ে গেছি। না বাবা আমরা মামলা করিনি কারণ তোমার শত্রু বা আমার শত্রুরা তোমাকে হত্যা করেনি। রাষ্ট্রের শত্রুরা হত্যা করেছে। রাষ্ট্র নাগরিকের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হয়েছে। তাই বিচারের দায়ভার একান্ত রাষ্ট্রের। কিন্তু রাষ্ট্রের উর্দীর নিচে ঘাপটি মারা কিছু দুর্নীতিবাজদের কারণে রাষ্ট্রের শত্রুরা বুক ফুলিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে। খুনিচক্র কোন কোন ক্ষেত্রে রাজনৈতিক আশ্রয় পাচ্ছে। দলীয় পরিচয়, স্বজন প্রীতি, রাঘব বোয়ালী ঘুষ সর্বোপরি উপরি ওয়ালার আদেশ নির্দেশ এর ফ্রেমে বন্দি সকল চালিকা শক্তি। এখানে সকলে অসহায় অসহায় বিবেক বোধ। আমাদের মর্ম যাতনা এক নিষ্ফল আর্তি। বেদনার ঘর। নির্বাক চাহনি অগোচরে লুকানো জল।

২০১৭ সালের ৮ সেপ্টেম্বর রাতে ফতুল্লার লালপুরের বাসা থেকে বের হয় শাহরিয়াজ শুভ্র। সে সরকারি তোলারাম কলেজের হিসাব বিজ্ঞান বিভাগের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র ও স্থানীয় একটি পত্রিকায় কর্মরত ছিল। তার এক বন্ধু ঈদের ছুটি শেষে পার্বত্য চট্টগ্রাম থেকে ঢাকায় ফিরছিলেন সেই রাতে। ভোরে নিরাপদে যাতে গন্তব্যে পৌছাতে পারে সেজন্য তাকে সঙ্গ দিতে বের হয়েছিলো শুভ্র। সাইনবোর্ড যাওয়ার উদ্দেশ্যে শিবু মার্কেট থেকে একটি সিএনজি অটোরিকশায় উঠে বসেছিলো সে। এরপর থেকেই নিখোঁজ হয়ে যায় শুভ্র। পরদিন ৯ সেপ্টেম্বর ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডের ভুঁইগড় কড়ইতলা এলাকার একটি ডোবা থেকে অজ্ঞাত এক যুবকের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। ১০ সেপ্টেম্বর অজ্ঞাত সেই যুবকের জামা কাপড় দেখে বাবা মা শনাক্ত করতে পারে, এটিই সেই শাহরিয়াজ শুভ্র।

যে কারণে হত্যা করা হয় শুভ্রকে : ঘটনার রাতে শুভ্র ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডের শিবু মার্কেট থেকে একটি সিএনজি চালিত অটোরিকশা করে সাইনবোর্ড যাচ্ছিলো। সিএনজিতে আগে থেকেই ওঁৎ পেতে ছিলো ছিনতাইকারীরা। চলন্ত অবস্থায় অস্ত্র ঠেকিয়ে তার মোবাইল ফোন ও নগদ টাকা ছিনিয়ে নেয়ার চেষ্টা করে। এতে বাধা দিলে ছিনতাইকারীরা তার হাত পা বেঁধে ও গলায় রশি পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে তাকে ভূঁইগড় এলাকায় রাস্তার পাশে খাদে ফেলে দেয়। মূলত পেশাদার ছিনতাইকারীরা তাদের সিএনজিতে যাত্রী তোলার জন্য ওঁৎ পেতে থাকতো। শুভ্রকেও টোপ হিসেবে ১৫ টাকার ভাড়া মাত্র ১০ টাকা হেঁকেছিল।

হত্যাকান্ডে জড়িত ৪ আসামী : শুভ্র হত্যাকান্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার ঘটনায় ১২ সেপ্টেম্বর চার ছিনতাইকারীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। রাজধানীর যাত্রাবাড়ী থানার শনির আখড়া এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতরা হচ্ছে ইয়ামিন ওরফে আল আমিন,  জালাল,  জুয়েল ও রবিন। এই সময় তাদের কাছ থেকে ছিনতাইয়ের কাজে ব্যবহৃত একটি সিএনজি অটো রিকশা, দুইটি ছুরি ও চারটি মোবাইল ফোন, শুভ্রর ব্যবহৃত মোবাইল ফোনের সিমকার্ড উদ্ধার করা হয়।

মামলায় আসামিরা হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি প্রদান করে। তবে এই মামলার চার্জশীটে নাম তোলার আগেই কারাগারে মারা যায় ইয়ামিন ওরফে আল আমিন। চার্জশীটে উঠে আসে জালাল, জুয়েল ও রবিনের নাম। মামলা বিচারাধীন অবস্থাতেই রবিন কারাগারে মারা যায়।

Islams Group
Islam's Group