News Narayanganj
Bongosoft Ltd.
ঢাকা সোমবার, ৩০ জানুয়ারি, ২০২৩, ১৬ মাঘ ১৪২৯

সন্ধ্যা নামতেই খেজুরের রস সংগ্রহে ব্যস্ত গাছিরা


দ্যা নিউজ নারায়ণগঞ্জ ডটকম | স্টাফ করেসপন্ডেন্ট প্রকাশিত: জানুয়ারি ২, ২০২৩, ১১:০৩ পিএম সন্ধ্যা নামতেই খেজুরের রস সংগ্রহে ব্যস্ত গাছিরা

শীতকালের সঙ্গে খেজুর রস ওতপ্রোতভাবে জড়িত। যেনো একে অন্যের পরম বন্ধু। কনকনে শীতের সকালে একগ্লাস ঠান্ডা রস শরীরে এনে দেয় সজীবতা। শীত মানেই রসভোরের আলো ফোটার আগ মুহূর্ত আর সন্ধ্যা নামতেই শীতকালীন রসের জন্যে গাছিরা ছুটছেন খেঁজুর গাছে বেঁধে রাখা মাটির হাঁড়িতে সংগ্রহ করে রাখা রস নামাতে। বিভিন্ন গাছ থেকে সংগ্রহ করা রস নামিয়ে একত্র করছেন দু’বেলায়। এরপর কলসি অথবা বালতিতে ঢালছেন ছাঁকনিতে ছেঁকে। পরে দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষায় থাকা ক্রেতাদের দিচ্ছেন পরিমাপ করে।বাংলাদেশের ঐতিহ্য বলতে গেলে শীতকালীন খেজুরের রসের কথা না বললেই নয়। অন্যান্য জায়গার মতো সিদ্ধিরগঞ্জের ২নং ঢাকেশ্বরী ইব্রাহিম কম্পোজিট টেক্সটাইল মিলস পুকুরপাড় এলাকায় দেখা গেছে এমনই দৃশ্য।

রোববার (১ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, রস সংগ্রহে গাছিরা ব্যস্ত সময় পার করছেন। এদিকে রস কিনতে এবং খেতে শত শত মানুষ ভিড় করছেন এই জায়গাটিতে।

দীর্ঘ ৩০ বছর যাবৎ এখানকার খেজুর গাছগুলোর লিজ নেন ৫০ বছর বয়সী মোশাররফ শেখ। তবে গত চার বছর ধরে অংশীদারি ব্যবসা করে আসছেন তিনি। তার সঙ্গে সহযোগী হিসেবে যোগ দেন ৪৩ বছর বয়সী মো. সোহেল ও রুবেল হোসেন।

তাদের সঙ্গে কথাবার্তা বলে জানা যায়, গত কয়েক বছরের তুলনায় এবারের লিজে বেশি টাকা ব্যয় হয়েছে। ২০২০ সালের শীত মৌসুমে সর্বমোট ৪৫ হাজার টাকা খরচ হয়ে ছিল। তখন ক্রেতাদের কাছে লিটার প্রতি খেজুরের রস তাঁরা ৮০-৯০ টাকায় বিক্রি করে ছিলেন। পরবর্তী বছর অর্থাৎ ২০২১ সালেও তুলনামূলক কম খরচে ব্যবসা পরিচালনা করে ছিলেন তাঁরা। ৫০ হাজার টাকাতেই সীমাবদ্ধ ছিল তাদের খরচ। তখন লিটার প্রতি রস বিক্রি করতেন ১১০-১২০ টাকায়। তবে এবার অর্থাৎ ২০২২ সালের মৌসুমে খরচ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে লিটার প্রতি ৮০ টাকা বাড়িয়েছেন তাঁরা।

মোশাররফ শেখ জানান, এ বছর আমাদের খেজুর গাছের লিজ নিতেই ৭৪ হাজার টাকা খরচ হয়ে গেছে। ৩৪টি খেজুর গাছ থেকে রস নামাচ্ছি এবার। শীতের তীব্রতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে রসের চাহিদা বাড়বে। এখন গড়ে ১৬-২০লিটার বিক্রি হয়। প্রতি লিটার খেজুরের রস ২০০ টাকা করে বিক্রি করছি।

রস কিনতে আসা স্থানীয় বাসিন্দা জমেলা খাতুনের সঙ্গে কথা হলে তিনি বলেন, আমি এখানকার বাসিন্দা তাই শীত আসলেই এখান থেকে রস কিনে নেই। সামনে আমাদের পারিবারিক অনুষ্ঠান আছে তাই আগেভাগেই কিনে রাখলাম। তবে দামটা বেশি হয়ে গেছে। দাম আরেকটু কম হলে ভালো হতো।

আদমজী শিমুলপাড়ার বাসিন্দা আহসানুল হাবীব সোহাগ বলেন, শীত মানেই রসের সিজন। তাই বন্ধুদের নিয়ে রস খেতে আসলাম। আমার বাড়ি এই এলাকায় হওয়ায় উপকার হয়েছে।

আজিজুল হাকিম নামের এক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী জানান, বাসায় নিতে রস কিনতে এখানে এসেছি। এই রস দিয়ে তৈরি পিঠার স্বাদই অন্যরকম। প্রতিবছর আমি এখানে রস কিনতে আসি। এখানকার রস তুলনামূলক অনেক ভালো হয়ে থাকে।

Islams Group
Islam's Group