News Narayanganj
Bongosoft Ltd.
ঢাকা সোমবার, ৩০ জানুয়ারি, ২০২৩, ১৬ মাঘ ১৪২৯

দূষণে-দখলে বিপর্যয়ের মুখে মারিখালী নদ


দ্যা নিউজ নারায়ণগঞ্জ ডটকম | স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট প্রকাশিত: জানুয়ারি ১, ২০২৩, ০৯:৩৩ পিএম দূষণে-দখলে বিপর্যয়ের মুখে মারিখালী নদ

প্রাচীন বাংলার রাজধানী নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে অসংখ্য নদ-নদী ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে। এইসব নদ-নদীর প্রাকৃতিক সৌন্দর্য অবলোকন করতে দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ ছুটে আসতো। কিন্তু বর্তমানে  অধিকাংশ নদ-নদী দূষণে, দখলে ও নাব্য সংকটে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। বিপর্যয়ের মুখে পড়া এইসব নদ-নদীর মধ্যে মারিখালী নদ একটি। শনিবার (৩১ ডিসেম্বর) সকালে সরেজমিনে গিয়ে এমনই চিত্র চোখে পড়ে।

জানা যায়, এক সময়ের খরস্রোতা এ নদটি সোনারগাঁয়ের মেঘনা নদীর কোলঘেঁষে বৈদ্যেরবাজার ইউনিয়ন থেকে শুরু করে সোনারগাঁ পৌরসভা হয়ে পিরোজপুর, মোগরাপাড়া ইউনিয়নের কাইকারটেকের ঐতিহাসিক হাটের পাশ দিয়ে ব্রহ্মপুত্র নদে মিলেছে। উপজেলার চারটি ইউনিয়ন ও পৌরসভার বিভিন্ন এলাকার বৃষ্টির পানি এ নদে গিয়ে পড়ে।

দূষণে দখলে দীর্ঘ ৮ কিলোমিটার দৈর্ঘ্য ও গড়ে ৪২ মিটার প্রস্থবিশিষ্ট মারিখালী নদের সেই আগের রূপ এখন নেই। নদটি এখন মৃতপ্রায়। এই নদ দিয়ে একসময় নৌকাসহ বিভিন্ন যান দিয়ে মানুষ একস্থান থেকে অন্য স্থানে চলাচল করতো। এদিকে নদটির ওপর দিয়ে যাতায়াতের সুব্যবস্থা করার জন্য বিভিন্ন স্থানে সওজ এবং এলজিইডি কর্তৃক ৬টি সেতু নির্মাণ করা হয়েছে। কিন্তু নদটিতে নির্মিত ৫টি সেতুতেই পর্যাপ্ত উচ্চতায় নির্মাণ না করায় বর্ষাকালে নদটিতে পানি বৃদ্ধি পেলেও মালবাহী ও যাত্রীবাহী লঞ্চ-স্টিমার যেতে পারে না।

এই নদের পানি দূষণের ফলে চরম বিপর্যয়ের মধ্যে আছে উপজেলার পিরোজপুর ইউনিয়নের জিয়ানগর, ভবনাথপুর, বিরেশেরগাঁও, রতনপুর, ভাটিবন্দর, মরিচাকান্দী, জৈনপুর, হাবিবপুর, পিরোজপুর, কাদিরনগর, দুধঘাটা, মঙ্গলেরগাঁও, শম্ভুপুরা ইউনিয়নের কাজিরগাঁও, দুর্গাপ্রসাদ, চৌধুরীগাঁও, ময়নাকান্দী, টেকপাড়া, মুর্গারচর ও মোগরাপাড়া ইউনিয়নের কাবিলগঞ্জ, আলাবদী, নালআলাবদী, ভিন্নিপাড়া, ঋষিপাড়া, কাবিলগঞ্জ, দমদমা, খুলিয়াপাড়াসহ কমপক্ষে ৩০টি গ্রামের অর্ধলক্ষাধিক বাসিন্দা। প্রতিনিয়ত পানিবাহিত নানা রোগে তারা আক্রান্ত হচ্ছেন।

মেহেদী হাসান নামের এক স্থানীয় বাসিন্দা জানান, ছোটবেলায় আমরা এই নদে গোসল করতাম। কিন্তু নদের দুপাশে গড়ে ওঠা বিভিন্ন কলকারখানার বর্জ্য নদে পড়ে নদকে মারাত্মকভাবে দূষণ করছে। এর ফলে এই নদের পানি এখন ব্যবহারের অযোগ্য হয়ে গেছে।

আবুল হোসেন নামের আরেক বাসিন্দা জানান, পূর্বে এই নদের পরিবেশ উপভোগ করতে অনেক মানুষ ছুটে আসতো। কিন্তু দখলে নদটি ক্রমশ সরু হয়ে গেছে। তাই এই নদের আগের জৌলুস এখন আর নেই।

সাইফুল আলম নামের এক বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী জানান, এই নদে আগে প্রচুর মাছ পাওয়া যেতো। এছাড়া আমরা এই নদের পানি পান করতে পারতাম। কিন্তু দূষণের কারণে এখন আর আগের মতো মাছ পাওয়া যায় না। আবার নদের পানি খাওয়ার অযোগ্য হয়ে গেছে। তাই কর্তৃপক্ষের কাছে আমাদের জোর দাবি থাকবে এক সময়কার স্রোতঃস্বিনী এই নদকে দূষণ ও দখলের হাত থেকে রক্ষা করতে যেনো প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করে।

পরিবেশ রক্ষা ও উন্নয়ন সোসাইটির চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হোসাইন জানান, শুধু মারিখালী নদই না, সোনারগাঁয়ের অসংখ্য নদ-নদী এভাবে দূষণে দখলে মানচিত্র থেকে হারিয়ে যাচ্ছে। আমরা এর প্রতিবাদ জানাই। এইসব নদ-নদীকে বাঁচাতে হলে এলাকাবাসীকে সর্বপ্রথম সচেতন থাকতে হবে। এছাড়া কর্তৃপক্ষেরও উচিত নদ-নদীকে দূষণ ও দখলমুক্ত রাখতে ব্যবস্থা নেওয়া।

নারায়ণগঞ্জ বিআইডব্লিউটিএ এর উপ-পরিচালক মোহাম্মদ মোবারক হোসেন জানান, যারা এই নদকে দখল করেছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এছাড়া নদটিতে নাব্য সংকট ফিরিয়ে আনতে খুব শিগগিরই ড্রেজারের মাধ্যমে নদটি খনন করার কাজ শুরু হবে।

সোনারগাঁ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রেজওয়ান-উল-ইসলাম জানান, এই নদকে দখলমুক্ত এবং দূষণমুক্ত করতে যা যা প্রয়োজন তা আমরা করবো। খুব শিগগিরই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Islams Group
Islam's Group