News Narayanganj
Bongosoft Ltd.
ঢাকা সোমবার, ৩০ জানুয়ারি, ২০২৩, ১৬ মাঘ ১৪২৯

শহরে কমেছে ডিম মুরগী সবজির দাম


দ্যা নিউজ নারায়ণগঞ্জ ডটকম | স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট প্রকাশিত: ডিসেম্বর ২, ২০২২, ০৯:৪৭ পিএম শহরে কমেছে ডিম মুরগী সবজির দাম

শীতে এলেই বাজারে আসতে শুরু করে নানা ধরনের শীতের সবজি। নারায়ণগঞ্জের বাজারেও আসতে শুরু করেছে শীতকালীন বিভিন্ন শাকসবজি। এতে করে কমতে শুরু করেছে শাকসবজির দাম। ফলন ভালো এবং সরবরাহ বেশি থাকায় দাম কমেছে এমনটাই বলছেন বিক্রেতারা। এদিকে কিছু শাকসবজির দাম এখনো অপরিবর্তিত রয়েছে। তবে এইসব শাকসবজির দামও আগামী কয়েকদিনের মধ্যে কমে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এর ফলে জিনিসপত্রের ঊর্ধ্বগতির কারণে নাভিশ্বাস হয়ে যাওয়া সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বস্তির সুবাতাস বইছে। তবে জিনিসপত্রের দাম কমে গেলেও ক্রেতাদের চাপ তুলনামূলক কম রয়েছে। এর ফলে বিক্রেতার মধ্যে হতাশার ছাপ দেখা গেছে। এদিকে শাকসবজির পাশাপাশি কমেছে মুরগী আর ডিমের দাম।

বৃহস্পতিবার (১ ডিসেম্বর) সকালে নারায়ণগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী দিগুবাবুর বাজারে সরেজমিনে গিয়ে এসব তথ্য পাওয়া যায়।

ঘুরে দেখা যায়, প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগী ১৬০-১৬৫ টাকা, কক মুরগী ২৫৫-২৬০ টাকা, লেয়ার লাল মুরগী ২৬০-২৬৫ টাকা, প্যারেন্ট খাসি মুরগী ২৪০-২৪৫ টাকা, প্যারেন্ট খাসি মোরগ ২৭০-২৭৫ টাকা, গরুর মাংস ৬৫০-৭০০ টাকা, খাসির মাংস ৯০০-৯৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এক সপ্তাহ পূর্বে মুরগীর দাম কেজি প্রতি ৫-১০ টাকা বেশি ছিল।

মুরগী বিক্রেতারা জানান, ৭-৮ দিন আগেও মুরগীর দাম বেশি ছিল। তবে এখন মুরগীর দাম তুলনামূলক কম রয়েছে। সপ্তাহের ব্যবধানে মুরগীর দাম আরো কমতে পারে।

শাকসবজির বাজার ঘুরে দেখা যায় ১ সপ্তাহের ব্যবধানে বেশিরভাগ শাকসবজির দাম কমেছে। প্রতি কেজি কাঁচামরিচ ২০-২৫ টাকা, আলু ১৭-২০ টাকা, পেঁয়াজ ৫৫ টাকা, শিম ৬০ টাকা, ঢ়েড়স ৫০ টাকা, দেশি কাকরোল ৬০ টাকা, কাঁচা টমেটো ৩০ টাকা কেজি, পটল ৩৫-৪২ টাকা, শসা ৫০-৬০ টাকা, বেগুন ৪০ টাকা, লতি ৩৫-৪০ টাকা, পেঁয়াজ পাতা ৩০ টাকা, মুলা ১০ টাকা, প্রতি পিস মিষ্টি কুমড়া ২০-২৫ টাকা, বাঁধাকপি ২০-২৫ টাকা, লাউ ২০-৫০ টাকা এবং ফুলকপি ৩০-৩৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এদিকে প্রতি আঁটি লালশাক ২০ টাকা, ডাটা শাক ২০ টাকা, মুলা শাক ৩০ টাকা, পালং শাক ৩০ টাকা, পুইশাক ৩০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। সপ্তাহখানেক আগেও প্রতিকেজি আলু ২৪-২৫ টাকা, শিম ৮০-১২০ টাকা, বেগুন ১২০-১৩০ টাকা ছিল, লতি ৬০-৭০ টাকা, পেঁয়াজ পাতা ৪০-৫০ টাকা, মুলা ২০ টাকায় এবং প্রতি পিস মিষ্টি কুমড়া ৩০-৪০ টাকা, ফুলকপি ৫০-৬০ টাকায় বিক্রি হতো। এদিকে কিছু শাকসবজির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। এদের মধ্যে প্রতি কেজি টমেটো ১২০ টাকা, গাঁজর ৪০ টাকা, খিরাই ৭০-৮০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

আদার দাম বেড়ে ১১০-১৩০ টাকা এবং রসুন ৭০-৮০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

শুটকির বাজারে গিয়ে দেখা যায়, প্রত্যেকটি শুঁটকির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। প্রতি কেজি লইটা শুঁটকি ৬০০ টাকা, শুকনো পুঁটি শুঁটকি ৮০০ টাকা, কাঁচকি মাছের শুঁটকি ৮০০ টাকা, চিংড়ি শুঁটকি ৫০০ টাকা, চেলা মাছ শুঁটকি ৪০০ টাকা, চাঁন্দা মাছ শুঁটকি ৬০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

বাজার ঘুরে দেখা যায়, চাল প্রকারভেদে প্রতি কেজি ৬০-৭০ টাকা, দেশি মসুরি ডাল ১২০ টাকা, মসুরি ডাল ১০০ টাকা, প্রতি লিটার সয়াবিন তেল ১৭০ টাকা, শুকনো মরিচ ৪০০ টাকা, চিনি ১১০-১২০ টাকা, লবণ ৩৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। কিছুদিন পূর্বে  শুকনো মরিচ ২০০ টাকা কেজি এবং মসুরি ডাল ৮০-৯০ টাকা দরে বিক্রি হতো।

এদিকে বাজারে কমেছে ডিমের দাম। প্রতি হালি ডিম এখন ৩৮ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। ভবিষ্যতে দাম আরো কমতে পারে বলে জানিয়েছেন বিক্রেতারা।

মাছের বাজার ঘুরে দেখা গেছে, আকারভেদে রুই মাছ ২০০-৩০০ টাকা, মৃগেল ২০০-২৫০ টাকা, পাঙ্গাশ মাছ ১৫০-১৮০ টাকা, তেলাপিয়া ১৪০-১৬০ টাকা, কাতল মাছ ৪০০-৪৫০ টাকা, শিং মাছ ৩৫০-৪৫০ টাকা, সিলভার কার্প ১৬০-২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

ডিম বিক্রেতা ফারুক আহমেদ জানান, ডিমের আগের তুলনায় কমলেও আমাদের বেচাকেনা বাড়েনি। তার পরিবর্তে ডিম বিক্রি আরো কমেছে। তিনি হতাশার সুরে বলেন, পূর্বে দৈনিক ৬০০০-৭০০০ টাকার ডিম বিক্রি করতে পারলেও এখন দৈনিক ৩০০০-৪০০০ টাকার ডিমও বিক্রি করা যায় না।

সবজি বিক্রেতা আসলাম মিয়া জানান, বাজারে প্রচুর শাকসবজির সরবরাহ হওয়ায় বেশিরভাগ শাকসবজির দাম কমে গেছে। এবার আবহাওয়া ভালো থাকায় এবং প্রচুর ফলন হওয়ায় শীতের তীব্রতা বাড়ার আগেই শাকসবজির দাম কমেছে।

চাল-ডাল-লবণ বিক্রেতা রহিম উদ্দীন জানান, বিভিন্ন শাকসবজির দাম কমলেও চাল, লবণের দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। ডালের দাম কমার পরিবর্তে কেজি প্রতি ১৫-২০ টাকা বেড়েছে। বাড়ার কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, এর বিস্তারিত কারণ আমরা বলতে পারবো না। আমরা ডাল নিতাইগঞ্জ থেকে কিনে থাকি। দাম বৃদ্ধির কারণ তারা ভালো বলতে পারবে।

তিনি আরো জানান, লবণের দাম অপরিবর্তিত থাকলেও আমাদের লাভ কমেছে। পূর্বে কেজি প্রতি ৫-৭ টাকা লাভ করতাম। আর এখন কেজি প্রতি মাত্র ২-৩ টাকা লাভ করি।

শাকসবজি কিনতে আসা হারুনুর রশীদ জানান, শাকসবজিতে বাজার ভরপুর এখন। এর ফলে আমাদের প্রত্যাশিত দামেই শাকসবজি কিনতে পারছি। এছাড়া শীতকালে নতুন নতুন শাকসবজির দেখা মেলে তাই এগুলো থেকে যেমন পুষ্টির চাহিদা পূরণ হয় আবার খেয়েও তৃপ্তি পাওয়া যায়। তবে কিছুদিন আগেও এসব শাকসবজির দাম বেশি ছিল। গত ২-৩ দিন ধরে দাম কম দেখছি।

দিগুবাবুর বাজার মালিক সমিতির সভাপতি মো. রুহুল আমীন জানান, শীতের বিভিন্ন শাকসবজি বাজারে আসতে শুরু করায় দাম কমতে শুরু করেছে। তাছাড়া বাজারে শাকসবজির সরবরাহও বেশি। আমাদের এই বাজারে বিক্রেতারা সবসময় নির্ধারিত দামে সকল শাকসবজি বিক্রি করে থাকে। তবে কয়েকদিন ধরে বাজারে ক্রেতা কম রয়েছে।

Islams Group
Islam's Group