News Narayanganj
Bongosoft Ltd.
ঢাকা মঙ্গলবার, ০৬ ডিসেম্বর, ২০২২, ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৯

নিতাইগঞ্জে চিনি উধাও


দ্যা নিউজ নারায়ণগঞ্জ ডটকম | স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট প্রকাশিত: অক্টোবর ৩০, ২০২২, ১১:১৭ পিএম নিতাইগঞ্জে চিনি উধাও

নারায়ণগঞ্জে পাইকারী ব্যবসাকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত নিতাইগঞ্জ থেকে যেন উধাও হয়ে গেছে চিনি। কোন দোকানেই মিলছে না চিনি। আগে যেখানে একেকটি পাইকারী দোকানে ১০ টনের মতো চিনি বিক্রি করতো বর্তমানে বেশিরভাগ দোকানেই নেই চিনি। শহরের বাজারগুলোর খুচরা দোকানগুলোতে কখনো চিনি পাওয়া যাচ্ছে, কখনো পাওয়া যাচ্ছে না। বিক্রেতারা বলছেন, পাইকারী দোকান থেকে মাঝেমধ্যে তাঁরা চিনি পান। পরিমাণে অল্প। সেই চিনি দ্রুতই বিক্রি হয়ে যায়। ফলে বেশির ভাগ সময় দোকানে চিনি থাকে না। অপরদিকে পাইকারী বিক্রেতারা বলছেন মিল থেকে চাহিদা অনুযায়ী চিনি সরবরাহ না করায় নিতাইগঞ্জে বেশিরভাগ পাইকারী দোকানে চিনি নেই।

রোববার (৩০ অক্টোবর) নারায়ণগঞ্জের পাইকারী বাজার নিতাইগঞ্জ, দ্বিগুবাবুর বাজার, কালিরবাজারসহ বিভিন্ন খুচরা বাজারের বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে। শুধু সংকটই নয়, বাজারে চিনি বিক্রি হচ্ছে ইচ্ছামতো দামে। কোনো দোকানে খোলা চিনি ১০৫ টাকা, কোনো দোকানে ১১০ টাকা, আবার কোনো দোকানে ১২০ টাকা দরেও বিক্রি করা হচ্ছে। যদিও খোলাবাজারে সরকার নির্ধারিত দর ৯০ টাকা কেজি। কিন্তু বেশিরভাগ দোকানেই চিনি মিলছে না। ব্যবসায়ীরা বলছেন, চিনি কিনতে এসে ক্রেতারা একবার পাচ্ছেন, তো আরেকবার পাচ্ছেন না।

শহরের দ্বিগুবাবুর বাজারের আসলাম ট্রেডার্সের মালিক রফিকুল ইসলাম জানান, চাহিদা অনুযায়ী চিনি পাওয়া যাচ্ছে না। ভোক্তাদের কথা চিন্তা করে কালো বাজার থেকে অনেকেই অতিরিক্ত মূল্য দিয়ে চিনি ক্রয় করছেন। কিন্তু এখানেও ঘটছে বিপত্তি। এক সপ্তাহ আগে যারা চিনি ক্রয় করেছেন ১০৫ টাকা দরে বর্তমানে সেই চিনি আবার নেমে এসেছে ১০০ টাকা দরে। এখন যারা চড়া দামে ক্রয় করেছিলেন তাদেরকেও লোকসান গুনতে হচ্ছে। যে কারণে খুচরো দোকানগুলোতেও চিনি পাওয়া যাচ্ছে না।

নিতাইগঞ্জের সিটি গ্রুপের ডিলার মনির এন্টারপ্রাইজের মালিক মনির হোসেন জানান, গত ৪ দিন ধরে তারা কোন চিনি বিক্রি করতে পারছেন না। গেল সপ্তাহে তারা ডিও অনুযায়ী যে পরিমাণ চিনি পেয়ে ছিলেন সেটা আনার সঙ্গে সঙ্গেই বিক্রি হয়ে গেছে। এখন চিনি না থাকায় তারা চিনি বিক্রি করতে পারছেন না।

নিতাইগঞ্জের মেসার্স হারুন ট্রেডার্সের মালিক মো. হারুন অর রশিদ বাবুল বলেন, নিতাইগঞ্জে বর্তমানে চিনির কৃত্রিম সঙ্কট বিরাজ করছে। মিল থেকে চাহিদা অনুযায়ী চিনি পাওয়া যাচ্ছে না। দেখা যায় ডিও কাটার পরে মিলগেটে ট্রাক পাঠালে সেই ট্রাক কয়েকদিন পরে চিনি ছাড়াই ফেরত দেয়া হচ্ছে। চিনির জন্য অপেক্ষমান সেই ট্রাকের ভাড়া স্থানভেদে প্রতিদিন ওয়েটিং চার্জ হিসেবে ২-৩ হাজার টাকা ভাড়া দিতে হচ্ছে। এতে করে ব্যবসায়ীরা আর্থিক লোকসান গুনছেন।

অপরদিকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের জরিমানার ভয়ে অনেকে চিনি বিক্রি করাও ছেড়ে দিয়েছেন। মিল কর্তৃপক্ষ বলছেন গ্যাস সঙ্কটের কারণে উৎপাদন কম হচ্ছে। এজন্য তারা চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ করতে পারছেন না।

গোপীনাথ ভান্ডারের মালিক নারায়ণ চন্দ্র সাহা বলেন, তারা সিটি গ্রুপ ও মেঘনার ফ্রেশ কোম্পানীর থেকে চিনি এনে বিক্রি করে থাকেন। গত ১৬ অক্টোবর তিনি চিনির ডিও কেটে ছিলেন। কিন্তু গত ২ সপ্তাহেও চিনি পাননি। গত সপ্তাহে একবার মিলগেটে ট্রাক পাঠিয়ে ছিলেন। কিন্তু মিল কর্তৃপক্ষ চিনি সরবরাহ না করায় ট্রাক ফেরত এসেছে। এভাবে প্রায়ই তাদেরকে অতিরিক্ত ট্রাক ভাড়ায় লোকসান গুনতে হচ্ছে। এক মাস আগেও নিতাইগঞ্জে প্রতিদিন ১০ ট্রাকের মতো চিনি আসতো। প্রতিটি ট্রাকে ১৫ টনের মতো চিনি থাকতো। কিন্তু মিল কর্র্তৃপক্ষ চিনি সরবরাহ না করায় বর্তমানে নিতাইগঞ্জে বেশিরভাগ দোকানেই চিনি নেই।

মেসার্স জগৎবন্ধু ভান্ডারের মালিক তারক সাহা জানান, এক মাস আগেও ডিও কাটার পরে সকালে ট্রাক পাঠালে বিকেলে মিলগেট থেকে চিনি পাওয়া যেত। এক মাস আগেও নিতাইগঞ্জে প্রতিদিন ১০ গাড়ি চিনি বিক্রি হতো। কিন্তু এখন ডিও কাটার ৮-১০ দিন পরপর এক ট্রাক করে চিনি পাওয়া যাচ্ছে। মিল কর্তৃপক্ষ বলছে গ্যাস বিদ্যুৎ সঙ্কটের কারণে চিনির উৎপাদন কম। যে কারণে তারা সঠিক সময়ে সরবরাহ করতে পারছে না।

Islams Group
Islam's Group