News Narayanganj
Bongosoft Ltd.
ঢাকা মঙ্গলবার, ০৬ ডিসেম্বর, ২০২২, ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৯

শীতলক্ষ্যায় পাওয়া বুয়েট ছাত্র হত্যাকান্ডের শিকার


দ্যা নিউজ নারায়ণগঞ্জ ডটকম | স্টাফ করেসপন্ডেন্ট প্রকাশিত: নভেম্বর ৮, ২০২২, ০৪:০৯ পিএম শীতলক্ষ্যায় পাওয়া বুয়েট ছাত্র হত্যাকান্ডের শিকার

নারায়ণগঞ্জের শীতলক্ষ্যায় উদ্ধারকৃত বুয়েটের ছাত্র ফারদিন নূর পরশের মৃত্যু হয়েছে আঘাতজনিত কারণে। তার শরীরে অসংখ্য আঘাতের চিহ্ন থাকায় এটা হত্যাকান্ড ধারণা চিকিৎসকদের। এদিকে নিহতের বাবারও দাবী ফারদিনকে হত্যা করা হয়েছে। ৮ নভেম্বর মঙ্গলবার দুপুরে ১০০ শয্যা বিশিষ্ট নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে ফারদিনের ময়না তদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

নিখোঁজের তিন দিন পর ৭ নভেম্বর সোমবার রাতে সিদ্ধিরগঞ্জ থানাধীন বনানী ঘাট সংলগ্ন লক্ষ্মী নারায়ণ কটন মিলের পেছনে শীতলক্ষ্যা নদীতে ভাসমান অবস্থায় তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

ময়নাতদন্তের পর চিকিৎসক শেখ ফরহাদ সাংবাদিকদের বলেন, ‘ফারদিনের পুরো মাথার বিভিন্ন অংশে আঘাত পাওয়া গেছে। বুকের ভেতরে আঘাতের চিহ্ন আছে। প্রাথমিকভাবে আমরা বুঝতে পেরেছি, এটি অবশ্যই হত্যাকান্ড। ময়নাতদন্ত শেষে দ্রুত প্রতিবেদন দেওয়া হবে।’

ফারদিনের বাবা কাজী নূর উদ্দিন বিজনেস পত্রিকা ‘দ্য রিভারাইন’-এর সম্পাদক ও প্রকাশক। ফারদিনের মা ফারহানা ইয়াসমিন গৃহিণী। তাঁদের গ্রামের বাড়ি নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা উপজেলায়। তিন ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় ছিলেন ফারদিন। তাঁর মেজ ভাই আবদুল্লাহ নূর একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ছেন। ছোট ভাই তামিম নূর এবার এসএসসি পরীক্ষা দিয়েছে।

পড়াশোনায় মেধাবী ফারদিন এসএসসি ও এইচএসসিতে সব বিষয়ে জিপিএ-৫ পেয়েছিলেন। বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষায় বুয়েট, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে সুযোগ পেয়েছিলেন। গবেষণায় আগ্রহ ছিল তাঁর। ফারদিন নিজের ইচ্ছায় বুয়েটে ভর্তি হয়েছিলেন বলে জানান তাঁর বাবা নূর উদ্দিন। তিনি বলেন, ‘আমরা ওরে স্বাধীনভাবে পড়াশোনা করতে দিয়েছি। যেহেতু আমি সাংবাদিকতায় যুক্ত ছিলাম, তাই খুব একটা সচ্ছল ছিলাম না। ফারদিন নিজে টিউশনি করত। নিজের পড়াশোনা, পড়ানো, বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রে আসা-যাওয়া ও সামাজিক কর্মকান্ডে যুক্ত ছিল।’

গত শুক্রবার দুপুরে ফারদিন কোনাপাড়ার বাসা থেকে বুয়েট আবাসিক হলের উদ্দেশে বের হন। পরের দিন শনিবার তাঁর পরীক্ষা ছিল। কিন্তু তিনি পরীক্ষায় অংশ নেননি। তাঁর মুঠোফোনও বন্ধ পাওয়া যায়। অনেক খোঁজাখুঁজি করেও তাঁর সন্ধান পাওয়া যায়নি। এ ঘটনায় ফারদিনের বাবা কাজী নূর উদ্দিন বাদী হয়ে রামপুরা থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।

ফারদিনের চাচাতো ভাই সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘ফারদিনের সঙ্গে থাকা মুঠোফোনসহ সবকিছু ঠিকঠাক পাওয়া গেছে। অজ্ঞান পার্টি বা মলম পার্টি এ ঘটনা ঘটালে তাঁর সঙ্গে থাকা সবকিছু খোয়া যেত। আমাদের ধারণা, এটি হত্যাকান্ড। পুলিশকে তদন্তের জন্য ফারদিনের ব্যবহৃত ল্যাপটপ দিয়েছি আমরা। ওখান থেকে যদি তারা কোনো সূত্র খুঁজে পায়।’

নারায়ণগঞ্জ সদর নৌ পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) মনিরুল ইসলাম বলেন, সোমবার বিকেলে অজ্ঞাত হিসেবে ফারদিনের লাশ উদ্ধার করা হয়। তখন ফারদিনের পকেটে একটি মুঠোফোন পাওয়া যায়। ওই মুঠোফোন থেকে সিম কার্ড বের করে অন্য একটি মুঠোফোনে লাগানো হলে এক মিনিটের মধ্যে তাঁর মা ফারহানা ইসলাম ফোন দেন। তখন তাঁর কাছ থেকে ফারদিনের পরিচয় জানা যায়। পরে ফারদিনের মা-বাবা এসে লাশ শনাক্ত করেন।

Islams Group
Islam's Group